কবর থেকে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে তৌহিদি জনতা

0
75

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করা নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলার’ মরদেহ কবর থেকে তুলে এনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তৌহিদি জনতা ব্যানারে সেখানকার দরবার শরিফ ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধরা। হামলায় দরবারের ভক্ত, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশসহ কম পক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলা কারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাংচুর করে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইমান আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফকির মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গোয়ালন্দ উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলান জালাল উদ্দিন, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী খান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মন্ডলসহ বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ।

পরে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারের দিকে যেতে চাইলে প্রশাসন তাদের বাধা দেবার চেষ্টা করে। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সরকারি গাড়ি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করেন। আহত হন ৫ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের ২ জন কর্মকর্তা।

এক পর্যাযে বিক্ষুব্ধ জনতা ‘নুরাল পাগলা’র বাড়ি ও দরবারের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভবন ও দরবার শরীফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এক পর্যায়ে ‘নুরাল পাগলা’র লাশ কবর থেকে তুলে পাশে পদ্মার মোড় এলাকায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

পরে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সন্ধ্যায় এ রিপোট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস থেমে থেমে কাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়িতে দরবার শরীফ গড়ে তোলেন নুরুল হক। গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যান নুরুল হক। ওই দিন রাতে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে বিশেষ কায়দায় দরবারে তার লাশ দাফন করা হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কবর সমতল করাসহ কয়েকটি দাবি জানায় স্থানীয় আলেম সমাজ।

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে নুরুল হকের দরবারে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ করে উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। তারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে কবর সমতলসহ বিভিন্ন দাবি জানায়। অন্যথায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেয়।

এই কর্মসূচি ঘিরে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ আলেম-ওলামা ও দরবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক সভা করে। শুক্রবার সকালে রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. নুরুল ইসলাম ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দরবার শরীফ পরিদর্শন করেন। এসময় তারা দরবার কর্তৃপক্ষ শর্ত পূরণ করেছে বলে জানান।

এদিকে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে দরবারের ভক্তরা সংবাদ সম্মেলন করে জানান, আলেম-ওলামাদের দাবির প্রেক্ষিতে গোয়ালন্দ দরবার শরীফের পীর নুরাল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর উঁচু থেকে নিচু করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দরবারের ভক্ত মেহেদি আল আমিন বলেন, আলেম ওলামাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘নুরাল পাগলা’র কবর উঁচু থেকে নিচু, কবরের দেয়ালের রঙ পরিবর্তন ও ইমাম মেহেদি দরবার শরীফ লেখা সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া এখানে মুসলমান ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়া এখানে খ্রিষ্টান ধর্মের কেউ আসে না।