স্টাফ রিপোর্টার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা- কুমারখালী) আসনের ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী হলফনামায় অটো রাইচ মিল ও পেট্রোল পাম্পের তথ্য গোপন করেছেন। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
কুষ্টিয়া ৪ (খোকসা- কুমারখালী) আসনের ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ার খান। তিনি নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন সেখানে তার স্থাবর সম্পতি খোকসা উপজেলা সদরের মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন ও কুমারখালীর বাটিকামারা গ্রামে খরিদ করা মের্সাস হাজী আনোয়ার খান এগ্রো ফুড অটো রাইস মিলের তথ্য গোপন করেছেন। হলফনামায় ১০ তলা নির্মাধীন বাড়ির তথ্য উল্লেখ করেছেন। তবে “গ” শ্রেণির পৌর এলাকায় চারতলার বেশি উচু ভবন নির্মানের বিধান নাই। কিন্ত অনুমোদনের আগেই তিনি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের থানা রোডে মক্কা মদিনা নামের ১০ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মান করলেন কী করে? এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার সকালে সরেজমিন খোজ খবর নিয়ে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা বাস স্ট্যান্ডের ৫০০ গজ পশ্চিমে মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন। এই প্রতিষ্ঠানটির স্বাত্বাধীকারী হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী আনোয়ার খান। ২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জমিসহ পেট্রোল পাম্পটি প্রায় ৬ কোটি টাকায় খরিদ করেন সে বছরের আগষ্ট মাসে নিজের নামে রেজিষ্ট্রি করেন। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নাম বদল করে মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির আগের নাম ছিলো শহীদ বরকত ফিলিং ষ্টেশন। মালিক ছিলেন মরজে শেফা।
কুমারখালীর তরুন মোড়ের পাশেই বাটিকামারায় তিন কোটি টাকায় একটি অটো রাইচ মিল খরিদ করেছেন এই প্রার্থী আনোয়ার খান। শুক্রবার সকালে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মিলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, রাইস মিলের আগের মালিক ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। ৫/৬ মাস আগে তার কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা দিয়ে আনোয়ার খান মিলটি কিনে নিয়েছে। বর্তমান মালিক আনোয়ার খান মিলটির নাম পরিবর্তন করে মের্সাস আনোয়ার খান এগ্রো ফুড নামে নাম করণ করেছেন।
খোকসা পৌরসভা “গ” শ্রেণি ভূক্ত। এখানে পৌর কর্তৃপক্ষ নিজেরা ৪ তলার বেশী উচু ভবন নির্মানের অনুমতি দেন না। খোজ নিয়ে জানা গেছে, আনোয়ার খানের মক্কা মদিনা টাওয়ার নামের দশতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মান কজে শেষের পথে কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন জানালার কাচ লাগাচ্ছেন মিস্ত্রীরা। তবে ভবনে কোন কর্মকর্তার দেখা পাওয়া যায়নি।
খোকসা-কুমারখালী আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আনোয়ার খানের মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার জামসেদুর রহমান তরুনের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ২৪ সালের আগষ্ট/সেপ্টেম্বর মাসে পেট্রোল পাম্পের মালিকানা হস্তান্তর হয়। তবে কত টাকায় কেনা বেচা হয় তা তিনি জানেন না।

আনোয়ার এগ্রো ফুড অটো রাইচ মিলের আগের মালিক আবুল কালাম আজাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২৫ সালের আগস্ট- সেপ্টেম্বর মাসের দিকে তার ভাই ভাই অটো রাইস মিলটি প্রায় ৩ কোটি টাকায় আনোয়ার খানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন কিছু ব্যাংক ঋণের ঝামেলা আছে। ইতোমধ্যে আনোয়ার খান মিলের নাম পরিবর্তনসহ সব কাজ শেষ করেছেন।
খোকসা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ বলেন, গ শ্রেণি তালিকা ভুক্ত পৌর এলাকায় চারতলার বেশী উচু ভবন নির্মানের অনুমতি দেওয়া লম্বা প্রক্রিয়া। আনোয়ার খান ভবন নির্মানের আবেদনের ফি’র টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছেন। কিন্তু ভবন নির্মানের অনুমোদন এখনো হয়নি। প্রশ্নর জবাবে, তিনি স্বীকার করেন আনোয়ার খানের মক্কা মদিনা টাওয়ারটির নির্মান কাজ প্রায় শেষের দিকে।
প্রার্থী আনোয়ার খান নির্বাচনের হলফনামায় তথ্য গোপনের বিষয়ে বলেন, অটো রাইস মিল জুনের পরে কেনা তাই আয়কর তালিকা ভুক্ত হয়নি। ফলে ওই প্রতিষ্ঠান হলফনামায় দেখানো হয়নি। এ ছাড়া পেট্রোল পাম্পসহ যাবতীয় সম্পদের কাগজ ডিসি কোটে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদহীন দশতলা ভবন সম্পর্কে বলেন, আমার এ টু জেড কাগজ দেওয়া আছে। সেখান থেকে তুলে নিয়ে দেখেন।






