স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসায় এবারে ডিলারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৩৬১ বস্তা টিএসপি ও এমওপি সার জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করাসহ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। দুই সপ্তাহ আগে একই ব্যবসায়ীকে আরও একদফায় জরিমান করেছিলো আদালত।
ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিয়া জাহান উপজেলা সদরের খোকসা জানিপুর বাজারের পলাশ বীজ ভান্ডারের একটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির মালিক গনেষ রায়ের গোডাউনটিতে অতিরিক্ত ২২২ বস্তা এমওপি ও ১৩৯ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। অতিরিক্ত সার বাজেয়াপ্ত করাসহ ডিলারকে একলাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। গনেষ রায় বিএডিসি ও বিসিআইসির তালিকা ভুক্ত ডিলার। তবে তার বিরুদ্ধে একাধিক ডিলারের বরাদ্দ সার উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রমান মেলায় ২২ ডিসেম্বর বিসিআইসি ও বিএডিসির একই ডিলার পলাশ বীজ ভান্ডারের মালিক গনেষ রায়েকে জরিমানা করে আদালত। ডিসেম্বর ২৭ তারিখে কলাপুরে এক মজুদদারের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১৩৫০ বস্তা সার জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করে আদালত। সরকার নির্দ্ধারিত দামের থেকে বস্তায় ৫৩০ টাকা বেশি নেওয়ার প্রমান মেলায় ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মোল্লা ট্রের্ডাসের মালিক আবু আল আশারি আশাকে চল্লিশ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। তবুও থামছেনা সারের মজুদদার ও সরকারের তালিকা ভুক্ত ডিলাররা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৯ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার জন্য বিসিআইসি ও বিএডিসির ২৩ জন ডিলার রয়েছে। কৃষি বিভাগের চাহিদামত প্রতিমাসে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের একতারপুর গ্রামের কৃষক সচীন সরকার জানান, শীতকালীন পেঁয়াজ, বোরো ধান ও রবি ফলস আবাদ মৌসুমের শুরুতে নভেম্বর মাসে মাঝামাঝি সময়ে উপজেলায় রাসায়নিক সারের কৃত্রিম সংকট শুরু হয়। ৫০ কেজির প্রতিবস্তা সারে ৫শ থেকে ৭শ টাকা বেশি দিয়ে টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সার কিনতে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আর অভিযোগ করে বলেন, দিনের বেলায় ডিলাররা কৃষক প্রতি ১০ কেজি সার দেয়। কিন্তু রাতের আধাঁরে বেশি দামে শত শত বস্তা সার বিক্রি করে এসব ডিলাররা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লা আল নোমান বলেন, ডিলার গনেষ রায়ের ঘরে তার চলতি মাসের বরাদ্দের থেকে ৩৬১ বস্তা সার বেশি পাওয়া গেছে। উদ্বৃত্ত সার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ সার কিভাবে বিক্রি করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যবসায়ী উদ্বৃত্ত সার কোথায় পেলো সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়নি। এবারে ব্যবসায়ীকে একলাখ টাকা জরিমানা করেছে আদালত।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, জব্দ করা সার কৃষি অফিসারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীকে একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ সার কিভাবে বিক্রি হবে সে সিদ্ধান্ত কৃষি অফিসার নেবেন।






