কুমারখালীতে ভোটে হেরে বিএনপির পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

0
28

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ৪ (খোকসা- কুমারখালী ) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কাছে পরাজিত যাওয়ার জন্য দক্ষ পরিচালনার অভাবকে দায়ী করেছেন মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি ও যুবদলের নেতা – কর্মীরা।

উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও যুবদলের ব্যানারে বুধবার দুপুরে কুমারখালী হলবাজার সংলগ্ন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে এমন পাল্টা অভিযোগ তোলেন তারা। গত দুই সপ্তাহে কমপক্ষে ৪টি সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপির বিভিন্ন অংশ।

বিএনপির একাংশের দাবি, জাসদ ও জাতীয় পাটি থেকে আসা নেতাদের বিরোধের আগুনে বিএনপির দূর্গ পুড়েছে। অন্য একটি অংশের নেতারা বলছেন, গৃহবিবাদ মেটাতে ব্যর্থ হওয়ার কারনে শুধু এ আসন নয় জেলার তিনটি আসনে হারিয়েছে বিএনপি।

কুমারখালী হল বাজারে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল উদ্দিন বাবু প্রমূখ। আর যুবদলের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম ও ইউনুস আলী প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাধারণ লুৎফর রহমান বলেন, ২২ ফেব্রæয়ারী কুমারখালী বাসস্টান্ড এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলীর আনিত অভিযোগ মিথ্যা, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। মনোনয়নবঞ্চিতদের কারণে নয়, বরং অদক্ষ, অযোগ্য ও অসাংগঠনিক নেতাকর্মী দ্বারা দক্ষ নির্বাচন পরিচালনার অভাবে গত ১২ ফেব্রæয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী সামান্য ভোটে পরাজিত হয়েছেন।’

নির্বাচনে এক লাখ ৪৮ হাজার ২০১ ভোট পেয়ে জিতেছেন জামায়াতের মো. আফজাল হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমী এক লাখ ৩৯ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক।

লুৎফর রহমান বলেন, তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও দল থেকে মেহেদী আহম্মেদ রুমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সবাই প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছেন। তবে প্রার্থী দলের সাংগঠনিক নেতাকর্মীদের বাদ রেখে কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আইনজীবী শাতিল মাহমুদ ও সাবেক জ্যেষ্ঠ আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চুর দ্বারা নির্বাচন করেছেন। যারা বিগত ১৭ বছর কোন আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন না। বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন। ফলে বিতর্কিতদের দ্বারা ভোট পরিচালনা করায় সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ আহবায়ক ওবাইদুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘২২ ফেব্রæয়ারীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। বরং যুবদলের আহবায়ক জাকারিয়া আনছার মিলনের নেতৃত্বে ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন তারা। ভোটের প্রচারণা ছবি ও ভিডিও আছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক বলেন, ‘অযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রার্থীকে ভুল তথ্য দিয়ে ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রার্থী দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। সেজন্য ভোটে পরাজয় হয়েছে। এখন তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ আহবায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রার্থীসহ একাধিকবার মনোনয়নবঞ্চিতদের সঙ্গে বসা হয়েছিল। বসাবসিতে তারা আশ্বাস দিলেও ভিতরে ভিতরে দাঁড়িপাল্লায় ভোট করেছেন। কতিপয় দলীয় নেতাকর্মীদের বেঈমানির কারণেই ধানের শীষ হেরেছে। বেঈমানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জেলা কমিটিকে জানানো হয়েছে।’