কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাম্প গুলোতে জ্বালানী তেলের কৃত্রিম সংকটের সুযোগে খোলাবাজারে ২০০-২৫০ টাকা লিটার পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তাদের এমন মৌখিক অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অভিযানে অভিযোগের উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি প্রশাসন। তবে দোকানে মূল্য তালিকা না থাকা এবং লেনদেনের রশিদ না রাখার অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরামানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার দুপুর পৌণে ১টার দিকে কুমারখালী পৌরসভার বাটিকামারা তরুন মোড় এলাকার মেসার্স দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্স মালিককে জরিমানা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া – রাজাবাড়ী সড়কের কুমারখালীর বাটিকামারা এলাকায় শিপলু ও কাজীপাড়া এলাকায় গাজী নামের দুটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সেখানে গত শুক্রবার থেকে পেট্রল ও অকটেন তেলের সংকট চলছে। সেই সুযোগে তরুনমোড় এলাকার জ্বালানী তেল ব্যবসায়ী মেসার্স দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্সের মালিক দ্বীনবন্ধু সরকার নির্ধারিত দাম প্রায় ১১৭ টাকা লিটারের পরিবর্তে অতিরিক্ত দামে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার মূল্যে পেট্রোল বিক্রি করছেন। ভোক্তাদের এমন মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে অভিযান চালায় প্রশাসন।
এ বিষয়ে কুমারখালী দূর্গাপুর এলাকার মোটরসাইকেল চালক মামুন অর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, পাম্পে তেল নেই। ঈদের দিন দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্স ২৫০ টাকায় এক লিটার তেল দিয়েছে। পাম্পে তেল না থাকায় খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছেন।
তরুণমোড় এলাকার এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, সকালে শিপুল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে শুনি তেল নেই। পরে দ্বীনবন্ধু ২০০ টাকা নিয়ে এক লিটার তেল দিছে। দাম নিয়ে দোকানির সঙ্গে তর্কাতর্কিও হয় এই ব্যবসায়ীর।
জানতে চাইলে শিপলু ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম বলেন, গত শুক্রবার থেকে পাম্পে পেট্রোল ও অকটেন নেই। গ্রাহকরা ফিরে যাচ্ছেন। প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৭ টাকা ৩৪ পয়সার বদলে দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্সের দ্বিগুণের চেয়েও বেশি নেওয়ার খবর শুনেছি।
অভিযোগ অস্বীকার করে মেসার্স দ্বীনবন্ধু ট্রেডার্সের মালিক দ্বীনবন্ধু বলেন, ‘কারো কাছ থেকেই অতিরিক্ত দাম নেওয়া হয়নি। প্রমাণ দিতে পারবে না কেউ।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার জানান, গ্রাহকরা অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করলেও উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি। আবার ওই ব্যবসায়ীও অভিযোগ স্বীকার না করায় এ বিষয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি। তবে মূল্য তালিকা না থাকা এবং লেনদেনের রশিদ সংরক্ষণ না করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ওই ব্যবসায়ীকে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও কঠোরভাবে সতর্কীকরণ করা হয়েছে। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।






