স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসার গ্রামে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে পাপ্পু বিশ্বাস (৩৫) কে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে প্রতিপক্ষের দুর্র্বৃত্তরা গুলির পর ধারলো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়েছে।
বুধবার বিকাল চার টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের জিকে খালের কাজী’র ব্রিজের ৩০ গজ উত্তরে একটি চায়ের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালায়। আহত পাপ্পু বিশ্বাস ওসমানপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ওয়াজেদ আলীর ছেলে। এ ঘটনার পর ওসমানপুরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কিছু সময় আগে পাপ্পু বিশ্বাস নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে উপজেলা সদরের ভাড়া বাসায় ফিরছিলো। ওসমানপুর গ্রামের জিকে খালের কাজীদের বিজের কাছে পৌচ্ছালে প্রতিপক্ষের দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। তাকে লক্ষ করে কয়েকরাউন্ড গুলি ছোড়ে। পাপ্পুর গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পরে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত পাপ্পুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে দ্রæত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
গুলিবিদ্ধ আহত পাপ্পুর বাবা ওয়াজেদ আলী জানান, পাপ্পু বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলো। এ সময় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা তার মোটরসাইকেল থামিয়ে ৫/৬ রাউন্ড গুলি চালায়। দুটি গুলি তার পায়ের এক দিক দিয়ে ঢুকে অন্য দিক দিয়ে বেড়িয়ে যায়। একটি গুলি হাটুর মধ্যে আটকে আছে। এ ছাড়া দুই হাত, পেট ও গলায় ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়েছে। তিনি ছেলের চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ হোসেন ইমাম বলেন, গুলিবিদ্ধ পাপ্পুকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এখানেই চিকিৎসা দেওয়া যাবে।
খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, পাপ্পু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা জানার পর থেকে ওসমানপুরে পুলিশের একটি বড় টিম অভিযান পরিচালনা করছে। এখনো মামলা হয়নি।
উল্লেখ্য, ওসমানপুর ইউনিয়নের ওসমানপুর, খানপুর, রায়পুর, দেবিনগর গ্রামসহ আশের পাশের কয়েকটি গ্রামে জুড়ে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে কমপক্ষে ৫টি স্বসস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রæপর সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রæপের সন্ত্রাসীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে গত ৫ বছরে কমপক্ষে ২৫ হামলা পাল্টা হামলা ভাংচুর লুট-পাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলা মামলার ভয়ে এসব গ্রাম থেকে প্রায় ১০০টি পরিবার উপজেলা সদরে ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় খোকসা থানায় ২/৩টি করে মামলা হয়েছে। আগ্নেয় অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতার হয়। আবার জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। আধিপত্য বিস্তারের যুদ্ধ আর থামে না।






