বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বাড়িতে লুটপাট করেছে আওযামী লীগ লোকেরা

0
29

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুমারখালীতে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের জের ধরে ১২ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার কয়া ইউনিয়নের সুলতানপুর ও বের কালোয়া গ্রামে পৃথক এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, কয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য বকুল বিশ্বাসের নেতৃত্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাজীর ভাই সোহেল রানা, স্বেচ্ছাসবক লীগের সহসভাপতি ওলি জোয়াদ্দার, ৯ নং নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জমারত সরদার ও দপ্তর সম্পাদক মিন্টু খন্দকার এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক ইয়ারুল ও তাদের লোকজন হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। এতে কয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও যুবদল নেতা সালমান এফ রহমান এবং কয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ও তাদের অন্তত ১২ টি বাড়িতে ভাংচুর করে। এ ছাড়া প্রায় ৪০ লাখ টাকার নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গবাদিপশু ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি করে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, কালোয়া বাজার এবং পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি বকুল বিশ্বাসের লোকজনের সঙ্গে দ্ব›দ্ব চলছে ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাশিদুল ইসলাম ও যুবদল নেতা সালমান এফ রহমানের। এ নিয়ে গত ১ নভেম্বর কালোয়া বাজারে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে রাশিদুল গ্রæপের দুই জন আহত হয়েছিল এবং উভয়পক্ষের বেশকিছু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেদিনের ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় মামলা করেন। এসবের জের ধরে শুক্রবার সন্ধায় বকুল গ্রæপের আওয়ামী লীগ নেতারা রাশিদুল গ্রæপের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

শনিবার ( ৮ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিন সুলতানপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যুবদল নেতা সালমানের পাকা বাড়ির সবকটি কাঁচের জানালা ভাঙা। ঘরের ভিতরের আসবাব ও মালামাল অগোছালো। তাতেও ভাঙা ক্ষত। গোয়ালঘরে নেই গবাদিপশু। সাবমার্সিবল পাম্পটি নেই। স্বজনরা ভিড় করেছে বাড়িতে।

এ সময় সালমানের মা শেফালী খাতুন বলেন, ভয়ে ছেলে মাসখানেক হলো বাড়ি থাকেনা। শুক্রবার বাদ মাগরিব ইয়ারুল, সোহেল, মাসুম, নাজমুল, ফিরোজসহ অনেক লোকজন অস্ত্রসস্ত্রসহ বাড়িতে হামলা করে। ঘরের জানালা, আসবাব ভাঙচুর করে নগদ টাকা, সোনা, দুইটি গরু লুট করে নিয়ে গেছে।

কয়া ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সালমানের বাবা মতিউর রহমান। তিনি বলেন, আমরা বিএনপি করি। এতোদিন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজী করেছে। এখনও চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। এতে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। থানায় মামলা করা হবে।

বের কালোয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বেশকিছু বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের ক্ষত। আতঙ্কিত নারী, শিশুসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এ সময় সজিবের স্ত্রী লিপি খাতুন বলেন, সন্ধ্যার পরে আওয়ামী লীগের শত শত মানুষ গ্রামে হামলা করে। আমার বাড়িসহ অনেকের বাড়িতেই লুটপাট করেছে। এতে আমার এক লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।