ষাঁড় বিক্রির টাকায় পেঁয়াজ চাষ করে বাছুরও কিনতে পারবে না আবু জাফর

0
8

স্টাফ রিপোর্টার

শখ করে পোষা ষাঁড় গরুটি বিক্রি করে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন প্রান্তিক কৃষক আবু জাফর। স্বপ্ন অধিক লাভবান হবেন। ফলন যা পেয়েছে তাতে তিনি খুশি। বাজারে হাইব্রিজ পেঁয়াজের দাম কম, অন্য দিকে সংরক্ষন করা নিয়ে কৃষক বিপাকে পরেছেন। নিজের জমিতে উৎপাদন করা সব পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে এখন একটা বাছুর গরুও কিনতে পারবে না তিনি।

খোকসার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের মুকশিদপুর গ্রামের শাহাদত বিশ্বাসের ছেলে প্রান্তিক কৃষক আবু জাফর। অধিক লাভের আশায় সোনাপাতিল বিলে বাবা’র তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিজ জাতের শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। আবাদের খরচ জোগান দিতে বাড়িতে পোষা ষাঁড় গরুটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। গরু বিক্রির সব টাকা পেঁয়াজ আবাদের জন্য ব্যয় করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলেছেন। বিঘা প্রতি ৭০ মন ফলন পেয়েছেন। তিনি প্রায় ২শ মন পেঁয়াজ পেয়েছেন। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ হাইব্রিড পেঁয়াজ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা মণদরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রতিমণ পেঁয়াজ আবাদে ব্যয় হয়েছে একহাজার থেকে ১২শ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসূমে প্রায় ২৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। হতোমধ্যে ২৫ শতাংশ জমি থেকে পেঁয়াজ তোলা হয়েছে। জাতভেদে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১শ মণ।

সোনাপাতিল বিলে ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন বেতবাড়িয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন। তিনি নিজের জমির সাথে অন্য কৃষকের কিছু জমি ইজারা নিয়ে ছিলেন। প্রতিবিঘা পেঁয়াজের জমির মালিককে ২০-৩০ হাজার টাকা ইজারা দিতে হয়েছে। জমির ইজার টাকা ছাড়াই তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে পুজি ফেরত হতে পারে। লাভ হবে না।

একই বিলে উচ্চ ফলন শীল হাইব্রিড জাতের ক্রস -৮০, মেটাল, কিং, সুপার কিং ও সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন নজরুল ইসলাম, মাসুদসহ কয়েকশ কৃষক। তাদের প্রত্যেকেরই ফলন হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু দাম নিয়ে রয়েছে চরম হতাশা। হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের চাহিদা নেই বলে দাবি কৃষকদের। তারা বলছেন, এই পেয়াজ ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক আবু জাফর জানান, তিনি প্রকৃত পক্ষে তাঁতী সম্প্রদয়ের লোক। কাপড়ের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে তাই লাভের আশায় বাবার জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফলন যা পেয়েছেন তাতে তিনি খুশি। কিন্তু তাদের উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বাজারে চলে না। প্রতিমণ পেঁয়াজ ৬০০ টাকা মণদরে বিক্রি করতে হচ্ছে। জমির খাজনাসহ প্রতিমন পেঁয়াজ আবাদে তাদের ব্যয় হয়েছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকা।

তিনি আরও জানান, শখের ষাঁড় গরু বিক্রি করে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এখন বাজার দর দেখে মনে হচ্ছে সব পেয়াজ বিক্রি করে একটা বাছুর গরুও কিনতে পারবেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, হাইব্রিড পেঁয়াজে একটু রস বেশী থাকায় এই পেঁয়াজ সংরক্ষন একটু কষ্ট সাধ্য। তবে এই পেঁয়াজ সংরক্ষনের জন্য বাজারে কিছু মেশিন এসেছে। পরীক্ষা মূলক ভাবে সে গুলো ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক ফলন হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু কম বলে তিনি স্বীকার করেন।