মসজিদে মাইকিং করে লালন অনুসারী বৃদ্ধার ঘর ভাঙচুর

0
114

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় মসজিদে মাইকিং করে লালন অনুসারী এক বৃদ্ধার ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার টাকিমারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধা লালন অনুসারী মৃত গাজির উদ্দিন ফকিরের স্ত্রী চায়না বেগম। এ ঘটনায় তিনি কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এলাকার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এনামুল হক, মাতব্বর মোশারফ হোসেন, আনার মন্ডল ও সাইদুল হাজির নেতৃত্বে ওই বৃদ্ধার বাড়িঘর ভাঙচুর করে অন্তত লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়ছে। হামলা কারীরা এলাকার মসজিদে মাইকিং করে ঘর ভেঙে দিয়েছে।

চায়না বেগম বলেন, আমার স্বামী মৃত্যুর আগে বলে গেছেন, কোথাও জায়গা নাহলে তুমি আমার কবরের পাশেই থাকবা। প্রতিবছর বাতাসার সিন্নি হলেও করবা। তার কথা রাখতেই ঘরখানা তৈয়ার করি। কিন্তু এলাকার লোকজন আমাকে না জানিয়েই সব ভেঙে ফেলেছে।

টাকিমারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের মধ্যে স্বামীর কবরের পাশে স্থাপিত বৃদ্ধার ঘরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। টিনের চালা ও বাঁশ-কাঠ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে মুসল্লিরা স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় শেষে ইমাম সাহেব ওই মাজার ইসলাম ধর্মের পরিপন্থী জানিয়ে আলোচনা করেন। এরপরেই স্থানীয়রা এক হয়ে লালন অনুসারী ওই বৃদ্ধের ঘর ভাঙচুর করে।

চায়না বেগমের বোন জামাই সাধু শাহাবুদ্দিন সাবু বলেন, আমাদের অপরাধটা কী? আমরা সাধু সমাজ কি নিজের জমিতেও আর থাকতে পারবা না। আজকে সাধুর ঘর কেন ভাঙা হলো? সাধু সমাজকে কেন অপমান করা হলো? আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।

বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশ দেখছে। মসজিদে মাইকিং বিষয়ে তিনি জানান, ওই মসজিদের ইমাম সাহেবকে সরিয়ে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকালে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। সেখানে একটি সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করা হবে। না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।