কুমারখালী প্রতিনিধি
সড়কে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় একসাথে নিহত সহদর আর এক প্রতিবেশীসহ তিন জনকে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
রবিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই কুমারখালীর মহম্মদপুর গ্রামের যুবকদের মৃত্য সংবাদ একাধিক মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়। এর পরে গ্রাম জুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। নিহতদের বাড়ির পথে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। বেলা শোয়া ১২ টার দিকে লাশবাহী গাড়ী এসে পৌচ্ছালেই সন্তান হারা মা ও স্বজনদের আত্মনাদে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাযার নামাযের পর খোকসার দুধরাজপুর কবর স্থানে পাশাপাশি তিন জনের দাফন করা হয়।

বোনের মৃত্যু শ্বাশুরীর জানাযার নামাজে অংশ নিতে শনিবার রাতে ঢাকা থেকে কুমারখালীর মহম্মদপুরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে করিম মন্ডলের ছেলে পেশায় ফার্নিচার মিস্ত্রী সুমন মন্ডোল (২৭) ও বড় ভাইয়ের সহযোগী রিমন মন্ডল (১৪) সহদর ও একই গ্রামের প্রতিবেশী শাহিন মোল্লার ছেলে পাঠাও চালক আশিক (২৫) রওনা হয়। গভীর রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানা এলাকায় বাস চাপায় তিনজন নিহত হয়।
রবিবার সকালে মহম্মদপুর, দুধরাজপুর ও হামিসমপুরসহ আশেপাশের গ্রামে তিন যুবকের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পরে। এর পর থেকে জন¯্রােত নামে মহম্মদপুর গ্রামের নিহত সুমন ও রিমনের বাড়িতে। শোকার্ত মানুষের ভিড়ে তিল ধরানোর স্থান ছিলো না বাড়িটিতে। এক সাথে দুই পুত্রহারা মা বিউটি খাতুনের গগণ বিদারী আত্মনাদে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিলো। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাকে ঘিরে শান্তনা দেবার চেষ্টা করছিলেন। উঠানের একপাশে একমাত্র বোন ইভা (যার শ্বাশুরী মারা গেছন) তাকে চেয়ারে বসিয়ে সুস্থ্য করার চেষ্ট করছে গ্রামের আর এক দল নারীরা। বাবা করিম মন্ডল ও অন্য দুই ভাই নিহতদের মৃতদেহ আনতে গেছে।

বেলা বারার সাথে সাথে নিহত আশিকের বাড়িতে শোকার্তদের ভিড় বাড়তে থাকে। নিহতের মা শিল্পী খাতুন ছেলের শোকে বিলাপ করছিলেন। তাকে শান্তনা দেবার চেষ্টা করছিলেন আত্মিয় স্বজনরা।
হাসিমপুর কবর স্থানে পাশাপাশি দুই সহদর ও প্রতিবেশী যুবকের কবর কাটার কাজ শেষ হয়। বেল শোয়া ১২ টার দিকে লাশবাহী গাড়ীতে মৃতদেহ আনা হয় গ্রামে।
নিহতদের প্রতিবেশী হৃদয় নামের এক যুবক জানায়, রিমন মারা যাওয়া কয়েক ঘন্টা আকশীক বাড়ি ফেরা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যাত্রা করে ছিলো। তিনি আরও বলেন, তিন জনই গ্রামে এলে সবার সাথে হেসে কথা বলতো। শ্রমজীবী এই যুবকরা সদআলাপি ছিলো।
নিহত আশিকের দাদা সদকী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মহম্মদপুর গ্রামের মেম্বর এনামূল মোল্লা বলেন, সুমন মন্ডলের বোনের শ্বাশুরীর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যা রাতে তারা তিনজন একমোটর সাইকেলে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলো। তারা শনিবার দিনগত রাত ১টার পর পর মুঠোফোনে যুবকদের মৃত্যু খবর পান। ঘটনা স্থল থেকে পুলিশের মাধ্যমে তারা খবর পান।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, ফরিদপুর ভাঙা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় কুমারখালীর একই গ্রামের তিনজন নিহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে নিহতদের মরদেহ উপজেলার মহম্মদ পুরের গ্রামের বাড়ি এনে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।






