কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া ৩ (সদর) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকার জন্য নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
রবিবার রাত ৯ টায় শহরের দিশা টাওয়ারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এবং সুধী জনের উপস্থিতিতে এ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।
নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন, শিক্ষা-চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও কুষ্টিয়াকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক, জুয়া, নারী নির্যাতন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাদকবিরোধী সমাজিক আন্দোলন জোরদার এবং ধর্মীয় সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মতিনুর রহমান প্রমুখ।
ইশতেহারে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরির জন্য কুষ্টিয়াতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, রেল যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও ইশতেহারে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন: তরুণ ও বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সিড ফান্ড এবং জামানত ছাড়া সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা।
শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চায়নিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবী ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করে বিদোশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
শিক্ষার প্রসার ও মান উন্নয়ন: স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো ও ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে এআই ভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম চালু করা।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পুনঃখনন, শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনকে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে স্থানান্তরিত করে কুষ্টিয়া ইস্ট ও কুষ্টিয়া ওয়েস্ট দুটি স্টেশন স্থাপনসহ পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
গড়াই নদীতে ঘোড়াঘাটে নতুন ব্রিজ নির্মাণ ত্বরান্বিত করা।
ইতোমধ্যে চলমান ক্লিন কুষ্টিয়া গ্রিন কুষ্টিয়া কার্যক্রমকে ব্যাপকতার মাধ্যমে শহর ও গ্রামে সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া।
শিল্প বর্জ্য ও মিউনিসিপ্যাল বাজার সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য রিসাইকেল প্লান্ট স্থাপন করা, জিকে সেচ প্রকল্পকে সংস্কার করে অত্র এলাকার কৃষির স্বর্গরাজ্যকে পুনরুদ্ধার করা, কুষ্টিয়াতে একটি নৌবন্দর স্থাপন করা, শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা, দেশের অন্যতম প্রধান চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর অঞ্চলকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এ অঞ্চলকে কৃষি শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা, ভাদালিয়ায় আটামোবাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে আধুনিকায়ন ও প্রসারের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা, বন্ধ মোহিনী মিল ও সুগার মিলের বিষয়ে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করে পরবর্তী সিদ্ধান্তু নেওয়া, সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে বিকশিত করা, ক্রীড়ার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহন।






