কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর মহেন্দ্রপুর এলাকার প্রায় একমাসের অধিক সময় ধরে প্রকাশ্যে কৃষিজমির মাটি – বালু কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল বাকী বাদশা ও ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মন্ডল। তারা সম্পর্কে আপন বিয়াই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের ভাষ্য, চক্রটি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাটি ও বালু কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। প্রায় একমাসের বেশি সময় ধরে এমন মাটি ও বালু কাটার মহোৎসব চললেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে হুমকিতে পড়েছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি। ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক।
তবে চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা মাটি ও বালু কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি বিক্রি করছেন। আর মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ মন্ডল।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চর মহেন্দ্রপুর গ্রাম ঘেঁষে পদ্মা নদীর কোল। কোলে পানি জমি আছে। কোলের মাঝখান পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ এলাকায় বাঁধ নিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। চরে কলা, সরিষা, গম, পেঁয়াজসহ হরেকরকম সবজি চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। সেখানকার কয়েকটি অংশে ভেকু দিয়ে মাটি ও বালু কাটা হচ্ছে। তা আবার সেলোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বা, মাহেন্দ্র, ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহণে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। ভেঙে গেছে গ্রামীণ সড়ক গুলো।
এসময় চর এলাকায় কথা হয় জগন্নাথপুর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল বাকী বাদশার সঙ্গে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি চরে তার চাষাবাদ দেখতে গিয়েছিলেন। মাটি ও বালু কাটছেন ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, রশিদ মন্ডলসহ অন্যান্য বিএনপির নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বালু ও মাটিকাটা শ্রমিক বলেন, এগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। প্রায় মাসখানেক ধরে চেয়ারম্যান বাদশা, তার ছেলে মেহেদী হাসান ও বিয়াই রশিদ মন্ডল বালু ও মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। তাদের ভাষ্য, প্রতিদিন কয়েক’শ গাড়ি মাটি ও বালু বিভিন্ন দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, চরে হরেকরকম ফসলের চাষবাদ হয়। তবুও বাদশা চেয়ারম্যান ও রশিদ মন্ডল তাদের লোকজন দিয়ে মাটি ও বালু কেটে বিক্রি করছে। প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। তিনি দ্রæত মাটি ও বালু কাটা বন্ধের দাবি জানান। প্রতিবিঘা জমি থেকে দেড় লাখ টাকার বালু ও মাটি বিক্রি হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, মাটি ও বালু কাটছে চেয়ারম্যান বাদশা, তার ছেলে মেহেদী ও তাদের লোকজন। তিনি শুধু কাটার যন্ত্র ভেকু ভাড়া দিয়েছেন।
মাটি কাটার বিষয়টি স্বীকার করে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মন্ডল বলেন, নিজ জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। বিঘাশ্রতি ৬০ -৭০ হাজার টাকা দরে ৩০ বিঘা জমি মাটি কাটার জন্য ঠিক করা হয়েছে। তার ভাষ্য, দুই – তিন বছর ধরে মাটি বিক্রি করছেন তিনি। বর্ষার পানি আসলে আবারো ভরাট হয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, চর মহেন্দ্রপুরসহ কোথাও অবৈধভাবে মাটি ও বালুকাটার সুযোগ নেই। এসবের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানে জেল – জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। দ্রæতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






