স্টাফ রিপোর্টার
রাস্তা গুলোর মাপজোক হয়, প্রকল্প তৈরী হয়, টেন্ডার কমিটিতেও ফাইল পাঠানো হয় কিন্তু টেন্ডার আর হয় না। ফলে পৌর এলাকার স্কুলগামী কয়েক হাজার শিশু ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমেনা। অপরটি দুই কিলোমিটার মাটির রাস্তা কাঁদা পানিতে ডুবে থাকায় দু’শ পরিবারের লোক বর্ষার তিনমাস মসজিদে নামাজে যেতে পারে না। উৎপাদিত কৃষি পন্যও বাজারে নিতে পারে না। একটি রাস্তার ব্রিজ ভেঙ্গে রেখে পালিয়ে গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তিন গ্রামের বাসিন্দারদের ৫/৬ কিলোমিটার ঘুরে নিকটবর্তী হাটবাজ ও চিকিৎসার নিতে যেতে হয়।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা সদরের পৌর এলাকায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা রোড থেকে আশার মোড় পর্যন্ত পাকা রাস্তাটি ৭১৫ মিটার দীর্ঘ। মেরামতের অভাবে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে রাস্তাটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্ত গুলোতে কমর পর্যন্ত পানি জমে যায়। অথচ এই রাস্তায় রয়েছে সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একাধিক শিশু বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। এ ছাড়া একটি সরকারী কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা বাইপাস সড়ক হিসেবে এটি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু বৃষ্টির মৌসুমে রাস্তা জুড়ে পানি আর কাদায় একাকার হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে একই ভারে ধুলাবালি আর খানাখন্দে শিশুদের চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে থাকে রাস্তাটি।
উপজেলা সদরে থেকে ৬ কিলোমিটার দূরের হাওড় নদী পারের বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রাম। গ্রামের মসজিদ থেকে একতারপুর হাট পর্যন্ত ২ কিলোমিটার মাটির রাস্তা। এ রাস্তার মাঝখানে রহরমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বর্ষায় কাঁদা পানিতে বেশির ভাগ শিশু শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারেনা। এলাকাসীর অভিযোগ রাস্তাটি পাকা করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার অফিসের লোকেরা কম পক্ষে ৫০ বার মেপেছেন। গ্রামের দুই পাশ দিয়ে পাকা রাস্তা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সে রাস্তা পর্যন্ত পৌছাতে হলে ছোট খাটো একটি যুদ্ধ করতে হয়। খুব বিপদে না পরলে কেউ ঘর থেকে নামতে চান না। কাঁদা পানি ভয়ে গ্রামের একমাত্র মসজিদে সন্ধ্যা ও রাতের ওয়াক্তেয় নামাজে যেতে পারেন না নামাজিরা। বর্ষায় গ্রামে ছেলে মেয়ের বিয়ে হয় না। অসুস্থ্য ও প্রসুতি নিয়ে পরতে হয় বিপদে। হয়, হাতা সিং (কোলে করে) অথবা রোগীকে বাধ্য হয়ে হাটিয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে প্রায় ২০ ট্রাক বালি মাটি ফেলে রাস্তা ঠিক করেছেন।
আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোসাডাঙ্গী মোল্লাপাড়া গ্রামটির একমাত্র রাস্তার কালভাটটি ভেঙ্গে গেছে। অপর দিকে সংস্কারের না করায় রাস্তাটিরও বেহাল অবস্থা। যানবাহনতো দূরের কথা পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যায় না। গত কয়েক সপ্তাহ আগেও রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মাপ-জোক করেছে। খোজ নিয়ে জানাগেছে রাস্তা ও কালভাটটি সংস্কারের জন্য এডিবি বা অন্যকোন প্রকল্পে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানিপুর ইউনিয়নের দশকাহুনিয়া থেকে বসোয়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার গ্রামীন পাকা রাস্তার দুইটি ব্রিজ পুণঃ নির্মানের জন্য ২১-২২ অর্থবছরে টেন্ডার হয়। স্বজল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার বাগিয়ে নেয়। প্রায় প্রায় ১ বছর আগে রবি মেম্বরের বাড়ির পাশের ব্রিজটি ভাঙ্গা হয়। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক আর আসেনি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার লোকে। প্রায় ৫/৭ কিলোমিটার ঘুরে নিকটবর্তী একতারপুর হাট ও বিদ্যালয়ে যেতে হয়।
খোকসা জানিপুর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনির ছাত্রী নওরিন, কথা, কুয়াসা আক্তার, রেহা ওরাও প্রতিবছর শুনে আসছে অল্প দিতে রাস্তা হবে। তারা ৫ বছর পড়ছে কিন্তু রাস্তা আর ভালো হযনি। তাদের ক্লাসের অনেক বন্ধু বান্ধবি রাস্তার গর্তে পরে বই ব্যাগ টিফিনের খাবার নষ্ট করেছে। তারাও রাস্তার কষ্ট থেকে মুক্তি চায়।
বহরম পুরের বৃদ্ধ শুকুর আলী জানান, প্রতি বছরই মেম্বর চেয়ারম্যানরা বলে এই মাপার পর রাস্তার কাজ শুরু হবে। আর হয় না। বাধ্য হয়ে এ বছর গ্রামের ভ্যান চালক থেকে কৃষক, চাকুরে ছেলে মেয়ে ৫০০ থেকে ২ হাজার পর্যন্ত টাকা দিয়ে রাস্তায় ২০ ট্রাক বালু মাটি ফেলেছেন।
দশকাহুনিয়া গ্রামের মিশোন সরকার। পাশের উপজেলা পাংশার কলিমহরের একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। সে জানায়, ব্রিজটি ভাঙ্গার পর তাকে প্রায় ৬ কিলোমিটার ঘুরে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। তারা দ্রæত ব্রিজটি নির্মানের দাবি করেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন ও আমজাদ হোসেন বলেন, ঢাকা রোড থেকে আশা মোড় পর্যন্ত ৭১৫ মিটার রাস্তাটি এবারেও জিওবি প্রকল্পের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য ব্রিজ দুটির ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন টেন্ডারের দেওয়ার জন্য একাধিক বার চিঠি দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার সদরের স্কুল পাড়ার রাস্তা ও ব্রিজের প্রকল্প অনুমোদন হবে বলে আশা করছেন। বহরমপুর ও গোসাই ডাঙ্গীর রাস্তা সম্পর্কে তাদের জানা নেই।
বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জমির উদ্দিন জানান, বহরমপুরের রাস্তাটির আইডি ছিলো না। গত সরকারের সময়ে আইডি ভুক্ত করা হয়েছে। আগামীতে অর্থ বরাদ্দ আসলে কাজ হবে।
খোকসা সভার প্রশাসক ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেসমা খাতুনের সাথে কথা বলার জন্য ফোন দেওয়া হয়। তিনি ফোন ধরেন নি।
উপজেলা প্রকৌশলী আসাদ উল্লাহের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি রিসিভ করেন নি।






