ভ্যান চালকের হাত ও পা ভেঙ্গে দিলো বিএনপি নেতা

0
28

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় চুরির অপবাদে ভ্যান চালককে পিটিয়ে হাত ও পা ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ভ্যান চালকের বাবার কাছ থেকে পুলিশকে খুশি করার কথা বলে ১৫শ টাকাও নিয়েছে ওই নেতা। থানায় অভিযোগের তিনদিন পার হলেও মামলা রেকর্ড করা হয়নি। নির্যাতন কারীদের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় ভ্যান চালক।

চুরির অপবাদে নির্যাতনের শিকার ভ্যান চারকের নাম আলিম শেখ (৩২)। সে উপজেলার জয়ন্তী হাজরা গ্রামের বদর শেখের ছেলে। দিনের বেলায় যাত্রীসহ ভ্যান চালককে রাস্তায় ফেলে পিটিয়ে ডান হাতের কজ্বী ও ডান পায়ের একটি হাড় ভেঙ্গে দেওয়া হয়। আহত ভ্যান চালক হাত পা’য়ে ব্যন্ডেস করা অবস্থায় পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তার বাবা বাদি হয়ে খোকসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভ্যান চালকের উপর নির্যাতনকারী বিএনপির নেতা রুহুল শেখ মোড়াগাছা গ্রামের মহম্মদ শেখের ছেলে। তার কোন দলীয় পদ-পদবি নাই। তবে উপজেলা বিএনপির এক নেতার ছায়াতলে তার অবস্থান। খোকসা ইউনিয়ন বিএনপির অফিস দেখভাল করেন।

হামলা আহত ভ্যান চালক আলিম শেখ জানান, সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুর ১ টার দিকে খোকসা বাস স্ট্যান্ড থেকে একজন যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়ক দিয়ে কুমারখালী উপজেলার জিলাপিতলায় যাচ্ছিলো। মোড়াগাছা বাজারের ৫শ গজ আগে একটি স’মিলের পাশে যাত্রীসহ ভ্যান রেখে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যায়। ফিরে আসার সাথে সাথে স’মিলের মালিক ও বিএনপির নেতা রুহুল শেখ তাকে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। এক পর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভ্যান চালক মোড়াগাছা বাজারের গিয়ে দাড়ালে ওই নেতা সেখানে আবার তার উপর চড়াও হয়। ভ্যান চোর আখ্যা দিয়ে পাকা রাস্তায় ফেলে বেধরক মারপিট করে। পরে মুঠোফোনে আরও দুই তিনজন নির্যাতন কারীকে ডেকে আনা হয়। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নির্যাতনকারীরা তাদের উপর চড়াও হয়। পরে বিএনপির একাংশের অফিসের সামনে নিয়ে গিয়ে ভ্যান সহ তাকে আটকে রাখে। মুঠো ফোনে ভ্যান চালকের বাবাকে ডেকে আনা হয়। থানা পুলিশকেও ডাকা হয়। চোর সন্দেহে আটক আহত ভ্যান চালক আলিমকে পুলিশের মধ্যস্ততায় তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। তাদের কাছ থকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষক করে নেওয়া হয়। ঘটনার দিনই আহত ভ্যানচলকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে নেওয়া হয়। পরে ডাক্তারের পরামর্শে কুষ্টিয়াতে নিয়ে তার হাত পায়ে প্রাথমিক প্লাষ্টার করা হয়।

ভ্যান চালকের স্ত্রী রাশিদা খাতুন জানান, স্বামী ভ্যান চালানোর উপর তাদের সংসার চলে। ভ্যান চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তার স্বামীর হাত ও পা ভেঙ্গে পঙ্গু করে দিয়েছে। সংসারে আয়ের লোকটা পঙ্গু হয়ে গেছে। এখন তারা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন।

তিনি দাবি করেন, তার স্বামী ভ্যান চালক। সে চোর না। তার উপর এ নিষ্ঠুরতার বিচার চান।

ভ্যান চালকের বাবা বদর শেখ জানান, সেদিন মুঠোফোনে খবর পেয়ে তিনি ঘটনা স্থল মোড়াগাছা বাজারে যান। তখন হাত পা ভাঙ্গা অবস্থায় আলিমকে নিজের ভ্যানের উপর বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশকে খুশি করে ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিএনপি নেতা রুহুল তার কছে ৩ হাজার টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে ১৫শ টাকা দিয়ে ছেলেকে মুক্ত করে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় একটি সদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় পুলিশ।

তিনি আরও জানান, ছেলে উপর নির্যাতনের ঘটনায় বিচার চাইতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খানের কাছে গিয়েছিলেন। বিচারের আশা দিয়ে তিন দিন ঘোরায়। সেখানে বিচার না পেয়ে শুক্রবার রাতে খোকসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু মামলা রেকর্ড হয়নি। পুলিশ পরিদর্শনে আসবে বলে ফোন দিলেও তিন দিনে আসেনি। উল্টো করে তিনি এখন বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

বিএনপির নেতা রুহুল শেখের সাথে কথা বলার জন্য তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাটি অফিস ও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। কয়েক দফায় মুঠোফোনে কল দেওয়া এক পর্যায়ে কলব্যাক করে জানান, আসলে ভ্যান চালেক মারাটা একটু বেশী হয়ে গেছে। এ জন্য পুলিশ মামলা না দিয়ে পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়। ভ্যান চালকের বাবা নিজে খুশি হয়ে তাকে টাকা দিয়েছিলো বলেও স্বীকার করেন।

তিনি আরও জানান, তার মিলের পাশে দাড়িয়ে গাঁজা খাওয়ার অপরাধে ভ্যান চালকে মারা হয়েছে। ঘটনা স্থলে যাওয়া পুলিশ অফিসারের নাম বলতে পারেনি। দলে পদ পদবী নাই। তবে তারা ৪৫ বছর ধরে বিএনপি করছেন।

উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রুহুল আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যের লোক ছিলোক ছিলো। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির একজন নেতা ছত্রছায়ায় এলাকায় নানা প্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। ফলে বিএনপির ভাবমুর্তি হানি হচ্ছে।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলাউদ্দিন খানের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, রুহুলকে তিনি চেনেন। ভ্যানচকে মেরে সে অন্যায়ই করেছে। ঘটনাটি দুঃখজনক।

খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি এমন ঘটনার কথা শোনেনি। অভিযোগের বিষয়ে জানানো হলে বলেন বিষয়টি খোজ নিয়ে জানাবেন।