কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে স্থাপিত বিএনপির অভিযোগ বাক্সে চলতি সপ্তাহে ৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। বিএনপি, আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে দখল-চাঁদাবাজি ছাড়াও কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি, ট্রাক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে এসব অভিযোগ করা হয়।
রবিবার বেলা ১১ টায় তৃতীয় বারের মত কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির স্থাপিত অভিযোগ বাক্স খোলা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মুঈদ বাবুল, প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগর, সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন, সিনিয়র সহ সভাপতি লুৎফর রহমান কুমার, দৈনিক খবরওয়ালার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সি শাহিন আহমেদ জুয়েল প্রমুখ।
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদ রেজা চৌধুরী বুলবুলের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ জমা পড়েছে। তার মধ্যে একটি অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাহামুদ রেজা এক সময়ের ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠা আসা এবং কুষ্টিয়া পৌরসভার তৎকালীন মেয়র আনোয়ার আলীর ডান হাত এবং তার পুত্র পারভেজ আনোয়ারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুবাদে তিনি অফিস সহকারী পদ থেকে এক লাফে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদ বাগিয়ে নেন। ্রপশাসনিক কর্মকর্তার পদ বাগিয়ে নেওয়ার পর কুষ্টিয়া পৌরসভাতে তিনি দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে রাম রাজত্ব কায়েম করেন। পৌরসভার মিউনিসিপ্যাল বাজারে দোকান বরাদ্ধ থেকে শুরু করে নিয়োগ বাণিজ্য করে অনেক অসহায় পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে নিঃস্ব করেছেন।
অপর একটি অভিযোগপত্রে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে এক নারী উল্লেখ করেছেন যে, মাহামুদ রেজা চৌধুরী আমার কাছে থেকে চাকরীর দোহাই দিয়ে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছে। পৌরসভায় কাজে যোগদানের পর জানতে পারলাম আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমি অসহায় গরীব দুখী মানুষ। ধারদেনা করে টাকা গুলো জোগাড় করে তাকে প্রদান করি। উক্ত টাকা ফেরত না পেলে আমার মৃত্যু ছাড়া কোন পথ থাকবে না।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহামুদ রেজা চৌধুরী বুলবুল বলেন, আমি অনিয়ম দুর্নীতি করিনা। আমি কারোর কাছে থেকে কোনো ঘুষ নিইনি। আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আল আমিন রানা আওয়ামী লীগের নেতা ডা. আমিনুল ইসলাম রতন ও ব্যবসায়ী মনির হোসেনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, কুষ্টিয়া এন এস রোড সংলগ্ন আমার একটি জমি জোরপূর্বকভাবে দখল করে রেখেছেন ডাঃ আমিনুল ইসলাম রতন ও মনির। বিগত দিনে তাদেরকে জমিটি ছেড়ে দেয়ার কথা বললে তারা আমাকে হানিফের ভাই আতার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু আমি আতার সাথে যোগাযোগ করিনি। আমার জায়গাটা উদ্ধার করে আমাকে বুঝিয়ে দেয়া হোক।
অন্যান্য অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে – কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সম্মেলন দ্রæত সম্পন্নের আবেদন। জিলাপিতলা, হাসিমপুর, হরিপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে তমিজ উদ্দিন মার্কেটে ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারা। এছাড়াও খাজানগরে ট্রাক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, কুষ্টিয়া প্রসক্লাবের স্থাপিত অভিযোগ বক্সে জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। সেই সাথে প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখা হয় এবং অভিযুক্তকে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। এর আগে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আল আমিন রানা কানাই-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বেনামি অভিযোগগুলো গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে তদন্ত করে দেখা গেছে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে অভিযোগগুলো করা হয়েছে বলে প্রতিমান হয়েছে।
আরও পড়ুন – তালিকা যাচাই ছাড়া কোনো হজ এজেন্সিকে অর্থ না দেওয়ার অনুরোধ
প্রসঙ্গত গত ২১ জুলাই কুষ্টিয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিষয়ে জানতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করে জেলা বিএনপি। নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নিচে ফটকের পাশে এটি স্থাপন করেন বিএনপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক কুতুব উদ্দীন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।






