প্রতিমা বির্সজনের পরে ব্যবসায়ীদের তুলে দিলো পুলিশ

0
23

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার হিন্দু ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী কালীর বার্ষিক পূজা শেষে প্রতিমা বির্সজনের মধ্যদিয়ে প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা মেলার মাঠের অনুমতিহীন দোকানিদের সরে যাওয়ার জন্য আধাঘন্টা সময় দেয় পুলিশ। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উঠে যেতে বাধ্যে করা হয়। পূজা কমিটি বলছে তারা দোকানিদের বসায়নি। তুলে দেওয়াতে তাদের আপত্তিও নেই।

সোমবার সন্ধ্যায় গড়াই নদীর কালীবাড়ির ঘাটে বিশালদেহী কালী মূর্তির আন্ষ্ঠুানিক বির্সজন দেওয়া হয়। আগের রবিবার সকাল থেকে উপজেলা সদরের কালীবাড়ির বার্ষিক পূজা মন্দিরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মাঘ মাসের আমাবস্যার গভীর রাতে মহিষ ও শিলাইদহের জমিদার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের সম্মানে প্রথাগত জোড়া পাঠার বলি হয়। হাজার হাজার ভক্ত পূর্নার্থীরা নানা ধরনের মানষা ও অঞ্জলি নিয়ে আসেন। পরদিন (সোমবার) বিকাল পর্যন্ত পূজা অর্চনা চলে। এর পর বার্ষিক পূজার প্রথম পর্বের শেষ হয় কালীমূর্তি বির্সজনের মধ্য দিয়ে।

মেলার অনুমনি না পাওয়ার মৌন প্রতিবাদে বন্ধ রাখা মন্দির চত্বরের প্রবেশর প্রধান গেটির খুলে দেওয়া হয়। পরে প্রধান গেট দিয়ে জন¯্রােত শুরু হয়। সোমবার সন্ধ্যায় কালীমূর্তি বির্সজনের পর রাতে মেলার মাঠের অনুমোদহীন দোকানিদের সরে যেতে বাধ্য করে পুলিশ।

পূজা কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, কালী মূর্তি বির্সজনের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে কালীমন্দির কমপ্লেক্সের ভিতর থেকে অনুমোদনহীন ব্যবসায়ীদের তুলে দেওয়ার জন্য থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদে বলা হয়। কিন্তু তার আগেই কমিটির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার জন্য আদেশ দেওয়া হয়। তরে রাত ৭টার দিকে পুলিশ ব্যবসায়ীদের উঠে যেতে বাধ্য করে।

কাীলবাড়ি মাঠে দায়িত্বরত খোকসা থানা পুলিশের এএসআই রাজু গণমাধ্যমকে জানান, অনুমোদ না থাকায় ব্যবসায়ীদের উঠে যাওয়ার জন্য আগে থেকে বলা হয়েছে।

কালী পূজা কমিটির সভাপতি ও সাবেক অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, খোকসার কালীপূজা অনাদিকাল থেকে হয়ে আসছে। এ পূজা গ্রামীন মেলা ছাড়া হয়েছে এমন নজির নেই। এবারই মেলার অনুমতি হয়নি। তাই তারা (কমিটি) মেলার আয়োজনও করিনি। পূজা শুরুর পর কয়েকশ ব্যবসায়ী খোলা আকাশের নিচে দোকান দিয়েছিলো। তখন তাদের উঠে যেতে কমিটি চাপ দেয়। আজ (সোমবার) রাতে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে কমিটির কোন অভিযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, তিনি নিজে প্রায় দেড়যুগ সভাপতি হিসেবে আছেন। প্রতিটি বার্ষিক পূজায় মেলা করার অনুমতি পেছেন। করোনার মধ্যে মেলার অনুমতি পেছেন। কিন্তু এবারে কি কারনে অনুমতি হলোনা এটা তিনি বুঝতে পারছেন না। তবে প্রশাসনে উদ্ধতন কর্মকর্তারা আগামীতে অনুমোদনের ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন।