খোকসার কালীর বার্ষিক পূজা শুরু হয়েছে

0
20
মানষার মিষ্টির ডালা সাজিয়ে মন্দিরে চলেছে পূণার্থীরা।

স্টাফ রিপোর্টার

হিন্দু সম্প্রদায়ের সাড়ে ৫শ বছরের পুরাতন কালীপূজা উপলক্ষে গ্রামীন মেলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রধান গেট তালা বন্ধ রেখে খোকসা কালীর বার্ষিক পূজা শুরু করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া খোকসা উপজেলা সদরের রবিবার মধ্যরাতে খোকসা কালীর বার্ষিক পূজা শুরু হবে। তবে এদিন (রবিবার) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ১১ হাত লম্বা বিশাল দেহের কালীমুর্তি গড়াই নদীতে বিষর্জনের পর পূজার প্রথম পর্ব শেষ হবে। তবে বার্ষিক পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। শতশত বছর ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্পদায়ের এ কালীর বার্ষিক পূজা উপলক্ষে গ্রামীন মেলা হয়ে আসছে। এ বছর পূজা কমিটি মেলার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার তাগিদে মেলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। এতেই ঘটেছে বিপত্তি। শুধু হিন্দু সম্পদায় নয় সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ক্ষোর সৃষ্টি হয়েছে। এ সব ঘটনার সূত্র ধরে পূজা কমিটি তাদের বিশাল মেলার মাঠে একজন ব্যবসায়ীকেও দোকান ঘর তৈরীর অনুমতি বা বরাদ্দ দেয়নি। একই সাথে কালী বাড়িতে প্রবেশ প্রধান গেট তালা ঝুলিয়ে বন্ধ করে দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন।

তালাদিয়ে বন্ধ করে রাখা কালী বাড়ি প্রবেশের প্রধান গেট।

রবিবার বিকালে সরোজমিন কালী বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিশাল মেলার মাঠে প্রবেশের প্রধান গেট তালা বন্ধ। গেটের সামনে অটো রিকসা চালকরা স্ট্যান্ড বানিয়েছে। ভিড় মারিয়ে পাশের একটা ১০ ফুট চওড়া গেট দিয়ে সবাই ভিতরে প্রবেশ করছেন। অসংখ্য নারী ভক্ত ও পূর্ণাথীর উপস্থিত হয়েছেন। তাদের সবার হাতেই মানষার সমগ্রী। খোলা আকাশের নিচে শকশত ব্যবসায়ী শাখা-সিঁদুর, মানষার সামগ্রী, পূজার কাসার সমাগ্রী, চালুন কুলারসহ বাঁশ ও কাঠের তৈরী সামগ্রীর দোকান সাজিয়ে বসেছেন। তাদের কারো মাথার উপর চালা বা দোকানের ঘেড়া বেড়া বলে কিছু নেই।

হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় নেতারা জানান, রাজা-জমিদারী আমল থেকে মাঘ মাসের আমবশ্যা খোকসার কালীর বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উপলক্ষে মাসব্যপী গ্রামীন মেলা হয়ে আসছে। কালের বিবর্তনে মেলার পরিধি ছোট হয়ে ১৫ দিনের মেলা হয়ে আসছে। এবারে মেলার অনুমতি না দেওয়া তাদের উৎসবের নেই। বিগত সময়ে পূজা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকে পূজা মন্দির ও মাঠে পুলিশের ক্যাম্প ও তল্লাসী চৌকি স্থাপন করা হতো। এ বছর আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় তেমন উদ্যোগ চোখে পরেনি। এবারে রবিবার পূজা শুরুর আগে একজন দারোগাসহ ৫ পুলিশের একটি দল কালীবাড়িতে ডিউটিতে এসেছেন। আইনশৃংখলা রক্ষার উদ্যোগ নিয়েও পূজা কমিটিতে রয়েছে হতাশা ও অসন্তোষ।

মধ্যবয়সী রাধা রানী। মেলায় এসেছেন শাখা সিঁদুরের দোকান নিয়ে। তিনি প্রায় ৩৫ বছর এই মেলায় আসছেন। এখানে কারো নিরাপত্তা লাগে না। কিন্তু এবার এসে ঘর করার জন্য অনুমতি পান নি। আগের স্থানে দোকান মেলেছে কিন্তু মাথার উপর চালা নেই। শীত আর কুয়াশায় টেকা কষ্ট সাধ্য হয়ে পরেছে। এবার এক দুই দিন পর সে অন্য মেলায় চলে যাবে বলে জানায়।

জীবন হালদার মানষার মিষ্টি বাতাসার দোকান দিয়েছেন। তারও মাথার উপর চালা নেই। অনেক টাকার মানষার পন্য নিয়ে এক রাতের জন্য দোকার দিয়েছেন। কিন্তু কুয়াশা ও মেঘ বৃষ্টির বিষয়ে ভবছেন।

কালীপূজা কমিটির সহ সম্পাদক প্রবীর সরকার বলেন, তারা শুধু পূজা করছেন। কালী বার্ষিক পূজার উৎসব হচ্ছে না। শুধু মাত্র পূর্ণার্থীদের প্রবেশের জন্য একটি গেট খোলা রাখা হয়েছে। উৎসব বড় হলে প্রধান গেটসহ সব গুলো গেট খুলে দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা নারায়ন চন্দ্র মালাকার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু পূজা করতে বাধা না দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এ ছাড়া মেলার মাঠে মানষা সামগ্রীর একটি দোকান না দেওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারনেই প্রধান গেট বন্ধ রেখে শুধু কালীর বার্ষিক পূজাই করা হচ্ছে।

কালীপূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রশাসনের তরফ থেকে পূজা করতে বাধা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সহযোগীতার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু গ্রামীন মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। উল্টো করে মেলার মাঠ ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে। তাই কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধু কালীর বার্ষিক পূজা করা হচ্ছে। মেলা মাঠে প্রবেশের প্রধান গেট বন্ধ রাখা কমিটির সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন।

মেলার মাঠে দায়িত্ব রত পুলিশের এএসআই সরজিৎ জানান, তিনি শুনেছেন কালীর বার্ষিক পূজা ও মেলার আনুষ্ঠানিকতা চলে ১৫ দিন ব্যাপী। কিন্তু সংসদ নির্বাচন আসন্ন এই সময় বিশৃঙ্খলা হলে নিয়ন্ত্রন কঠিন হতে পারে এ বিষয় বিবেচনায় রেখে মেলার অনুমতি দেয়নি। তবে আজ (রবিবার) থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এভাবে পুৃলিশ প্রটেকশন অব্যহত থাকবে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, মেলার অনুমতি দেয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। কি কারনে মেলার অনুমতি দেয়নি তা জানা নেই। গেট বন্ধ রেখে পূজা করছে এ বিষয়ে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ওরা মুর্তি পূজা করবে, কালীপূজা করবে, গেট বন্ধ রেখে না খোলা রেখে সেটা তাদের বিষয়। পূজা মন্দিরে পুলিশ প্রটেকশন আছে বলেও তিনি জানান।