সার্ভেয়ারের হামলায় নিহত চালকের মেয়ে মামলা করেছে

0
24
নিহত গাড়ি চালকের মৃতদেহ ঘিরে স্বজনদের অপেক্ষা।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার বকেয়া বেতন চাইতে হিয়ে সার্ভেয়ায়ের কিল- ঘুসিতে নিহতগাড়ি চালক শহিদুল ইসলাম (৫৭) মৃত্যুর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় নিহত গাড়িচালকের মেয়ে সুবর্ণা খাতুন। এ মামলায় পৌরসভার সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলামকে আসামি করা হয়। এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২ থেকে ৩ জনকে।

নিহত গাড়ি চালক শহিদুল পৌরসভার শেরকান্দি এলাকার প্রয়াত গঞ্জের আলীর ছেলে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম।

পুলিশ, মামলার এজাহার, পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী পৌরসভায় প্রথম শ্রেণি ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির ৫৭ জন কর্মকর্তা – কর্মচারীর ৪২ মাসের বেতন বকেয়া। টাকার অংকে বকেয়া বেতনের পরিমান ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

গত বুধবার বকেয়া বেতনের দাবিতে গাড়ি চালক শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন পৌরসভার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। সেসময় ১১৫ নম্বর কক্ষের সার্ভেয়ার ফিরোজুলের কক্ষটি বন্ধ করতে যান। তখন ফিরোজুলের সঙ্গে শহিদুলের তর্কাতর্কির একপর্যায়ে কিলঘুষি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে পৌরসভায় কর্মরত অন্যান্যরা ফিরোজুলকে ১১৫ নম্বর এবং শহিদুলকে ১১৬ নম্বর কক্ষে আটকে রাখেন। কিছুক্ষণ পরে ১১৬ নম্বর কক্ষে গিয়ে পৌরসভায় কর্মতরা দেখেন শহিদুল পাকা মেঝেতে পড়ে আছেন। পরে তারা তাকে উদ্ধার করে সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আরও জানা গেছে, ঘটনার পর পৌরসভার শেরকান্দি এলাকার অভিযুক্ত ফিরোজুলের ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। ঘটনার পর থেকে ফিরোজুল পলাতক। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমারখালী বড় জামে মসজিদ চত্বরে শহিদুলের জানাযা শেষে পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতের মেয়ে মামলার বাদী সুবর্ণা খাতুন বলেন, ‘আমার বাবার সম্প্রতি ওপেন হার্ট সার্জারি করা। বুধবার সকালে বেতন চাইতে গেলে পৌরসভার সার্ভেয়ার ফিরোজুল ইসলাম বাবাকে কিলঘুসি ও লাথি মারে হত্যা করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। আমি থানায় মামলা করেছি। সুঠিক বিচার চাই।’

ঘটনার পর থেকে ফিরোজুল পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পৌরসভার বাজার পরিদর্শক নুর ইসলাম বলেন, ‘ফিরোজল তার কক্ষে কাজ করছিল কার্যালয়ে। তখন শহিদুল বেতন না পেয়ে দরজা বন্ধ করতে যাচ্ছিল। সেসময় ফিরোজের সঙ্গে তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। তাঁর ভাষ্য, শহিদুল হার্টের রোগী ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। তবে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।

কুমারখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম বলেন, গাড়িচালক শহিদুল মৃত্যুর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় একজনের নামে এবং ২ থেকে ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে প্রকৃত ঘটনা পরে জানাবো যাবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।