অল্পের জন্য বাঁচলেন যুবদল নেতা, দুমড়ে মুচড়ে গেল দুটি মোটরসাইকেল

0
13

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী রেলপথের কুমারখালী রেলস্টেশনের পূর্বপ্রান্তে ফুলতলা রেল ক্রসিং। পাশেই কুমারখালী সরকারি কলেজ। কলেজ গেট নামেও পরিচিত স্থানটি। এটি কুমারখালী শহর, উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সপ্তাহিক হাটে যাতায়াতের বিকল্প সড়কের সংযোগ স্থল। এই মোড় দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ এই রেল ক্রসিংএ নেই রেলগেট, গেটম্যান কিংবা সাইনবোর্ড বা পাহাড়াদার। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬২৬ নম্বর ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবদল নেতা আহত হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও পাশে থাকা আরও একটি মোটরসাইকেলসহ দুইটি মোটরসাইকেল দুমড়ে মুচড়ে গেছে। সুস্থ ও নিরাপদে চলাচলের জন্য দ্রæত রেলগেট স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয়রা।

আহত যুবদল নেতার নাম মো. শহিদুল ইসলাম (৪০)। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং হাসিমপুর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি হর্ণ বাজিয়ে দ্রæতগতিতে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গেট না থাকায় পালসার মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে ফুলতলা রেল ক্রসিং পার হওয়ার চেষ্টা করেন শহিদুল। তখন হঠাৎ ট্রেনটি কাছে চলে আসলে মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান শহিদুল। আর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মোটরসাইকেলটি ছিটকে এসে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলের ওপর এসে পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেল দুমড়ে মুচড়ে যায়। আর শহিদুল হাত ও পা কেটে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মিষ্টি ব্যবসায়ী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাজল হোসেন বলেন, এখানে রেলগেট নেই। ট্রেনের হর্ণ শুনে রেললাইনের পাশেই মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেসময় শহিদুল পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে গেলে ট্রেনটি খুব কাছে চলে আসে। তখন তিনি মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দেন আর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি ছুটে এসে আমার মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেলেরই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শহিদুল আহত হয়েছেন।

আহত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে রেললাইনের মাঝামাঝি পৌছালে ট্রেনটি খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখন মোটরসাইকেলটি পিছানোর চেষ্টা করি। কিন্তু পিছনে আরেকটি মোটরসাইকেল থাকায় পিছানো আর সম্ভব হয়নি। সেসময় দিকবিদিক হারিয়ে লাফ মারি। আর ট্রেন এসে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আমার হাত কেটে গেছে, পায়ে আঘাত লেগেছে। আর গাড়িটি ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেছে।

কুমারখালীর স্টেশনের মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রবিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে তেমন হতাহতি না হলেও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ফুলতলা এলাকাটি রেল ক্রসিং অনুমোদিত। সেজন্য গেট স্থাপন হয়নি। তবে স্থানীয়রা লিখিতভাবে অভিযোগ করলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্ররণ করা হবে।