শিশুদের পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক ছিলেন অভিভাবকরা

0
23

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত সহকারী শিক্ষকরা শিশু শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তি মূল্যালয়ন (পরীক্ষা) বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তবে একটি বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের তত্বাবধায়নে কিছু শিশুর শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। উত্তরপত্র (খাতা) মূল্যয়ন নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলার ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিশুদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা শুরুর পূর্ব ঘোষনা ছিলো। সকালে অধিকাংশ অভিভাবক শিক্ষার্থী সহ নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু আন্দোলনরত সহকারি শিক্ষকরা তৃতীয় প্রান্তি মূল্যালয়ন পরীক্ষা বর্জন করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে কয়েক ঘন্টা বিলম্বে সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণির শিশুদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। শিশুদের অভিভাকরা কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া কিছু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিশুদের পরীক্ষা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরীক্ষা নেওয়া হলেও শিক্ষকরা উত্তরপত্র মূল্যায়ন না করার ঘোষনা দেওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর খোকসা জানিপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তখন শিশু ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় চত্বরে বিচ্ছিন্ন ভাবে জটনা করে আছেন। পরীক্ষা নিয়ে তাদের সবার মধ্যে উৎকণ্ঠা। ‘শিক্ষক ছাড়া শিশুরা পরীক্ষা দিলে কী হবে’ এমন শঙ্কার কথা অনেক অভিভাবকদের বলতে শোনা য়ায়। বিদ্যালয়ের একটি দোতলা ভবনের দুটি কক্ষে তখন ৫ শ্রেণির শিশুদের পরীক্ষা চলছিলো। কক্ষ পরিদশকের দায়িত্বে ছিলে এক শিশু পরীক্ষার্থীর মা অমি আক্তার লিটা। পাশের কক্ষে শিশুদের পরীক্ষা নিচ্ছেলেন দুই ছাত্রের অভিভাবক সনিয়া খাতুন ও শ্যামল বিশ্বাস। এ সময় বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের কক্ষে দেখে মেলে উপজেলা ও সহকারী শিক্ষা অফিসারদের। পাশেই শিক্ষক উপবেশন কক্ষে নিজ চেয়ার টেবিলে বসে সময় পার করছিলে সহকারি শিক্ষকরা।

এই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, তারা সরকার ঘোষিত ১১তম গ্রেড ও তিন দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন হলে তারা আবার ক্লাসে ফিরবে। তারা আপাতত এই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবে না।

ছাত্র অভিভাবক ও কক্ষ পরিদর্শক অমি আক্তার লিটার জানান, কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আছে। তবে এভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায় না। শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করায় শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধে অনেকটা বাধ্য হয়ে পরীক্ষা নিচ্ছেন। তিনি শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরাতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।

তার পাশের কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা সনিয়া খাতুন ও শ্যামল বিশ্বাসের শিশুদের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কোন ধারনা নেই। তারা শুধু দাড়িয়ে আছেন শিশুরা যাতে বিশৃঙ্খলা না করতে পারে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আজহারুল বলেন, স্কুল গুলোতে শিশুদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আগামী পরীক্ষা গুলোও নেওয়া হবে।