খোকসার পার্ক থেকে উদ্ধার করা ঘড়িয়াল পদ্মায় অবমুক্ত

0
20

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার ইউটিউব ভিলেজ পার্কের চৌবাচ্চা থেকে বিপন্ন প্রাণি ঘড়িয়াল উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে উদ্ধার করা ঘড়িয়ালটি পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা হয়।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রæয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘড়িয়ালটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়াই একস্থান থেকে তিনটি কাছিম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ঘড়িয়ালটি লম্বা ছিলো ২ ফুট ৬ ইঞ্চি।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে ঘড়িয়ালটি উপজেলার শিমুলিয়ার ইউটিউব ভিলেজ পার্কের চৌবাচ্চায় বিপন্ন প্রাণিটি প্রদর্শনী করা হচ্ছিলো। সম্প্রতি প্রাণীটি সাংবাদিক ও সচেতন দর্শনার্থী মহলের নজরে আসে। খবরটি কুষ্টিয়া বনবিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। এরই সূত্র ধরে বন কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে পার্কের চৌবাচ্চা থেকে ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করে। পরে কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের পদ্মা নদীর ঘাটে প্রাণি গুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

পার্কের মালিক পক্ষা দাবি করছেন, গতবছর শিমুলিয়া বিলে এক জেলের মাছ ধরা জালে ঘড়িয়ালটি ধরা পড়ে। এরপর ওই জেলেরা নামমাত্র টাকায় এটিকে ইউটিউব ভিলেজ পার্ক মালিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন। পার্কের মালিক ঘড়িয়ালটিকে পার্কের ভিতরের একটি চৌবাচ্চায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রেখে প্রদর্শনী করে আসছিলো। সম্প্রতি এক দর্শনার্থী ওই পার্কের চৌবাচ্চায় ঘড়িয়ালটিকে দেখে সমকাল পত্রিকার কুমারখালী প্রতিনিধি এম আর নয়নকে জানান। তিনি এনটিভি অনলাইনেরও প্রতিনিধি। তিনি বনবিভাগের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এরপর মঙ্গলবার বিকালে পার্কটিতে অভিযান চালিয়ে বিপন্ন প্রাণি ঘড়িয়াল ও তিনটি কাছিম উদ্ধার করে বনবিভাগ।

ইউটিউব ভিলেজ পার্ক মালিক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বন্যপ্রাণি পালনের অনুমতি লাগে এ বিষয়ে তার জানা ছিলো না। স্থানীয় জেলেরা তাকে ঘড়িয়ালটি উপঢৌকন হিসেবে দিয়েছিলো। তাই তিনি ঘড়িয়ালের সাথে কয়েকটি কাছিম চৌবাচ্চায় পালন করছিলেন।

তিনি আরও জানান, তার পার্কের কাষ্টম ভ্যাটের নিবন্ধন আছে। তবে বন্যপ্রাণি প্রদর্শনীও করা হয়না।

উপজেলা বনকর্মকর্তা গোলাম মওলা বলেন, উদ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘড়িয়াল ও কয়েকটি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলো পদ্মা নদীর শিলাইদহ ঘাটে অবমুক্ত করা হয়েছে। তবে এবিষয়ে এখনো কোন মামলা হয়নি। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা নির্দেশ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমাদুল হাসানের সাথে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ঘড়িয়াল উদ্ধারের অভিযানের বিষয়ে তিনি জানেন। বনবিভাগ ও মৎস্য বিভাগে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন।