কয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভবন হয়নি ৬২ বছরেও, স্থান নির্বাচনে তদন্ত কমিটি

0
10

কুমারখালী থেকে বিশেষ প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে তিন গ্রামবাসীর বিরোধের জের ধরে ৬২বছরেও কয়া ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি। অবশেষে অধিক জনকল্যানকর স্থান নির্বাচনে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্ত শুরু করেছে।

এ দিন বিকাল ৩টা থেকে ইউনিয়ন পরিষদের নামে থাকা তিনটি প্রস্তাবিত জমির কাগজপত্র যাচাই, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগণের মতামত গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদন দাখিল করবে এ কমিটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রায়ডাঙা মৌজায় ২৫ শতাংশ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়াদী মৌজায় ৫০ শতাংশ এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর মৌজায় পুরাতন ভবনসহ ৩০ শতাংশ জমি রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের নামে। তবে এলাকা ভিত্তিক আধিপত্য ও মতবিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি।
ফলে ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পেতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কখনো চেয়ারম্যানের বাড়িতে, আবার কখনো অস্থায়ী স্থানে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৬৩ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান সোনা মিয়া সুলতানপুর এলাকায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ করেন। সেখানে পাঁচ বছর পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী কার্যালয়ের অভাবে এক পর্যায়ে পরিষদের কার্যক্রম চেয়ারম্যানদের নিজ বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়।

রায়ডাঙা মৌজার বাসিন্দারা দাবি করেন, সুলতানপুর এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে এবং পরিষদের নামে চলাচলের নির্দিষ্ট রাস্তা নেই। অপরদিকে বাড়াদী এলাকার জমিতে মামলা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। রায়ডাঙা মৌজাটি প্রধান সড়কসংলগ্ন হওয়ায় এবং সেখানে ভূমি অফিস, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় এটি অধিক জনকল্যাণকর স্থান বলে মত দেন তারা।

অন্যদিকে বাড়াদী এলাকার বাসিন্দারা বলেন, রায়ডাঙা ইউনিয়নের একপ্রান্তে অবস্থিত। আর বাড়াদী ইউনিয়নের মাঝামাঝি হওয়ায় এখানে পরিষদ ভবন হলে সকলের জন্য সহজ হবে। তবে জমির মামলার বিষয়ে তারা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

সুলতানপুর মৌজার বাসিন্দারা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাড়াদী ও রায়ডাঙার জমিতে মামলা চলমান। সুলতানপুর ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এবং এখানে পুরাতন পরিষদ ভবন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কৃষি অফিস থাকায় এখানেই স্থায়ী ভবন নির্মাণ হওয়া উচিত।

বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, প্রশাসনের নির্দেশে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে সুলতানপুর এলাকার পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনে পরিষদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত কক্ষ ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও কুমারখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন,“তিনটি প্রস্তবিত স্থান পরিদর্শন করে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া হয়েছে। সার্বিক জনকল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে দ্রæত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, একাধিক স্থানে জমি থাকায় মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণকর স্থানেই ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণ করা হবে।

উল্লেখ্য, পদ্মা ও গড়াই নদীবেষ্টিত কয়া ইউনিয়ন ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জনপদ। এই ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিপ্লবী বাঘা যতীন, অবিভক্ত বাংলার প্রথম শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী মৌলভী শামসুদ্দিন আহমেদ, শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ইয়ামিন।