ফাগুনের আগুন লাগা পলাশের ঝড়ে পরা ফুল কাছে টানছে শিশুদের। ঝড় পলাশ ফুল কুড়াতে এসেছে ওড়া। কুড়িয়ে পাওয়া ফুল এক শিশুর আর এক শিশুর জামার কোচে জমাচ্ছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার কালীবাড়ি আঙ্গিনা থেকে ছবিটি তোলা।







ফাগুনের আগুন লাগা পলাশের ঝড়ে পরা ফুল কাছে টানছে শিশুদের। ঝড় পলাশ ফুল কুড়াতে এসেছে ওড়া। কুড়িয়ে পাওয়া ফুল এক শিশুর আর এক শিশুর জামার কোচে জমাচ্ছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসার কালীবাড়ি আঙ্গিনা থেকে ছবিটি তোলা।







কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ মেটা সাময়িকভাবে অপসারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে মুফতি আমির হামজার আইটি বিভাগ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এসময় আমির হামজার আইটি বিভাগ জানায়, মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ গত কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা সাময়িকভাবে পেজটি অপসারণ করেছে। এটি কোনো নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে নয়; বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ ও ভূয়াা রিপোর্টিয়ের ফল।
আইসিটি বিভাগ আরও জানায়, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই ফেসবুক থেকে একটি পেজ সরিয়ে দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে আমির হামজাকে সরানো যাবে না। ইতোমধ্যে পেইজ পুনরুদ্ধারের জন্য মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ- ভূয়া আইডি, গুজব ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে ধৈর্য ও সচেতনতা বজায় রাখুন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা ১৭ মিনিটের সময় আমির হামজা তাঁর মুফতি আমির হামজা নামক ইংরেজীতে লেখা ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে এ বিষয়ে একটি পোষ্ট করেন। ওই পোষ্টে তিনি লেখেন একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদের পেজে ভূয়া কপিরাইট স্ট্রাইক দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, পেইজটি হ্যাক করার জন্য তারা বারবার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আসলে তাদের সমস্যা টা কোথায়? সমস্যাটা হলো আপনাদের ভালোবাসা। বিশেষ করে কুষ্টিয়া-৩ আসনে সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব সাড়া এবং দ্বীনি দাওয়াতের যে জাগরণ তৈরি হয়েছে, তা দেখে একটি মহলের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তারা চায় আপনাদের সাথে আমার এই নিবিড় সম্পর্ককে ছিন্ন করতে এবংয় আমাদের এই দাওয়াতি কার্যক্রমকে থমকে দিতে।
কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই-হকের আওয়াজ এভাবে ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ফেসবুক পেজ বা স্যোশ্যাল মিডিয়া কেবল একটা মাধ্যম মাত্র। যদি এই পেজ চলেও যায়, ইনশাল্লাহ আপনাদের হৃদয়ে যে জায়গা আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন, তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আমরা ইতোমধ্যে আইনি ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।“
“আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আল্লাহ এই কুচক্রি মহলের সমস্ত চক্রান্ত নসাৎ করে দেন। মনে রাখবেন. অন্ধকারের শক্তি যতই আস্ফালন করুক, দিনের শেষে জয় কিন্তু সত্যেরই হয়। সব শেষে তিনি এই পেষ্টটি সবাইকে শেয়ার করার অনুরোধ জানান।
ধানের শীষ প্রতীক পছন্দ করে মধ্যবয়সী মহিদুল। তাই প্রচারের জন্য নিজে হ্যান্ড মাইক কিনে নিয়েছেন। বাই সাইকেলে লাগিয়ে নিয়েছেন দলীয় নেতার ছবি। কৃত্রিম ধানের শীষ। কুষ্টিয়া – ৪ আসনের কুমারখালীর চরসাদিপুর থেকে খোকসার মাছুয়া ঘাটা পর্যন্ত বাইসাইকেল চালিয়ে সেই হ্যান্ড মাইকে গান গেয়ে ধানের শীষের প্রচার করছেন। এ আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর সাথেও তার ভাব ভালোবাসা আছে। তার (মহিদুল) বাড়ি কুমারখালীর আগ্রাকুন্ডি গ্রামে। বৃহস্পতিবার বিকালে খোকসা বাজার থেকে ছবিটি তোলা।



কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান সমস্যা নিরসনে শহর সমন্বয় কমিটি (টিএলসিসি)-এর গুরুত্বপূর্ণ সভা ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসএনভি (এসএনভি)-এর সহযোগিতায় এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে এনজিও সংস্থা দিশার অডিটেরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায় শহরের আধুনিকায়ন ও নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা কুষ্টিয়া পৌরসভার বর্তমান অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং সড়ক সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। নাগরিক প্রতিনিধিরা একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর গড়তে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, কুষ্টিয়াকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ।
সভায় কমিটির সদস্য হিসেবে গঠনমূলক প্রস্তাবনা ও মতামত পেশ করেন আরবান প্রাইমারি হেলথকেয়ারের মেডিকেল অফিসার ডাঃ নাসরিন সুলতানা।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে কুষ্টিয়া পৌরসভাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও আদর্শ স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় বিএনপির উদ্যোগে নারী ভোটারদের সাথে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে খোকসা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত এ উঠান বৈঠকে প্রধান আলোচক ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক নাফিজ আহমেদ খান রাজু। অন্যাদের মধ্যে আলোচনা করেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন, হাফিজুল কবির ফারুক, তাজমেরী খাতুন মেরী প্রমুখ।
সভাপতিত্ব করেন পৌর সভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস।
আলোচকরা কুষ্টিয়া ৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় ভোট চাওয়া কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ নিস্পত্তির শালিসী বৈঠকে হামলায় বিএনপির তিন কর্মীসহ ৫জন আহত হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মাসিলিয়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত হয়েছেন বিএনপি কর্মী খাইরুল হাসান (৪০), পিতা- মজিবর রহমান গ্রাম ফুলবাড়িয়া ও তার সহযোগী নিজাম উদ্দিন (৪৫) পিতা চাঁদ আলফ গ্রাম উত্তর শ্যামপুর। এর কিছু সময় পর বাজারে রেখে আসার মোটরসাইকেল আনতে গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলার শিকার হয় বিএনপি কর্মী তুহিন হোসেন (৩২), পিতা আব্দুর রহমান। এ ছাড়া জামায়াত কর্মী শেখ সাইদুল ইসলাম সাঈদ ও মাসুম বিল্লাহ আহত হয়েছেন।
হামলা আহত ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন মঙ্গলবার বিকালে জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে বৃদ্ধ আব্দুর রহমান (৮০) নামের বিএনপির এক ভোটারের কাছে জামায়াত কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বুধবার সকালে মাসিলিয়া বাজারের বিএনপি নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের অফিসে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতারা শালিসী বৈঠকে বসে। এসময় বিএনপির কর্মীদের উপর দুই দফায় প্রতিপক্ষ জামায়াত কর্মীরা হামলা চালায়। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়ছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
জামাতায়ত নেতা ও পৌর সভার সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক দাবি করেন, বিএনপির হামলায় তাদেরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে।
আহত চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মী খাইরুল হাসান জানান, সকালে তিনি নিজের গ্রামে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ক্যাপিং কছিলেন। ইউনিয়ন বিএনপির নেতার ফোন পেয়ে মাসিলিয়া বাজারে আসেন। এ সময় প্রতিপক্ষ জামায়াতের বহিরাগত ও স্থানীয় কয়েকশ নেতাকর্মী বাজারে উপস্থিত হয়। বৈঠকে পৌছানো মাত্র জামায়াতের এককর্মী লোহার পাইপদিয়ে তার মাথায় হামলা করে। তিনি হামলাকারীকে আটকে ছিলেন। কিন্তু তাকে জামায়াত কর্মীরা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান বলেন, তিনি শুনেছেন। নিজে বাইরে থাকায় তার লোকেরা আহদের সাথে দেখা করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামানের সাথে কথা বলার জন্য বলেন। কিন্তু আনিসুজ্জামান ফোন রিসিভ করেনি।
কুষ্টিয়া ৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনের বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী বলেন, তিনি আহত কর্মীদের সাথে দেখা করেছেন। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ হামলাকে সাধারণ ভাবে মেনেনেওয়া যায় না।
খোকসা উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম জানান, নিস্পত্তি বৈঠকের শেষ দিকে কথা কাটাকাটি থেকে হাতা পর্যায়ে পৌচ্ছায়। এতে বিএনপির তিন কর্মী ও তার দলের শেখ সাইদুল ইসলাম সাঈদ ও মাসুম বিল্লাহ আহত হয়েছে। পরে তারা স্থানীয় ভাবে বিরোধ মিটিয়ে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।
খোকসা থানার ওসি (তদন্ত) মোশারফ হোসেন জানান, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোন পক্ষ মামলা করেনি। তবে দুই পক্ষের লোকেরা হাসপাতালে ভর্তি আছে।
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার তিন বাহিনীর প্রধানদের গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম। নির্বাচন নিয়ে সবাই আগ্রহী। নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু ক্রিমিনাল (অপরাধী) থাকতে পারে। সবাই এ ধরনের অপকর্ম করবে না।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যারা র্যাগিং এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। অপরাধ করলে যতটুকু আইনে রয়েছে ততটুকু শাস্তি পাবে।
সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিনে-রাতে বিভিন্ন সময় অপারেশনের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের আটক করা হচ্ছে। সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।
বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, বসে থাকা যাবে না।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
আইএসপিআর আরও জানায়, তিন বাহিনীর প্রধান পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়াও পরিদর্শনকালে তিন বাহিনীর প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’র আওতায় মোতায়েনরত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
গাজীপুর জেলা পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়া প্রতনিধি
কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দশম গ্রেডে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের চাকরিতে প্রবেশের অনুমতির প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা সব শ্রেণি ও পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে গিয়ে অবস্থান নেন।
এসময় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে বিভিন্ন ¯েøাগান দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর দীর্ঘ সময় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা যে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তা উপেক্ষা করে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দশম গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেয়া সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক।
এতে করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে এবং কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুন্ন হবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পূর্বে কারিগরি খাতে ১০ম গ্রেডের পদগুলো ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নির্ধারিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একই গ্রেডে নিয়োগের অনুমতি দেয়া হলে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেন।
এ কর্মসূচি চলাকালে ৩০মিনিট খুলনার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঘন্টাব্যাপি এ কর্মসূচিতে সড়কপথের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কর্মসূচি প্রত্যাহার হলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ কর্মসূচিতে কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর মহেন্দ্রপুর এলাকার প্রায় একমাসের অধিক সময় ধরে প্রকাশ্যে কৃষিজমির মাটি – বালু কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল বাকী বাদশা ও ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মন্ডল। তারা সম্পর্কে আপন বিয়াই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের ভাষ্য, চক্রটি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাটি ও বালু কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। প্রায় একমাসের বেশি সময় ধরে এমন মাটি ও বালু কাটার মহোৎসব চললেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে হুমকিতে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি। ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক।
তবে চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মাটি ও বালু কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি বিক্রি করছেন। আর মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ মন্ডল।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চর মহেন্দ্রপুর গ্রাম ঘেঁষে পদ্মা নদীর কোল। কোলে পানি জমি আছে। কোলের মাঝখান পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় বাঁধ নিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। চরে কলা, সরিষা, গম, পেঁয়াজসহ হরেকরকম সবজি চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। সেখানকার কয়েকটি অংশে ভেকু দিয়ে মাটি ও বালু কাটা হচ্ছে। তা আবার সেলোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বা, মাহেন্দ্র, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহণে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। ভেঙে গেছে গ্রামীণ সড়ক গুলো।
এসময় চর এলাকায় কথা হয় জগন্নাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকী বাদশার সঙ্গে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি চরে তার চাষাবাদ দেখতে গিয়েছিলেন। মাটি ও বালু কাটছেন ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, রশিদ মন্ডলসহ অন্যান্য বিএনপির নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বালু ও মাটিকাটা শ্রমিক বলেন, এগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। প্রায় মাসখানেক ধরে চেয়ারম্যান বাদশা, তার ছেলে মেহেদী হাসান ও বিয়াই রশিদ মন্ডল বালু ও মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন কয়েক’শ গাড়ি মাটি ও বালু বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, চরে হরেকরকম ফসলের চাষবাদ হয়। তবুও বাদশা চেয়ারম্যান ও রশিদ মন্ডল তাদের লোকজন দিয়ে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। তিনি দ্রæত মাটি ও বালু কাটা বন্ধের দাবি জানান। প্রতিবিঘা জমি থেকে দেড় লাখ টাকার বালু ও মাটি বিক্রি হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, মাটি ও বালু কাটছে চেয়ারম্যান বাদশা, তার ছেলে মেহেদী ও তাদের লোকজন। তিনি শুধু কাটার যন্ত্র ভেকু ভাড়া দিয়েছেন।
মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মন্ডল বলেন, নিজ জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিঘাশ্রতি ৬০ -৭০ হাজার টাকা দরে ৩০ বিঘা জমি মাটি কাটার জন্য ঠিক করা হয়েছে। তার ভাষ্য, দুই – তিন বছর ধরে মাটি বিক্রি করছেন তিনি। বর্ষার পানি আসলে আবারো ভরাট হয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, চর মহেন্দ্রপুরসহ কোথাও অবৈধভাবে মাটি ও বালুকাটার সুযোগ নেই। এসবের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানে জেল – জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। দ্রæতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষ প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ের নারী ভোটারদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সোমবার বিকালে সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী অধ্যাপিকা সৈয়দা ফাহিমা বানু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপিকা সৈয়দা ফাহিমা বানু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করে রাখা হয়েছিল। আর বর্তমানে আরেকটি উগ্রবাদী অপশক্তি ক্ষমতায় যেতে নারীদেরকে নানা প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বহু তাজা প্রাণ, রক্ত, ঘাম ও নারীদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশকে কোন ক্রমেই আমরা উগ্র অপশক্তির কবলমুক্ত করবোই। এ জন্য আমাদেরকে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।
সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু উপস্থিত নারীদের উদ্দেশে বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়া মানেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। বিএনপি প্রার্থী মেহেদী রুমীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে তিনি নারীদের নিজ নিজ এলাকায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম, খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী সাজেদা পারভীন প্রমুখ।