কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আশ্রম থেকে লালন সাঁই‘র ৩১৪টি গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন শিলাইদহের তৎকালীন জমিদার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রায় ১৩৫ বছরের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক সেই গানের মূল পান্ডুলিপি বর্তমানে কলকাতার শান্তি নিকেতন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মূল পান্ডুলিপি ফেরত আনার দাবি জানিয়ে আসছেন লালন ভক্ত, অনুরাগী, অনুসারী ও গবেষকরা। কিন্তু কলকাতার শান্তিনিকেতন থেকে ঐতিহাসিক সেই পান্ডুলিপিটি আজও ফেরত পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন একাডেমির জন্য ঐতিহাসিক সেই পান্ডুলিপি ফেরত চেয়েছেন। উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) ০৫.৪৪.৫০০০.০০০.০০১.২৩.০০০৩.২৫. ৮৪৩ নং স্মারক দিয়ে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন স্বাক্ষরিত আবেদন পত্রটি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসকের এই পান্ডুলিপি ফেরত চেয়ে উদ্যোগের বিষয়টি ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। লালন ভক্ত, অনুসারি ও গবেষকরা তাঁকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রæত পান্ডুলিপিটি যাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন একাডেমীতে নিয়ে আসা যায় সে বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টিসহ আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫ তম তিরোধান দিবস পালন উপলক্ষে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩ টায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি মূূলক সভায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, সংস্কৃুত বিষয়ক মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: আব্দুল ওয়াদুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো: মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, লালনের ভক্ত-বাউল, সাংবাদিক ও সুধীজন অংশ গ্রহণ করেন।
সভায় জানানো হয় এবার জাতীয়ভাবে লালনের তিরোধান দিবস পালন হবে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালনের আখড়াবাড়িতে তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। আর গ্রামীন মেলা হবে ৭ দিন ব্যাপী।
এদিকে লিখিত আবেদনে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেছেন, কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন আশ্রম থেকে লালন শাহ এর গানের একটি খাতা কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়ার শিলাইদহের তৎকালীন জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যা বর্তমানে শান্তি নিকেতনে সংরক্ষিত আছে। প্রায় ১৩৩ বছরের পুরনো উক্ত খাতায় লালন শাহ এর ৩১৪টি গান রয়েছে। ইতিপূর্বে শান্তি নিকেতন থেকে লালন শাহের গানের পান্ডুলপির একটি অনুলিপি প্রেরণ করা হলেও মূল পান্ডুলপি সেখানেই রয়ে গেছে। প্রতি বছর লালন তিরোধান দিবস ও লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে লক্ষ লক্ষ দেশ-বিদেশী লালন ভক্ত, অনুরাগী, অনুসারী ও লালন গবেষকদের আগমন ঘটে। তাদের সকলের পক্ষ হতে বাউল স¤্রাট ফকির লালন শাহ এর গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতার শান্তি নিকেতন থেকে কুষ্টিয়ার ছঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে ফেরত আনার দাবি উঠেছে।
তদুপরি সরকার ১৭ অক্টোবর লালন তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণির দিবস হিসেবে ঘোষণা এবং জাতীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় লালন তিরোধান দিবসের গুরুত্ব আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষ লক্ষ লালন ভক্ত, অনুরাগী, অনুসারী ও লালন গবেষকদের দাবির প্রেক্ষিতে লালন গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ এর গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতার শান্তি নিকেতন থেকে সংগ্রহ করে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, বাউল স¤্রাট ফকির লালন শাহ এর গানের মূল পান্ডুলিপি কলকাতার শান্তি নিকেতন থেকে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়াস্থ লালন একাডেমিতে ফেরত এনে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’
জানা গেছে, ফকির লালন সাঁই মুখে মুখে পদ রচনা করতেন। তার সেসব কথা সুরের ভূবনে বাধা পড়লেই রূপ নিতো গানে। তাই লালনের মুখনিঃসৃত বানী লিখে রাখতেন তার শিষ্যরা। লালনের জীবদ্দশায়ই ভোলাই শাহসহ তার কয়েকজন শিষ্য গানগুলো লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন। দুটি খাতায় লিখে রাখা হয় ৫ শতাধিক গান। বাউল পদাবলীর অনুরাগী হয়ে এরই একটি খাতা নিয়ে যান শিলাইদহের জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালন ভক্ত, অনুসারি ও গবেষকরা দ্রæত মূল খাতাটি ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।






