দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীরা চলমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেয়ে যাচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকার স্পষ্ট করেছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান নিয়ম বহাল থাকবে। এই ভাতা বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি ভরসার মতো কাজ করছে।
আর্থিক সংকট ও ফেব্রæয়ারিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পরিকল্পনা স্থগিত হয়েছে। তবে পে কমিশনের কাজ বন্ধ করা হয়নি, বরং তাদের সম্পূর্ণ প্রতিবেদন তৈরি করে তা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেয়া হবে, যা ভবিষ্যতে বেতন কাঠামো নির্ধারণে প্রধান ভিত্তি হবে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন-পূর্ব কোনো নতুন পে স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরও বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা সম্ভব নয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পে কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতি গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হয়। তিনি জানান, সময় পাওয়া গেলে নির্বাচন পরবর্তী সরকারের জন্য একটি সময়োপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হবে।
পে কমিশনের প্রতিবেদনে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, পরিবারে সদস্য সংখ্যা, আবাসন ও শিক্ষার খরচকে গুরুত্ব দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো প্রস্তাব করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রæত এই সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে স্কেল কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গঠিত হয়েছিল এবং চলতি বছরের ফেব্রæয়ারির মধ্যে এর মেয়াদ শেষ হবে, যা জাতীয় নির্বাচনের আগে।






