আলাউদ্দিন খান সভাপতি, আনিস উজ্জ জামানের সম্পাদক পদের মনোনয়ন নেয়নি কেউ
স্টাফ রিপোর্টার
একযুগেরও বেশি সময় পর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন রাত পোহালে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে একমাত্র প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা কাউন্সিল বা ভোট হচ্ছে না।
শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যেই নির্ধারিত স্থানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত নির্মানাধিন মঞ্চে উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বৈঠক করেছেন।
২০০৯ সালে স্থানীয় সরকারী কলেজ মাঠে সর্বশেষ প্রকাশ্য সম্মেলন করে দলটি। চরম গোপনীয়তার মধ্যে ২০১৬ ও ২২ সালে জেলা সদরের একটি রেস্তরায় ছোট পরিষরে উপজেলা বিএনপির কমিটি করা হয়। গতবছর ৫ আগস্টের পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খানকে প্রধান করে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা। এর পর থেকে দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ-জাসদ পুর্ণবাসন ও পকেট কমিটির গঠনের অভিযোগ তোলে একাংশ। শুরু হয় পাল্টা-পান্টি কর্মসূচি। দলীয় কন্দোল চরমে পৌচ্ছায়। চলতি মাসের মাঝা মাঝি সময়ে জেলাতে একাধিকবার সমন্বয় বৈঠক হয়। ক্রমাত নেতাদের দূরত্বের বরফ গলতে শুরু করে। নেতারা সমঝোতায় পৌছায়।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির নেতা ও খোকসা উপজেরা বিএনপির কাউন্সিলের নির্বাচন কমিশনার এ্যাডঃ আব্দুল মজিদ নিশ্চিত করেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদের সর্বশেষ প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ভোট হচ্ছে না। কাউন্সিলের প্রয়োজন না হলে ভোটার তৈরীর প্রয়োজন হয় না।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ইতোমধ্যেই দ্বিধাবিভক্ত উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী ও বর্তমান আহবায়ক আলাউদ্দিন খানের মধ্যে সমঝোথার ভিত্তিতে সম্মেলনের দিন-ক্ষন ও সভাস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই আলোকে চলতি মাসের ১৬ ও ১৭ তারিখে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন সম্মেলনী সভা করা হয়েছে। সময় সল্পতার কারনে ইউনিয়ন গুলোর কমিটি ঘোষনা করা হয়নি। শুধু খোকসা পৌর বিএনপির কমিটি প্রকাশ্য সভায় ঘোষনা করা হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, নতুন কমিটিতে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান ও সম্পাদক আনিস উজ্জ জামানকে রেখে দুই অংশের মধ্যে পদ ভাগাভাগি হয়েছে। ১ নম্বর সাংগনিক সম্পাদক হচ্ছেন মমিনুর রহমান মমিন। তিনি সাধারন সম্পাদকের আর্শিবাদ পুষ্ট। ২ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক হচ্ছেন বাহারুল আলম বাহার। তিনি সভাপতির সমর্থন পুষ্ট। বর্তমান আহবায়ক কমিটির যুগ্ন আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় ভোট মুক্ত কাউন্সিলে আর বাঁধা রইলো না।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদের একমাত্র প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হয়। তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের কারণ জানার জন্য ক্ষুদে বার্তা দেওয়া হয়। তবুও সারা দেননি।
তবে মনোনয়ন প্রত্যাহাকারী নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক মনোনয়ন পত্র কেনার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দিয়েছিলেন। সেটি আমাদের হাতে এসে পৌচ্ছায়। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের কমিটি গঠন ছাড়াই এ সম্মেলন হচ্ছে। অভিযোগ পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও জাসদ কর্মীদের দলে সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলীর সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে কল করা হয় কিন্তু ফোন রিসিভ করেনি।
আরও পড়ুন – নিখোঁজের পরদিন সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের মরদেহ উদ্ধার
উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান বলেন, দলের সব অংশের নেতাদের মধ্যে সমঝোথার ভিত্তিতে এক যুগেরও বেশী সময় পর প্রকাশ্যে সম্মেলন হতে যাচ্ছে। প্রতিদ্ব›িদ্ব প্রার্থী না থাকায় সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ঘোষনা হবে। সমঝোথা করতে পারায় কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিকতার আর প্রয়োজন হচ্ছে না।
আরও পড়ুন – বিশ্বকাপের বাংলাদেশ -ভারতের ম্যাচসহ ৫টি ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন






