কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর মৃত্যুরহস্য উন্মোচনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জিয়াউর রহমান হল প্রশাসন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মসজিদে সাজিদের জানাজা নামাজে অংশ নিতে এসে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. শাহিনুজ্জামান।
তিনি বলেন, সাজিদ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে থাকতেন। হল প্রশাসন ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর পক্ষে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলমান। সাজিদের পোস্টমর্টেম হয়ে গেছে। সবকিছুর প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আমরা প্রকৃত ঘটনা জানতে পারব।
সাজিদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তার বাবা একটি মাদ্রাসার সুপারেনডেন্ট আহসান হাবিবুল্লাহ দেলোওয়ার।
সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ এসেছিলেন কুষ্টিয়ায় ছেলের জানাজায়। তিনি বলেন, আমার ছেলের মৃত্যু রহস্যজনক। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকাল সোয়া পাঁচটার দিকে সাজিদের মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখেন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। পরে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী ইবি থানার পুলিশ এসে সাড়ে ছয়টার দিকে সাজিদের মরদেহ উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের মেডিকেলে নেওয়া হয়।
সাজিদের মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে দেখছেন জানাজায় অংশ নেওয়া তার সহপাঠী ও ক্যাম্পাসের বড় ভাইরা। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সাজিদের ঘনিষ্ঠ বড় ভাই ওয়াহেদ বিন আসাদ বলেন, পানিতে ডুবে মারা গেলে সাধারণত আমরা দেখি তার লাশ উপুড় হয়ে থাকে, কিন্তু সাজিদের মরদেহ ছিল চিত হয়ে। এছাড়া পানিতে ডুবে কেউ মারা গেলে তার পেটসহ শরীর ফুলে যায়। কিন্তু সাজিদের শরীরে আমরা তেমন কোন লক্ষণ দেখিনি। এজন্য এই মৃত্যুকে আমরা রহস্যজনক মনে করছি।
আরও পড়ুন – গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন উপলক্ষে প্রতীকি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত
সুরতহাল প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন,প্রাথমিকভাবে তার শরীরে অপমৃত্যুর কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। তবে ভিসেরা রিপোর্ট আসার পর আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারব।






