কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে আটজন নিহত হন। নিহত আটজনের মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ধর্মদহ গ্রামের একই পরিবারের পাঁচজন ও গাড়িচালক। নিহত অপর দুইজন তাদের স্বজন।
বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে দৌলতপুরের ধর্মদহ ফরাজীপাড়া গোরস্থানে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় গ্রামের হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।
দুর্ঘটনায় নিহত জাহিদুল ইসলামের দুই ছেলে সোহান ও সাগর সিঙ্গাপুর থেকে বৃহস্পতিবার বেলা দশটার দিকে গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছানোর পর দুপুর ২টার দিকে একসঙ্গে পরিবারের চারজনের নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৫৫), তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন (৫০), তার ভাই শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আন্না (৫৫),তার ভাই মিজানুর রহমানের স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন আনু (৫০), নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), একই গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাহাব হোসেন (৩৫), মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুন (৩৫)।
নিহতরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ি থেকে সিরাজগঞ্জে অসুস্থ রোগীকে দেখতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ট্রাকের ধাক্কায় তাদের সকলের মুত্যু হয়।
বুধবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আইড়মারী এলাকার তরমুজ পাম্পের সামনে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের মৃত্যু খবর পেয়ে স্বজনরা ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন নিহতদের বাড়িতে। একসঙ্গে এত জনের মৃত্যুর ঘটনায় সবাই যেন বাকরুদ্ধ। তাদের এমন করুণ মৃত্যুতে কিছুতেই থামছে না শোকার্ত স্বজনদের আহাজারি।
নিহত জাহিদুল, তার স্ত্রী সেলিনা খাতুন, ভাইয়ের স্ত্রী আন্না ও আনুর মরদেহ বুধবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের শোক আর কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তাদের মরদেহ দেখতে আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন। এরপর বৃহস্পতিবার একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও নিহত গাড়িচালক সাহাবের মরদেহও বুধবার রাতে ধর্মদহ গ্রামে পৌঁছায়। এরপর স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে জাহিদুল ইসলামের বোন ও পার্শ্ববর্তী গ্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০), জাহিদুলের শ্বাশুড়ি ও শ্যালিকা অর্থাৎ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ীয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমানারা (৭৫) এবং মেয়ে সীমা খাতুনের (৩৫) মরদেহ তাদের নিজনিজ গ্রামে আনা হয় বুধবার রাতে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় গোরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত জাহিদুলের চাচাতো ভাই অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জানারুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকাল ৭টার দিকে মাইক্রোবাসে করে সিরাজগঞ্জে রোগী দেখতে যাচ্ছিলেন সবাই। জাহিদুলের ছেলে সোহানের অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে যাচ্ছিলেন তারা। এ সময় ট্রাকের ধাক্কায় আটজন মারা গেছেন। ধর্মদহ গ্রামের পাঁচজন মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন মাইক্রোবাসের চালক। বাকি চারজন একই পরিবারের সদস্য। এছাড়াও নিহত জাহিদুলের বোন প্রাগপুর গ্রামের ইতি, গাংনীর বসতবাড়িয়া গ্রামের জাহিদুলের শাশুড়ি ও শ্যালিকা মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একসঙ্গে একই পাড়ায় পাশাপাশি তিনটি বাড়ির চারজনের মৃত্যু এমন মর্মান্তিক দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি বলে জানান ধর্মদহ ফরাজি পাড়ার গৃহবধূ রোমানা খাতুন।
আরও পড়ুন – খোকসা যুব সংঘের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাকী বলেন, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। একই পরিবারের সদস্য এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা একসাথে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমার ইউনিয়নে এমন ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।”






