খোকসার বিএনপি নেতারদের পাল্টা পাল্টি বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল

0
36

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়া – ৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে বিএনপির প্রার্থীর পরাজয় কেন্দ্র করে দুই গ্রæপের পাল্টা পাল্টি বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। প্রার্থীর অংশের নেতাদের দাবি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তার অংশের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীকে হারাতে কলকাঠি নেড়েছে। অন্যপক্ষ (সভাপতির অংশ) বক্তব্যে দাবি করেছেন, প্রার্থী ও তার নির্বাচনী এজেন্টরা আওয়ামী লীগ নেতাদের দিয়ে নির্বাচন করানোতে বিএনপি হেরেছে। এই পক্ষ আরও দাবি করছে, দলীয় নেতা কর্মী ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া চাঁদার টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং কর্মী অবমূল্যায়ন করা পরাজয়ের জন্য দায়ী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া – ৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী। আসনের খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল ইসলাম আনছার প্রামানিকসহ এই অংশের নেতাকর্মীরা মনোনয়নের বিরোধিতা করেন। অভ্যন্তরিন বিরোধ না মিটলেও সব পর্যায়ে নেতা কর্মীরা দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর প্রচার প্রচারণা শুরু করেন। ১২ ফেব্রæয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন। পরাজিত অংশের নেতারা এই ফল মেনে নিতে পারেনি। দ্বিধাবিভক্ত বিএনপির দুই অফিসে আলোচনা পর্যালোচনা শুরু হয়। আলোচনা চায়ের দোকান, অফিস পাড়া থেকে গ্রামগঞ্জের মাঠ পর্যন্ত পৌচ্ছায়। শুরু হয় কাঁদা ছুড়া-ছুড়ি।

এ নিয়ে রবিবার দুপুরে খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান তার অফিসে নির্বাচন পরবর্তী পর্যালোচনা সভা ডাকা হয়। এ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক বাহারুল আলম বাহারকে বললে শোনা যায়, তিনি নিজে দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচন করার জন্য ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়েছেন। ভ্যানচালক আলতাব তার উপাজনের একমাত্র অবলম্বন পাখি ভ্যানটি বিক্রি করে মোট টাকা প্রার্থীর হাতে তুলে দেন। ভ্যানচালক মানাই ও মাছ বিক্রেতা জামান প্রত্যেকে ৩০ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য তাদের মত বিএনপি অসংখ্য ভক্ত প্রার্থীর এজেন্টদের কাছে লক্ষলক্ষ টাকা চাঁদা দিয়েছেন। এমনকি আত্মগোপনে থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আল মাসুম মোশেদ শান্ত প্রার্থীকে ৪০ লাখ টাকার চেক পাঠিয়েছে। সে টাকা জনতা ব্যাংক খোকসা পিএনসি শাখা থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী, বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান সব টাকা বাড়ি নিয়ে গেছেন। কর্মী বা ভোটার পর্যন্ত সে টাকায় পৌচ্ছেনি। ফলে কর্মীরা ধানের শীষে ভোট দেয়নি। প্রার্থী যে ভোট পেয়েছেন তার শুধু হিন্দু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোট।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু হেনা মুস্তফা লুলু একই ধরণের বক্তব্য দিয়ে শোনা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, প্রার্থী ও তার দোষররা কর্মীদের মূল্যায়ন করেনি। এ ছাড়া ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দিয়ে নির্বাচন করিয়েছেন। এসব কারনে বিএনপির কর্মীরা দলীয় প্রার্থী ও প্রতীকের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। পরাজয়ের জন্য প্রার্থীর এজেন্টদের দায়ী করেন এই নেতা।

পৃথক ভিডিওতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলউদ্দিন খানকে অভিযোগ করেন, প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট সৈয়দ আমজাদ ও সাধারন সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান তাকে ও উপজেলা বিএনপিকে না জানিয়ে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের নেতাদের বিএনপিতে যোগদান করিয়েছেন। তাদের দিয়ে (আওয়ামী লীগের) নেতাদের দিয়ে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট করিয়েছেন। ফলে বিএনপির কর্মীরা তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। কিন্তু তাকে ও তার কর্মীদের একক ভাবে দুষছেন প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রার্থীর নেতারা। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

এই ভিডিও ভাইরালে একদিন পর মঙ্গলবার বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর অনুগত পৌর বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক রিপন হোসেন খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। খোকসা জানিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বক্তব্যে চমকপ্রদ তুলে ধরেন।

ভাইরাল ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেছেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বাহারুল আলম বাহার ব্যক্তিগত লাভের জন্য নির্বচনী মাঠ ছেড়ে প্রিজাইটিং অফিসারের দায়িত্ব নিয়ে চলে যান। তার কারণেই জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী কমভোট পেয়েছেন। একই ভাবে শিমুলিয়া, ওসমানপুর, বেতবাড়িয়া ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় বিএনপির ধানের শীষ বিগত সব নির্বাচনে তুলনায় এবারে অনেক কম ভোট পেয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খান ও তার দোষররা ধানের শীর্ষের বিপক্ষে দাঁড়ি পাল্লার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তাদের বিরোধীতার জন্য বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক অধ্যক্ষ আনিসুজ্জামানের সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে কল করা হয় কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারী সৈয়দ আমজাদ আলী বলেন, ভাইরাল ভিডিও বক্তব্য তিনি শুনেছেন। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক বাহারুল আলম বাহার একজন দায়িত্বশীল নেতা। কিন্তু তিনি ষোলআনা মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন। প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী রুমী ঢাকা থেকে ফিরলে তারা একটি সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

তিনি দাবি করেন, মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া নেতারা জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের পর দোষি নেতাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চ পর্যাযে অভিযোগ করা হবে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান বলেন, গত বছরের ৩ নভেম্বর সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী নির্বাচনের জন্য বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু দীর্ঘ ২ মাস পর ৩ ফেব্রæয়ারি ঘরোয়া ভাবে সমন্বয়ের জন্য বসেন। যা ছিলো শুধুই লোক দেখানে।

তিনি আরও বলেন, প্রার্থী চুড়ান্ত হওয়ার পর উপজেলা বিএনপি বর্ধীত সভা ডাকার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে দেননি। এ ছাড়া কর্মীদের উপর চাপ দিয়ে ভোট করানোর চেষ্টা করেছেন। কর্মী ও ভোটাররা তার হিসাব করায়-গন্ডায় বুঝে দিয়েছে।

কুষ্টিয়া ৪ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমীর সাথে কথা বলার জন্য তার মুঠো ফোনে কল করা হয় তিনি ফোন রিসিভ করেনি।