শীতের সকালে রঙ্গন ফুলে মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে প্রজাপ্রতি দল। ওড়া কী ডিএল রায়ের প্রখ্যাত গানের বাণী হয়ে উঠবে “তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পরে ফুলের মধু খেয়ে”। কুষ্টিয়ার খোকসার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সোমবার ছবিটি তোলা।





শীতের সকালে রঙ্গন ফুলে মধু আহরণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে প্রজাপ্রতি দল। ওড়া কী ডিএল রায়ের প্রখ্যাত গানের বাণী হয়ে উঠবে “তারা ফুলের উপর ঘুমিয়ে পরে ফুলের মধু খেয়ে”। কুষ্টিয়ার খোকসার মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সোমবার ছবিটি তোলা।





দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ডের সাজা দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার অপর আসামী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কেও মৃত্যুদন্ড দিয়েছে একই ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের জন্য আজ ১৭ নভেম্বর দিন ঠিক করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনও আসামি। তাদের মধ্যে মামুন আসামি থেকে রাজসাক্ষী বনে যান এবং দায় স্বীকার করে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। ওইদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এ মামলায় আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল সেখানে সম্মতি দেন।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। আর প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেগুলো হলো গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়া; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দেওয়া; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার নির্দেশ দেওয়া।
এই পাঁচটি অভিযোগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দেওয়া, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট পাঁচটি অভিযোগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিচার শুরু আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।
মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন। এ মামলায় গ্রফতার একমাত্র আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন।
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে নিরীহ, নিরস্ত্র দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং ৩০ হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছিল।
শুরুতে এ মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। গত ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও এ মামলায় আসামি করা হয়। সবশেষ গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম আসে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ মোট ৫৪ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় গত ৮ অক্টোবর। এরপর গত ১২ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় গত ২৩ অক্টোবর। সবশেষ গত ১৩ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন।
পলাতক থাকায় এ মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার।
তিনি জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনাল আইনে পরিষ্কার বলা আছে, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। তবে আপিলের সুযোগ নিতে হলে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হয়। অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাতে গ্রেফতার হলেও আসামি আপিলের সুযোগ পান।
এ বছরের শুরুর দিকে শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যের অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাকে বলতে শোনা যায় ‘২২৬ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি’। তার এ বক্তব্য বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা উল্লেখ করে আদালত অবমাননার মামলা করেছিল প্রসিকিউশন।
আদালত অবমাননার ওই মামলায় গত ২ জুলাই শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনেকাটাই পিচ্ছিল পথে। তবে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন প্রাথমিক ভাবে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীকসহ রঙিন পোষ্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে দেয়াল ও রাস্তা ঘাট। তফশিল ঘোষনার আগেই নির্বাচনী আচরণ বিধির স্পষ্ট লংঘনের প্রবণতার এ চিত্র কুষ্টিয়া ৪ আসনের। রবিবার সন্ধ্যায় খোকসা উপজেলা সদর থেকে তোলা ছবি।



কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে ট্রাকটিতে আগুন দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেওয়ার পর একজনকে “জয় বাংলা”বলতে শোনা যায়।
৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে আড়ুয়াপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনের চাকায় দুই যুবক আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের একজন মাথায় হেলমেট পরিহিত ছিলেন। আগুন দেওয়ার পর একজনকে “জয় বাংলা” বলতে শোনা যায়।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিপণন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বহনকারী ট্রাকের (খুলনা মেট্রো) চাকায় দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। ওই সময় গাড়ির ভেতর চালক ও সহযোগী ঘুমাচ্ছিল। তারা টের পেয়ে তাৎক্ষণিক আগুন নিভিয়ে ফেলে। এতে কোন হতাহতের খবর পাইনি। পরে ভোররাতে চালক ট্রাক নিয়ে চলে যায়। ওসি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্তের কাজ চলছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে জমির লিজ প্রদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধে জের ধরে সংঘর্ষে মাহবুল হোসেন (৪০) নামে কম্বোডিয়া প্রবাসী যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা হামলাকারীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। কম্বোডিয়া প্রবাসী নিহত মাহবুল হোসেন কালা গ্রামের সাবদার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ছুটিতে বাড়িতে এসেছেন।
শনিবার বেলা ১০টার দিকে সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়নের কালা-লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাঠে তার উপর হামলা করা হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আলম মিয়া বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় মাতব্বরসহ উভয়পক্ষকে নিয়ে বসা হয়। আজ এ বিষয়ে মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, কালা গ্রামের সিরাজ মোল্লার কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করতেন বাটুল বিশ্বাস। সম্প্রতি সিরাজ মোল্লা তার জমি ফেরত নিতে বাটুল বিশ্বাসকে লিজের টাকা ফেরত দেয়। কিন্তু ওই জমিতে ফসলের আবাদ থাকায় ফসল না তোলা পর্যন্ত জমি ফেরত দিতে আপত্তি করেন বাটুল বিশ্বাস। এ নিয়ে সিরাজ মোল্লার লোকজন জমির দখল নিতে শনিবার সকালে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে বাটুল বিশ্বাস ও সিরাজ মোল্লার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন কম্বোডিয়া প্রবাসী মাহবুল হোসেন। তিনি বাটুল বিশ্বাসের সমর্থক হওয়ায় তাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করে সিরাজ মোল্লা ও হুমায়নের সমর্থকরা। স্থানীয়রা মাহবুল হোসেনকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে মাহবুল হোসেন মারা যান।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী হাসান টিটু জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মাহবুল হোসেন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জমির লিজ ফেরত নেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের দুইটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এদিকে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসার চাঁদট গ্রামে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের চাঁদট মাদ্রাসা মাঠে এ লাঠি খেলা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিযোগীতায় অংশ নেয় আখের সরদার, সাহেব জোয়াদ্দার, আহম্মদ সরদার, আতিয়ার সরদার লুকমান সরদার ও আমীর সরদারের দল।
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত লাঠিখেলার প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ হাচেন খান। অতিথি ছিলেন ব্যবসায়ী গোলাম ছরোয়ার, সেলিমুজ্জামান সেন্টু, শেখ আলাউদ্দিন প্রমুখ।
প্রতিযোগীতায় স্থান নির্ধান না করে অংশ গ্রহকারী দলগুলোর প্রধানের কাছে শান্তা পুরস্কার প্রদান করা হয়। মাদ্রাসা মাঠে খেলা দেখতে অসংখ্য নারী দর্শকের পাশাপশি সব বয়সের দর্শক উপস্থিত হন।
ছবি
খোকসা (কুষ্টিয়া) একে অপরের উপর নিময় তান্ত্রিক হামলা চালাচ্ছে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া শহরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অফিসসংলগ্ন প্রায় এক একর বাগানের ৭০টি গাছ গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে কেটে নেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে দুই দপ্তরই গাছের মালিকানা দাবি করায় এ নিয়ে রশি টানাটানি শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সকালে নওগাঁর এ এম কে ট্রেডার্স নিলামে কেনা গাছ কাটতে গেলে গণপূর্তের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
গণপূর্তের অভিযোগ, গাছ কাটার আদেশ বা কোনো নোটিশ তাদেরকে দেওয়া হয়নি। আদালতে জমির রেকর্ড সংশোধনের মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
গণপূর্ত গাছ রোপন ও গাছের পরিচর্যা করেছে এমন দাবি তুলে গণপূর্তের অফিস সহকারী সোহেল রানা বলেন, মামলা চলমান থাকার মধ্যে গোপনে টেন্ডার করে গাছ বিক্রি করেছে সওজ। আদালতের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাছ কাটা বন্ধ রাখতে হবে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান হোসেন জানান, সওজের সঙ্গে আমাদের বণ্টন মামলা রয়েছে। ভবন নির্মাণের কাজে যে গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আগেও একটি স্টে অর্ডার (স্থিতি অবস্থা) ছিল। স্টে স্থগিত হওয়ার পর আমরা আবার আপিল করেছি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে এডিসি (জেনারেল) সাহেব কে জানিয়েছি। এখন দেখা যাক, পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী আসে।
সওজের ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট শরিফুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটায় কোনো অবৈধতা নেই। তিনি দাবি করছে ,জমির রেকর্ড তাদের নামে এবং মামলার রায়ও তাদের পক্ষে রয়েছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিম বলেন, জমির রেকর্ড অনুযায়ী সওজই মালিক। মামলা থাকলেও গাছ কাটায় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।৭০টি গাছ মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার টাকায় বিক্রি এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি বলেন, গাছ গুলো ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমেই বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন এতো বড় বাগানের ৭০টি পরিপক্ক গাছের মূল্য মাত্র ১ লাখ ৮১ হাজার টাকা অস্বাভাবিকভাবে কম।
কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, মেহেগুনি পরিপক্ক গাছগুলো ১৮শ-২ হাজার টাকা প্রতি সেফটি বিক্রি হয়। এবং অপরিপক্ক গাছগুলোর ১হাজার থেকে ১৩শ টাকা বর্তমান মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। গাছগুলো দেখে মনে হচ্ছে প্রতিটা গাছে প্রায় ৭ থেকে ৮ সিফটি করে কাট হবে। সে হিসেবে গাছের মূল্য অনেক কম হয়েছে।
পরিবেশবিদ গৌতম কুমার রায় অভিযোগ করে বলেন, গাছ কাটার নিলামটি ছিল সীমিত পরিসরে, ওপেন টেন্ডার হয়নি। বাজারদরের তুলনায় দামও অস্বাভাবিক কম, যা সরকারি সম্পদ রক্ষায় স্বচ্ছতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় গাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধার জন্য অরণ্য ধ্বংসে মদদ দিচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জলবায়ু পরিবর্তনে-উষ্ণতা বৃদ্ধি, শীতের তীব্রতা ও অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়া তৈরি হচ্ছে।
গৌতম রায়ের দাবি, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিবেশ ধ্বংস করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী প্রয়াত এক আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করেছেন। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভেড়ামারা উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী রাগীব রউফ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিজেএম ডিগ্রী কলেজে শিক্ষার মান উন্নয়নে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের কবর জিয়ারত করেন। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহজাহান আলীসহ বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে বলছেন শোভনীয় নয়, আবার কেউ এটিকে নিছক সামাজিক সৌজন্যতা বলেও মনে করছেন।
এ বিষয়ে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে যুবলীগ নেতা সোহেল রানা পবন বলেন, তিনি (রাগীব রউফ চৌধুরী) বাবার কবর জিয়ারত করেছেন এটা সত্য। তার সাথে আমার দুই ভাই জুনিয়র হিসেবে কাজ করে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে কবর জিয়ারত করেছেন। তবে সে সময় আমরা কেউ উপস্থিত ছিলাম না।
ভেড়ামারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. তৌহিদুল ইসলাম আলম বলেন, যার কবর জিয়ারত করেছেন তিনি ফ্যাসিবাদের দোসর, আওয়ামী লীগ নেতা। তার ছেলে যুবলীগ নেতা, তার ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। আমি মনে করি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী কর্মকান্ড পরিচালনা করা শোভনীয় হয়নি। মানুষ এটাকে খারাপ চোখে দেখছে।
জানতে চাইলে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, তিনি (আব্দুর রাজ্জাক) আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন এটা আমার জানা ছিল না। আমি যতদুর জানি তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বারবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। তাছাড়া অনেক বছর আগেই তিনি মারা গেছেন। সুতরাং সেই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেহেতু তিনি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সেই সৌজন্যতার দিক থেকে তার কবর জিয়ারত করেছি।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, এটা কোন ইস্যু নয়। এটা সামাজিক সৌজন্যতা। কারো কবর জিয়ারত করা দোষের কিছু নয়। অনেকের পরিচিত, বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন থাকতেই পারে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য র্যালী ও আলোচনা সভা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজনে র্যালী ও ১০টায় হাসপাতাল চত্বরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। টেলিকনফারেন্সে মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ একে আজাদ খান।
বক্তব্য রাখেন সিএমএইচ হাসপাতালে প্রধান প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ আব্দুল হান্নান। কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মতিউর রহমান লাল্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধান বক্তা ছিলেন প্রখ্যাত হৃদ রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন প্রফেসর ডাঃ এস আর খান। বক্তব্য দেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ড্যাব কুষ্টিয়ার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ নাসিমুল বারী বাপ্পি, কুষ্টিয়া ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশফেকুর রহমান টর্লিন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন ডায়াবেটিসের ব্যাপকতা অনেক বেশি। কিন্তু একে সুনিয়ন্ত্রিত রাখতে পারলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। কাজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আমাদের এ রোগের ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানতে হবে, অন্যদেরও অবহিত করতে ।
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
আগামী ফেব্রæয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রæয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন একই সাথে গণভোট গ্রহণ করা হবে। গণভোটের ব্যালটে চারটি প্রশ্ন থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি জানান, জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবে থাকবে চারটি প্রশ্ন। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখানে প্রশ্নটি যেভাবে থাকবে তা হলো ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নি¤œলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত¡াবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার স¤প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন।
তিনি জানান, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই প্রতিনিধিগণ একইসাথে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হবার পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে। এর মেয়াদ হবে নি¤œকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকারনামা অনুসারে সংবিধানে জুলাই জাতীয় সনদ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।