ছাত্রের আগুনে পোড়া মরদেহ মিলল পুকুরে

0
56

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জলমগ্ন ডোবা থেকে এক মেধাবী ছাত্রের আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১১ মে) সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সিংদাহ গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দুরের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে স্বজনরা। এরপর দুপুরে খবর পেয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পু্িলশ। ওই ছাত্রের নাম শাহরিয়ার অন্নব রিউশা ( ১৭)। সে ওই গ্রামের সোহেল রানার ছেলে।

স্বজনদের দাবি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ -৫ প্রাপ্ত রিউশা ২০২৫ – ২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল, রাজশাহী বিদ্যালয়সহ অন্তত চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। তবে একটিতেও ভর্তির সুযোগ হয়নি তার। এ নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল সে। তাদের ভাষ্য, চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করেছে রিউশা।

পুলিশ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছাত্র রিউশা কুষ্টিয়া এডুকেয়ার স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৩ সালে এসএসসি পাশ করে ঢাকা রামপুরা এলাকায় খালার বাড়িতে চলে যায়। সেখানে ঢাকা কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ -৫ প্রাপ্ত রিউশা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে পরীক্ষা দেয়। এরপর ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয়। সর্বশেষ ২৭ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা দেয়। তবে একটিতেও ভর্তির সুযোগ না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একাকীত্ব জীবন কাটাচ্ছিল সে। স্বজনরা তাকে মানসিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য সাহস দিয়ে আসছিলেন।

তারা আরও জানায়, গত শুক্রবার ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসে রিউশা। সেখানেও মানসিক অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। আর গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে মা মুক্তা খাতুন তার বাবার বাড়িতে রিউশার জামা কাপড় আনতে গিয়েছিল। এরপর রাত সোয়া নয়টা থেকে রিউশাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে সম্ভাব্য সকল স্থানেও খুঁজে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে রবিবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দুরের একটি ডোবা পুকুরে পোড়া ও বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করে স্বজনরা।

রিউশার আইনজীবী খালা রতœা খাতুন বলেন, ও ( রিউশা) খুব মেধাবী, বিনয়ী ও ভদ্র ছেলে। চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়েও ভর্তি হতে পারিনি। ও খুব মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। আমরা ওকে সাহস দিতাম। তবুও শেষ রক্ষা হলোনা। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হয়তো শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে।

রিউশার মা মুক্তা খাতুন বলেন, রাতে বাবার বাড়িতে রিউশার জামাকাপড় আনতে গিয়েছিলাম। সোয়া ৯ টার দিকে বাড়ি ফিরে দেখি ছেলে নেই। সারা রাত সবজায়গা খুঁজেও পাইনি। আর সকালে দেখি পুকুরে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে আছে। সারা শরীর পুড়া। তার ভাষ্য, রাজশাহীতেও চান্স না পেয়ে খুবই ভেঙে পড়েছিল ও। কিভাবে কি হল তা জানিনা।

আরও পড়ুন – খোকসা বাসস্ট্যান্ডে ধুলার রাজত্ব, ধুকছে যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

চাচা ইকবাল বিশ্বাস বলেন, বাগানে থাকা পরিত্যাক্ত টিনশেড ঘর ও পুকুরপাড়ে আগুনের ছাই ও প্যান্টের পোড়া অংশ বিশেষ পড়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে গায়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

আরও পড়ুন –নিষিদ্ধ হলো আওয়ামী লীগ

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলায়মান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আগুনে পোড়া এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।