তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধসহ আহত ৭ জন

0
2

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে কোমল পানীয় বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ সহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন – কয়া ইউনিয়নের রাধগ্রামের বাবু শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২২), মকছেদ শেখের ছেলে মো. ওবাইদুল্লাহ (৩০), লিটন শেখের ছেলে জনি শেখ (২০), বেড় কালোয়া গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে শারুফ শেখ (২০), আমজাদ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৪৫), মৃত আকাল উদ্দিনের ছেলে মো. শফিউদ্দিন (৬৫) ও ওবাদুল্লাহ শেখ (৫৫)। তাদের মধ্যে রাব্বি, জনি ও শারুফকে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। অন্যান্যরা গ্রামে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

পুলিশ জানায়, রবিবার সকাল ৯টার দিকে বেড় কালোয়া মোড়ে রতন শেখ কোমল পানি পান করার পর বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারেন। এ সময় ক্যাপটি গিয়ে গ্রামের কাসেট নামের এক ব্যক্তির মাথায় লাগে। তখন ক্যাসেট বকাবকি করলে রতন তাকে মারধর করে। বিষয়টি ক্যাসেট বাড়ি গিয়ে তার ছেলে মামুনকে জানায়। মামুন এসে তার বাবাকে মারধরের কারণ জানতে চাইলে রতন তাকেও মারধর করে। সেসময় ওই মোড়ে থাকা আমজাদ শেখের ছেলে আলম শেখ রতনকে একটা চর মারলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা বিষয়টি মিটমাট করে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রতন বেড় কালোয়া জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিনসহ তাদের লোকজন এসে বেড় কালোয়া জামে মসজিদ এলাকায় দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আলম শেখের পক্ষের অন্তত ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, কৃষিজমিতে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ ছুটাছুটি করছেন। তাদের অনেকের মাথায় হেলমেট পড়া। অনেকের হাতে ঢাল, সরকি লাঠিসোঁটা, আগ্নেয়াস্ত্র।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, আহত জনি, রাব্বি ও শারুফকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। তাদের হাতে, বুকে, পায়ে ছড়রা গুলি ও রক্তাক্ত ক্ষত।

এ সময় আহত জনি শেখ বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টার তারা ১০ – ১২ জন মসজিদ আড্ডা দিচ্ছিলেন। তখন জেলেপাড়ার সরদার সন্ত্রাসী ইয়ারুল শেখ, নাসির উদ্দিন, সোহেল রানাসহ কয়েক’শ সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল, শর্টগান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমিসহ অন্তত ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়েছি।’

আহত মো. রাব্বি বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় সন্ত্রাসী ইয়ারুল তার বাহিনী দিয়ে গুলি করেছে। আমার শরীরে অন্তত ২২ টি গুলি লেগেছে। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই। ‘ তার ভাষ্য, সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে গুলি করছিল প্রতিপক্ষের লোকজন।

জানতে চাইলে মুঠোফোনে আলম শেখ বলেন, সকালে প্রতিপক্ষের রতন একজনের মাথায় আরসির (কোমল পানীয়) বোতলের ক্যাপ ছুড়ে মারলে হালকা পাতলা মারামারি হয়েছিল। সেই ঘটনার জেরে বিকালে ইয়ারুল, রতন, নাসির, সোহেল সহ তাদের লোকজন অতর্কিত হামলা করেছে। এতে আমার সাতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বিচারের আশায় থানায় মামলা করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সূত্রে জানা গেছে, তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে এসেছিল। প্রাথমমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে কি ধরণে গুলি তা বলা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে জেলেপাড়ার সরদার ইয়ারুল শেখের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পূর্বশত্রæতার জেরে হামলা ও গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমমিকভাবে জানা গেছে। এতে এক বেশ কয়েকজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।