খোকসায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ পোড়ানোর ভিডিও ভাইরাল, তদন্ত কমিটি গঠন

0
17

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার ভাগারে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পুড়িয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওষুধ পেড়ানোর ঘটনা স্বীকার করছেনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোন বিভাগ। অবশেষে ঘটনাটির রহস্য জানতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ময়লার ভাগারে কয়েকশ ট্যালেটের স্টিপ (পাতা), ইনজেকশনের ভাওয়েল পোড়ানোর দৃশ্য ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করতে দেখা যায়। পর দিন সকালে চায়ের দোকান, বাজার ও অফিস পাড়ায় এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বলতে শোনা যায়, সরকারী ওষুধ ব্যবহার না করায় মেয়াদ উত্তিন্ন হয়ে গেছে। প্রাণ রক্ষাকারী ওষুধ গুলো অবশেষে পুড়িয়ে দিলো স্বাস্থ্য বিভাগ। এক পর্যায়ে বুধবার দুপুরে পর সরেনরে বসে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। ঘটনার জট খুলার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ভবন থেকে ৫০ গজ দক্ষিনে সীমানা প্রাচীর ও পুকুরের পাশে ময়লা পোড়ানোর ভাগার। তখনোও সেখান থেকে ধুঁয়া উঠছিলো। সেখান অনেক গুলো ওধুষ পুড়ি দেওয়া হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। ভস্ম থেকে কয়েকটি ট্যাবলেটের পাতা ও একটি ইনজেকশনের ভাওয়েল খুজে বেড় করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া ট্যাবলেটের স্টিপের (পাতার) গায়ে “একমি” নামের একটি কম্পানির নাম লেখা দেখতে পাওয়া যায়।

এ সময় অনেকেই অভিযোগ করেন, ডাক্তার ও কর্মকর্তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কম্পাউন্ডে থাকেন না। ফলে দুপুর পর থেকে গোটা হাসপাতালের নিয়ন্ত্রন চলে যায় মাদক সেবিদের কজ্বায়। যে যার মত আধিপত্য খাটায়। এদের মধ্যে কেউ ওষুধ পোড়ানোর সাথে জড়িত থাকতে পারে।

ঘটনা স্থলে উপস্থিত উপজেলা স্ব্যাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউট সোসের কর্মচারী মাসুদ দাবি করেন, সরকারী ওষুধের গায়ে সরকারের মনোগ্রাম ও লেখা থাকে। পুড়িয়ে দেওয়া ওষুধের গায়ে কম্পানির নাম লেখা আছে। তারও প্রশ্ন ওষুধ গুলো এখানে এলো কি করে। আর পুড়ানোর সাথে জড়িত কারা। তার নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্ব থাকা উপসহকারী মেডিকেল অফিসার জাহিদুল ইসলাম বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ড যথেস্ট নিরাপদ নয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে অনেকেই হাসপাতাল কম্পান্ডের বাসায় থাকতেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবির হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। সরেজমিন পরিদর্শনও করেছে। তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “পুড়িয়ে দেওয়া ওষুধ আমাদের কি না এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।” তবে রহস্য উৎঘাটন করতে হবে। কাজটির সাথে কারা জড়িত।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আরিফুল হক বলেন, দুই/এক দিনের মধ্যে হাসপাতালের সরকারী ওষুধ ডিস্টয় করা হয়নি। কিন্তু কারা হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ওষুধ পুড়িয়ে গেলে এটার রহস্য ভেদ করার জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে মেডিসিন স্পেলাষ্টিও রাখা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসে এ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। তখন আসল রহস্য জানার পর প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।