স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা সাড়ে ১৩শ বস্তা টিএসপি ও ডিএপি সার কৃষকদের কাছে ন্যাযমূল্যে বিক্রি শুরু করা হয়েছে। সার সংকটের মুহুত্যে ন্যায্যমূলের সার কিনতে কৃষক-কৃষানীদের লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। কালোবাজারে প্রতিবস্তা সার ৭শ থেকে ৯শ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন।
রবিবার সকাল থেকে উপজেরা কৃষি বিভাগ কর্মকর্তারা অবৈধ সারের মজুদদার সামিম হোসেনের কমলাপুরে গোডাউন থেকে কৃষদের মঝে ন্যাযমূলে সার বিক্রি শুরু করেছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র মোবাইল নম্বর ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার নিশ্চয়নের ভিত্তিতে একজন কৃষকে যে কোন জাতিয় একবস্তা সার দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবস্তা টিএসপি সার ১৩৫০ টাকা এবং প্রতিবস্তা ডিএপি সার ১০৫০ টাকা রাখা হচ্ছে।
জব্দ ও বাযেয়াপ্ত করা বিপুল পরিমানের টিএসপি ও ডিএপি সার ন্যায্যমূলে বিক্রির খবর শনিবার রাতেই কৃষকের কাছে পৌচ্ছে যায়। সকালেই কয়েকশ কৃষক জাতীয় পরিচয় পত্রসহ অবৈধ মজুদদারের গোডাউনের সামনে হাজির হন। বেলা বারার সাথে সাথে অপেক্ষার লাইনে কৃষকের সংখ্যা বারতে থাকে। পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও লাইনে দেখা যায়।
উপজেলায় ২৮৮০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজ, রবি ফসল ও বোরো ধান আবাদ শুরু হয়েছে। ফলে রাসায়নিক সারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সুযোগে বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলাররা সিন্ডিকেট তৈরী করে সারের কৃত্রিম সংকট সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিবস্তা ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে কৃষক সার কিনতে বাধ্য হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় উপজেলার কমলাপুরে অবৈধ সার মজুদদার সামিম হোসেনের গোড়াউনে অভিযান চালায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টট তাসমিম জাহান। অবৈধ ব্যবসায়ির গুদামে টিএসপি ও ডিএপি সারের মজুদ পান। ওই অবৈধ সারের মজুদদারকে কৃষি বিপনন আইন ২০১৮- এ-১৯(ড) ধারায় নগদ ১ লাখ টাকা জমিমানা করা হয়। একই সাথে জব্দ করা ১৩৫০ বস্তা সার বাজেয়াপ্ত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়। মজুদদার সামিম হোসেন উপজেলার মালিগ্রাম এলাকার ইসলাম শেখের ছেলে।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমলাপুর মধ্যপাড়ার রুমা খাতুন তিন বিঘা জমিতে পেয়াজ আবাদ করেছেন। তিনিও সকাল থেকে সারের জন্য লাইনে দাড়ি ছিলেন। অনেক অপেক্ষার পর ১৩৫০ টাকা দিয়ে একবস্তা টিএসপি সার পেয়েছেন। যা তার প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এর আগে তিনি প্রতিবস্তা টিএসপি সার কালোবাজারি থেকে ১৯৫০ টাকায় কিনেছেন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাদের মন্ডল, আসুদুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি সারে ডিলারের এমন একাধিক গোডাউন রয়েছে। সেখানে হাজার হাজার বস্তা সারের মজুদ রাখা আছে। কৃষি বিভাগের লোকেরা সব জানে, কিন্তু তারা ধরেনা। কৃষকরা মোবাইল কোটের ধারাবাহিক অভিযান দাবি করেন।
বাজেয়াপ্ত সার কৃষকদের মধ্যে ন্যায্যমূল্যের বিক্রির দায়িত্বে রয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ বদরুদ্দোজা। তিনি স্বীকার করেন কৃষকরা সার সংকটে আছেন। তাদের চাহিদাও অনেক। বাজেয়াপ্ত করা সার শুধু পৌরএলাকার কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে। আজ সারাদিনে সব সার বিক্রি না হলে আগামী কালও সার বিক্রি চলবে।
তিনি আরও জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকতাদের নিশ্চয়ন ও মোবাইল নম্বরসহ জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলে একজন কৃষককে এক বস্তা (যে কোন এক ধরনের) সার দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল নোমান জানান, অবৈধ মজুদ সারের দাম প্রায় ১৩ লাখ টাকা। মজুদদার সামিম হোসেন বিএডিসি বা বিসিআইসির তালিকা ভুক্ত ডিলার নন। তিনি সব সার অবৈধ ভাবে মজুদ রেখেছিলো। সমস্ত সার কৃষকদের কাছে ন্যার্যমূল্যে বিক্রি করা শুরু হয়েছে। সমুদয় টাকা সরকারী কোষাগারে জমা হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিম জাহান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি অভিযান পরিচালনা করেন। সমুদয় সার জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করেছেন। অবৈধ মজুদদারকে জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসারকে আহবায়ক করে আটক ও বাজেয়াপ্ত করা সার বিক্রির জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা সার বিক্রির টাকা সরকারী কোষাগারে জমাদেবেন।






