হেমন্তের শুরুতেই তালের ফেলে দেওয়া বীজের শাঁস হয়। শিশুরা লোভনীয় স্বাদের শাঁস খাবে। তাই গ্রামের পাকা রাস্তার ইটের এজিং এর উপর রেখে শক্ত তাল বীজ কেটে শাঁস বেড় করেছে। শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসার জানিপুর ইউনিয়নের ইচলাট গ্রাম থেকে ছবিটি তোলা।




হেমন্তের শুরুতেই তালের ফেলে দেওয়া বীজের শাঁস হয়। শিশুরা লোভনীয় স্বাদের শাঁস খাবে। তাই গ্রামের পাকা রাস্তার ইটের এজিং এর উপর রেখে শক্ত তাল বীজ কেটে শাঁস বেড় করেছে। শুক্রবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসার জানিপুর ইউনিয়নের ইচলাট গ্রাম থেকে ছবিটি তোলা।




স্টাফ রিপের্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় মাদকের মূল পরিশোধের বিরোধে খুন হওয়া শাহিন হত্যায় জড়িত রাকিবুল ইসলাম রাহুলকে আটক করেছে থানা পুলিশ।
শাহিন মৃতদেহ উদ্ধারের তৃতীয় দিন শুক্রবার সকালে থানা পুলিশ নিশ্চিত করে এ হত্যার একমাত্র আসামী রাকিবুল ইসলাম রাহুলকে আটক করা হয়েছে। সে মাঠপাড়া গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে। একই সাথে নিহতের তিনটি মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক রাহুলকে বিজ্ঞ আদালতে তোলা হয়। সে নিজের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করছে।
এ দিন (শুক্রবার) বিকাল সাড়ে পাঁচটার পর খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইমলাম জানান, আটক রাহুলকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত খোকসায় তোলা হয়েছে। ১৬৪ ধারায় আটক আসামী স্বীকার উক্তি মুলক জবান বন্দিতে মাদক কেনার পর মূল্য পরিশোধ নিয়ে বিক্রেতা শাহিনের সাথে বিরোধ হয়। এ ঘটনায় কয়েক মিনিট পর সে একা শাহিনের গলায় প্লাষ্টিকের দঁড়ি পেঁচিয়ে হত্যা করে।
তিনি আর জানান, শাহিন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা। ১২ অক্টোবর রাতে শাহিনের কাছ থেকে রাহুল ২ পিস ইয়া ট্যাবলেট খরিদ করে সেবণ করে রাহুল। বড়ির মূল্য পরিশোধ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে গায়ে হাত তোলার পর্যায়ে পৌচ্ছায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র রাহুল পরিকল্পিত ভাবে শাহিনকে হত্যা করে।
রবিবার দুপুরে শাহিন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আর ফেরেনি। নিখোঁজের তিন দিনের মাথায় মঙ্গলবার বিকালে খোকসা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠ পাড়ার নির্মানাধীর একটি বাড়ি থেকে শাহিন (৩৫) এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় খোকসা থানায় হত্যা মামলা হয়। যার নং ০৪ তারিখ ১৫/১০/২৫ইং)। নিহত শাহিন মাঠপাড়া গ্রামের মৃত আছের আলীর ছেলে।
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার খোকসা উপজেলা গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষক কর্মচারীরা। এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন, সৈয়দ আবু ওবায়দুল্লাহ, মারুফ হোসেন, সাইফুদ্দিন মজনু, সাইফুর রহমান (আল আমিন), আব্দুল কুদ্দুস, মাহফুজা সুলতানা (শান্তি), আবুল কাশেম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবুল বাশার সিদ্দিকী।
পরে তার শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রদীপ্ত রায় দীপনের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারক লিপি প্রদান করেন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার সহ সরকার তার সব প্রতিশ্রæতি রক্ষা করবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।
অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার অবশ্যই হবে। সরকার তার প্রতিশ্রæতি রক্ষা করবে। এর থেকে বেশি দ্রæততার সাথে বিচার কার্য শেষ করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশের আদালত গুলোতে যে মামলা জট রয়েছে, তা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তার কিছু সুফল ও পাওয়া গেছে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের বিচার কাজ যাতে দ্রæত শেষ হয় সেই চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। আসামি পক্ষ আপিল বিভাগে গেছেন, আশা করা যায় খুব শীঘ্রই বিষয়টি সেখানে নিষ্পত্তি হবে।
এর আগে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির ভবনসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং তা সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট হারুন অর রশিদ। সভায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার রাগিব চৌধুরী, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাতিল মাহমুদসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসা সরকারি কলেজের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতার প্রায় ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে তার কক্ষে তালা দিয়ে আটকে রাখেন শিক্ষক কর্মচারীরা। প্রায় ২ ঘন্টা পর স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্ততায় শর্ত সাপেক্ষে তাকে মুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান বেলাল উদ্দিনের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি তার বিভাগে অফিসে একাই ছিলেন। সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অফিসে দরজায় তালা দিয়ে কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা তার দরজার সামনে অবস্থান নেয়। এ ভাবেই চলতে থাকে প্রায় ২ ঘন্টা। অবশেষে বেলা ২ টার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের অধ্যক্ষের যৌথ উদ্যোগে অভিযোগকারী শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে অবরুদ্ধ সাবেক অধ্যক্ষের কক্ষের তারা খুলে দেন।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিনের সাথে তার কক্ষেই অভিযোগ কারীদের মুখোমুখি করানো হয়। প্রায় ১ ঘন্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক চলে। পরে প্রশাসন ও বর্তমান অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে সাংবাদিদের বিফিং করা হয়।
সাবেক অধ্যক্ষ বেলার উদ্দিনের কক্ষের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষক শামসুল আলম, নাহিদুল ইসলাম, শরাফত আলীসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্বে ছিলেন প্রায় ১৩ মাস। এ সময়ের মধ্যে কলেজের ১৬ জন অত্যাবশ্যক কর্মচারীর ৫ মাসের বেতন ভাতার সাড়ে সাত লাখ টাকা, একই সময়ে অনুষ্ঠিত ৬টি বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা ব্যয়ের ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহ ৩২ হিসাবের মোট প্রায় ৭২ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন।

শিক্ষকরা স্পষ্ঠ অভিযোগ করেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন ও প্রধান অফিস সহকারী নাজমূল হুদা রাসেল এই টাকা আত্মসাত করেছেন। ইতোমধ্যে কলেজের অভ্যন্তরীন অডিটে টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রমান মিলেছে বলেও তারা দাবি করেন। তারা আরও বলেন, সাবেক অধ্যক্ষের কাছে আত্মসাতের চাকা ফেরত চাওয়া তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। দীর্ঘ দিন পর বৃহস্পতিবার তিনি কলেজে আসার সাথে সাথে বাধ্য হয়ে তারা তালা দিয়ে আটকে দিয়েছেন।
অবরুদ্ধ অবস্থায় জানালা দিয়ে সমকাল প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সময় অভিযোগ অস্বীকার করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে সাত লাখ টাকা দেনা রেখে গিয়েছিলেন। তিনি ব্যাংকে প্রায় দেড় লাখ টাকা রেখে এসেছেন। এর মধ্যে কোন ঘাপলা হলে তার জন্য অফিস সহকারী নাজমূল হুদা রাসেল দায়ি।
কলেজের অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকালী নাজমূল হুদা রাসেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন অধ্যক্ষ বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে টাকা নিয়ে গেছে।
কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার রায় বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযেগ ওঠায় তিনি ৩ সদস্যের অডিট কমিটি করে অডিট করিয়েছেন। সেখানে অনেক টাকা আত্মসাতের অডিট আপত্তি উঠেছে। এ থেকে আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন সাংবাদিকদের ব্রিফিং কালে বলেন, দুই পক্ষকেই তারা মুখোমুখি করেছিলেন। অভিযোগ অনেক। আরও কয়েক দফায় বৈঠকের পর অভিযোগের সত্য মিথ্যা বোঝা যাবে। তখন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্টাফ রিপোর্টার
পোড়াদহ- রাজবাড়ী রেল রুটের খোকসায় একটি ঝুকি পূর্ণ রেল ক্রসিং এ গেট ও গেট ম্যানেসর দাবিতে রেল লাইন অবরোধ করে ট্রেন থামিয়ে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। এ সময় তিনটি ট্রেনের প্রায় এক হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় থেকে ১০টা ৪০মিনিট পর্যন্ত খোকসা উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের ধুসুন্ডা গ্রামের রেল
ক্রসিং লাল কাপড় ও গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে গ্রামবাসী। এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা পোড়াদাহ গামী সাটেল ট্রেনটি আটকে দেয় তারা। অবরোধের ফলে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়া গামী মধুমতি এক্সেপ্রেস ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী গামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেন দুটিও খোকসা ও পাংশা ষ্টেশনে যাত্র বিরতি দিয়ে অপেক্ষা করে। আটকা পরা তিনটি ট্রেনের এক হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন।
অবরোধে পরা সাটেল ট্রেনের পরিচালক আবু নাইম ও চালক সুরুজ আলী বিক্ষোভ কারীদর শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয়রা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে থাকে। প্রায় এক ঘন্টা ৩৫ মিনিট পর খোকসার ষ্টেশন মাষ্টার সুজন সরকার ঘটনা স্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে আটক সাটেল ট্রেনটি পাস করান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ষ্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন গুলোও গন্তব্যে যাত্রা করে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঈশ্বরদী থেকে ভবানীগঞ্জ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার পাকা সড়কটি ধুসুন্ডা গ্রামের মধ্যে পোড়াদহ – রাজবাড়ী রেল লাইন ক্রস করেছে। গেট না থাকায় এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এ রেল ক্রসিংএ পরিণত হয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে এই ক্রসিংএ ট্রেনের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরহী ব্যাবসায়ী সোনাই মোল্লা ও অপর এক অজ্ঞাত পরিচয়ের মানষিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গত ৫ বছরের এই রেল ক্রসিং এ বিভিন্ন যানবাহনের সাথে প্রায় ১৫ টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় অনেক যানবাহনের যাত্রী পঙ্গু হয়েছেন। স্থানীয়রা ঝুকিপূর্ণ এই রেল ক্রসিংএ গেট ও গেট ম্যানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ঘোষনা দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সোহাগী নামের এক নারী বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে সোনাই মারা যাওয়ার পর থেকে আশে পাশের তিন চারটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে আছেন। শিশুরা রেল পার হয়ে স্কুলে যেতে চাচ্ছে না। তারা দ্রæত এই ক্রসিংএ গেটের দাবি করেন।
নিহত সোনাই মোল্লার ভাই বাবু মোল্লা বলেন, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে ৫ বছরের শিশু এতিম হয়েছে। নিহতের স্ত্রীর গর্ভের সন্তান তার বাবাকে দেখতে পেলো না। এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা যাতে আর না ঘটে সে জন্য তিনিও এখানে রেল গেট ও একজন গেট ম্যানের দাবি করেন।
খোকসা রেল ষ্টেশনের মাষ্টার সুজন সরকার বলেন, স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে। তারা লিখিত স্মারক লিপি অথবা আবেদন দিলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বরাবর পাঠানো হবে। তারা বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবেন।
পোড়াদহ-রাজবাড়ী রেল রুটের জুনিয়র ট্রাফিক ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনা স্থলটি দুর্ঘটনা প্রবণ বলে শুনেছেন। এলাকাবাসী লিখিত দিলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে। ঘটনা স্থল ও পৃথক ষ্টেশন গুলোতে ট্রেন আটকা পরায় বড় ধরনের জন দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
স্টাফ রিপোর্টার
ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে যাওয়ার সময় স্যালো মেশিনের বিদ্যুতের লাইনে হাতে থাকা কাঁচি বেঁধে বিদ্যুৎ স্পিষ্ট হয়ে কৃষক মান্নান শেখ মারা গেছেন।
বুধবার দুপুরে খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নের বড়ইচারা গ্রামের মান্নান শেখ (৪৫) ধানের জমিতে যাবার পথে স্যালোমেশিনের বিদ্যুতের ৪৪০ ভোল্টের লাইনের বিদ্যুত স্পিষ্ট হয়ে ঘটনা স্থলে মারা যান। নিহত কৃষক বড়ই চারা গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। এ সময় মাঠের অন্য কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে কৃষক মান্নান শেখ বাড়ি পাশের মাঠে নিজের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করার জন্য রওনা দেন। এ সময় তার মাথার উপর সিলভারের গামলা, হাতে কাচি ও পিঠে কীটনাশক স্প্রে করার মেশিন ছিলো। নিজের ধানের জমিতে পৌচ্ছানোর আগেই কৃষকের হাতে কাঁচি আব্দুল খালেকের স্যালো মেশিনের বিদ্যুতের লাইনে স্পর্শ হয়। বিদ্যুত স্পিষ্ট হয়ে মুহুত্যের মধ্যে কৃষক মান্নান মাটিতে লুটিয়ে পরেন। স্থানীয় কৃষকরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। ততক্ষনে কৃষক মারা যান।
নিহত কৃষকের পিতা রহমত আলী বলেন, “আমার ছেলে মাথায় সিলভারে গামলা ও হাতে ধানের খেতের আগাছা ছাপ করার কাচি ছিলো। কাচিতে স্যালো মেশিনের তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ স্পর্শ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনা স্থলে উপস্থিত খোকসা থানা পুলিশের এসআই রাজু জানান, তিনি মৃত কৃষকের সুরোতহাল রিপোর্ট তৈরী করছেন। পরিবার বাঁধা দিলে অথবা মামলা করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে পোশাক কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামের এক কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহগুলো ময়না দন্তের জন্য ঢামেকের জরুরি বিভাগের মর্গে আনা হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সব মরদেহই আগুনে পোড়া। দেখে পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এখানে নয়জন পুরুষ ও সাতজন নারীর মরদেহ রয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কাছে আগুনের খবর আসে। খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রথমে পাঁচ ইউনিট পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে আরও সাত ইউনিট যোগ দেয় আগুন নিয়ন্ত্রণে।
পরে ১৬ জনের মরদেহ পোশাককারখানা ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ভবনের নিচতলায় আগুনের তীব্রতা থাকায় এবং ছাদে ওঠার দরজা দুটি তালা দিয়ে বন্ধ থাকায় অনেকেই ভবন থেকে বের হতে পারেননি। ফলে ওই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আটকে আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার রাতে অগ্নিনিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেছেন, ফকির লালন শাহের জীবন চরিত্র ও আদর্শের সঙ্গে এসবের (মাদক) কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইতোমধ্যে আমাদের অভিযান চলছে। আপনারাও আওয়াজ তুলেছেন। সকলের প্রচেষ্টায় এই অভিশাপ মুক্ত করা হবে। আপনারাও সজাগ থাকবেন।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৫ তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবদুল ওয়াদুদ, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগর, সাবেক সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, দৈনিক সমকাল ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি তৌহিদী হাসান, কুমারখালী কাঙাল হরিনাথ প্রেসক্লাবের সভাপতি কে এম আর শাহীন প্রমুখ।
অন্ষ্ঠুানে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেছেন, প্রথমবারের মতো জাতীয়ভাবে এবার ফকির লালন শাহের তিরোধান দিবস পালন করা হবে। সারাদেশের শিল্পীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এতে অংশগ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে লালন শাহের মাজারে রঙ লাগানোসহ সাজসজ্জাকরণের কাজ চলছে। নাম ফলক সরানো হচ্ছে। নাম ফলকে আমি বিশ্বাসী নই। ফলক দিয়ে আসলে কিছু হয় না। মানুষ মানুষের অন্তরে মনে রাখে। ফলকের কালচার আমি বিশ্বাস করিনা।
তিনি বলেছেন, লালন শাহের যে ৩১৪ টি পান্ডলিপি শান্তিনিকেতনে রয়েছে। সেটির জন্য ইতোমধ্যে পত্র দিয়েছি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও পররাষ্ট্রনীতি মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন। আমার আশা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সেগুলো কুষ্টিয়াতে ফিরিয়ে আনা হবে। পান্ডলিপি গুলো লালন চর্চা ও গবেষণায় কাজে লাগবে।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় লালন মেলায় মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের হামলায় সাংবাদিক রাজু আহমেদ আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর একটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন মেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল মাদক ব্যবসায়ী বেধড়ক মারধর করে।
এতে আহত হন সাংবাদিক রাজু আহমেদ। তাকে উদ্ধার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত রাজু আহমেদ অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ঢাকা পোস্ট ও বাংলা এডিশন এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
আহত রাজু আহমেদ বলেন, লালন মেলায় শুরু হওয়ার আগেই কয়েক শতাধিক গাঁজার দোকান বসেছে। সেখানে প্রকাশ্যে দিন-রাত মাদক বিক্রি ও মাদক সেবন চলছে। লালন মেলার মাঠে সংবাদ সংগ্রহকালে সেখানকার মাদক সিন্ডিকেটের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করে এবং বেধড়ক মারধর করে আহত করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রæত প্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
রাজু আহমেদ আরও বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে শতশত গাঁজা ব্যবসায়ী গাজার দোকান বসিয়েছে। সেখানে অবাধে মাদক বিক্রি ও সেবন করা হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে ডিসি অফিসের এক মিটিংয়ে ডিসির সামনে মাদক ব্যবসার বিষয়টি তুলে ধরেছিলাম। একইসাথে মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে লালন মেলার অনিরাপত্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের ঝুঁকির বিষয় গুলো ডিসি বরাবর তুলে ধরেছিলাম। মঙ্গলবার লালনের মাঠে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করে এবং বেধড়ক মারধর করে আহত করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাজু সাংবাদিক তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করছিল। এসময় মঞ্চের পাশে একদল মাদক ব্যবসায়ী তার ওপর হামলা করে এবং বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি আহত হন। মাদক কারবারিদের দখলে লালনের মাঠ। তারা যাকে তাকে হুমকিধামকি দেন। তাদের কারণে লালন মেলার মাঠে অনিরাপদ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অথচ প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রহণ করে না। মাদক সিন্ডিকেটের মাফিয়ারা সাংবাদিক রাজুর ওপর হামলা ও মারপিট করে আহত করেছে। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, লালন মেলার মাঠে রাজু সাংবাদিকের ওপর হামলা ঘটনা ঘটেছে। তাকে মারপিট করে আহত করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বলেন, সাংবাদিক রাজু আহমেদ হামলা ও মারপিটে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে সেবা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।