পাকা রাস্তার ভিতরে শতাধিক বৈদতিক খুটি রয়ে গেলো

0
14

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় পুনঃনির্মাধীন সাড়ে ১১ কিলোমিটার পাকা রাস্তার ভিতরে পল্লী বিদ্যুতের ১১৫টি বৈদতিক খুটি দাঁড়িয়ে আছে। এ ছাড়া একটি খালের সুইচগেটসহ একাধিক বস্ক কালভাডের গাইড ওয়াল ঢেকে দিয়ে রাস্তা করায় খাল ও কালভাডের অস্তিত বোঝাই যাচ্ছে না। এ রাস্তাটি পথচারীদের কাছে মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে।

উপজেলার জানিপুর ও বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষে উপজেলা সদরের যাতায়াতের ১১ কিলোমিটার ৫৩৫ মিটার পাকা রাস্তা খানা খন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। গত সরকারের আমলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে আর সি আই পি প্রকল্পের অধিন ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা মেরামতের টেন্ডার হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদাস কার্যাদেশ পাওয়ার পর কমলাপুর – একতারপুর জিসি রোড, বহরমপুর-বনগ্রাম ভায়া কাতলাগাড়ি ঘাট ও চাঁদট-বনগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তা পাকা করার কাজ শুরু করে। রাস্তার সিংহ ভাগ অংশে তিন ফুট চওড়া ও দুই ফুট গভীর গর্তখুরে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ রাস্তায় চলাচল কারীরা ভোগান্তিতে পরে। ইতোমধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অপরিকল্পিত ভাবে এসব রাস্তার ইটের এজিং ঘেসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনের খুটি পোতে। সম্প্রতি নির্মান করা লাইনের প্রায় ১১৫টি বৈদতিক খুটি রাস্তার তিন ফুট ভিতরে চলে যায়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তার ভিতর বৈদতিক খুটি রেখে রাস্তা পাকা করা শুরু করে।

এ ছাড়া চাঁদট খালের উৎস মুখের সুইচ গেটসহ একাধিক বস্ক কালভাটের গাইড ওয়াল থেকে এক দেড় ফুট উচু করে রাস্তা সংস্কার কাজ করে। গ্রামবাসী এভাবে রাস্তা তৈরীতে বাঁধা দেয়। কিন্তু বাঁধা উপেক্ষা করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বহরম পুর-বনগ্রাম ভায়া কাতলাগারি ঘাট ও চাঁদট-বনগ্রাম বাজার পর্যন্ত রাস্তার ম্যাকাড্রামের কাজ শেষ করেছে। এ কাজের মান নিয়েও এলাকাবাসীদের অভিযোগ রয়েছে। এখন বাঁকী শুধু কার্পেটিং করা।

উপজেলা প্রকেীশলীর দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, রাস্তা গুলো কিছু স্থানে আগের থেকে উচু করা হয়েছে। ফলে সুইচ গেটের গাইড ওয়াল থেকে রাস্তা উচু হয়ে গেছে। দরপত্রে (টেন্ডারের) কোন সুইচ গেট বা বস্ক কালভাডের উপরে গাউড ওয়াল নির্মানের করার আদেশ নেই। এ ছাড়া নতুন লাইন নির্মানের সময় পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীরা ১১৫ স্থানে রাস্তার ভিতরে বৈদতিক খুটে পুতে রেখে গেছে। তবে বৈদতিক খুটি সরানোর জন্য পল্লী বিদ্যুতের সাথে দেন দরবার চলছে।

বনগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাসেল উদ্দিন বলেন, রাস্তার ৩/৪ ফুট ভিতরে পল্লী বিদ্যুতের অসংখ্য খুটি রেখে কাজ করা হয়েছে। তিনি নিজেও খুটির সাথে আঘাত পেয়েছেন। খুটি সরানোর বিষয়ে ঠিকাদারকে জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু তারা রাস্তার ভিতরে বিদ্যুতের খুটি রেখে কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, কিছু কিছু স্থানে রাস্তা উচু করায় সুইচ গেটসহ একধিক বস্ক কালভাডের অস্তিত্ব বোঝা যাচ্ছে না। ফলে অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটতে পারে। রাস্তাটি এখন মরণ ফাঁদ হয়ে দাড়িয়েছে।

বনগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বৃদ্ধ তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, পাকা রাস্তার ভিতরে খাম্বা (বৈদতিক খুটি) রেখে কাজ করার সময় তারা বাঁধা দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান মেম্বরদের কথা কেউ শোনে না। খাম্বা রেখেই রাস্তা করা হয়েছে। খাম্বার কারণে ফসলের গাড়ি বাড়িতে নিতে সমস্যা হচ্ছে। অটো ভ্যান চলাচলেও সমস্যা হয়েছে। খালের সুইগেটের পাশের ওয়াল রাস্তার মাটির নিচে চলে গেছে। খাল আছে বোঝা যাচ্ছে না। কেউ ভুল করলেই প্রায় ২০/২৫ হাত গভীর খালের নিচে গিয়ে পরবে। তার মৃত্যু হতে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদাসের প্রতিনিধি আব্দুল হালিমের সাথে মুঠোফোনে কথা বলা হয়। তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।

এলজিউডির কার্যসহকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার ভেতর থেকে বৈদতিক খুটি তোলার জন্য উপর মহলে আলাপ আলোচনা চলছে বলে শুনেছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী আসাদ উল্লাহ বাচ্চুকে মুঠোফোনে করা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি। পরে হোয়াট আপের মাধ্যমে খুদে বার্তা পাঠানো হয়।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদকে ফোন করা হলে তিনি জানান, রাস্তার মাঝ খান থেকে পল্লী বিদ্যুতের খুটি সরানোর বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কথা চলছে। তবে খালের সুইচ গেট ও বস্ক কালভাডের গাইড ওয়াল সম্পর্কে এই শুনলে। মানুষের জীবন হানী করে এমন কাজ করা ঠিক হবে না। তিনি ভিজিট করে ব্যবস্থা নেবেন।