দুই দিনেও সন্ধ্যান মেলেনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ভ্যান চালকের

0
9

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ ভ্যানচালকের সন্ধান মেলেনি দুই দিনেও। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে গুম করা হতে পারে মনে করছেন পরিবার।

সোমবার ভ্যানচালক আব্দুল আজিম (৩০) নিখোঁজের দ্বিতীয় দিন পার হয়েছে গেলো। শনিবার সন্ধ্যায় খোকসা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পাখি ভ্যান মেরামতে দিয়ে রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হন ওই ভ্যান চালক। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিলজানি তাঁতী পাড়ার মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে। সে দুই সন্তানের পিতা। প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানের সাথে তার মাত্র চার শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সে নিখোঁজের কয়েকদিন আগে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্ততায় ইউনিয়ন পরিষদে শালিসী বৈঠক হয়। সে বৈঠকে ভ্যানচালক আজিমকে দখলী জমি থেকে ঘর ভেঙ্গে নেওয়ার রায় দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে রহস্যজনক ভাবে ভ্যানচালক নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় খোকসা থানায় একটি জিডি রেকর্ড করা হয়েছে।

আজিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে নিজের পাখি ভ্যানে ভাড়া নিয়ে খোকসা বাস স্ট্যান্ডের একটি পরিবহনের কাউন্টারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেড় হন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তার ভ্যান বিকল হয়ে যায়। স্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে মেকারের কাছে ভ্যান সারতে দেওয়ার কিছু সময় পর তিনি রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। ওই মেকার নিখোঁজ ভ্যানচালকের সন্ধ্যানে তার বাড়িতে লোক পাঠান। সে রাতেই পরিবারের পক্ষ থেকে থানা পুলিশের কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হয়।

সোমবার দুপুরে সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিখোঁজ ভ্যানচালকের বিবাদপূর্ণ জমির ঘর কেন্দ্রিক অসংখ্য নারী পুরুষের আনা গোনা। ঘরের ভিতর থেকে নারী কণ্ঠের কান্নার আওয়াজ ভেসে আছে। এ সময় নিখোঁজ ভ্যান চালকের স্ত্রী মনিরা খাতুন দুই সন্তান মাহিম ও আবির সহ বাড়িতে ছিলো না। পরিবারের লোকেরা জানান, পুলিশের সাথে দেখা করতে গেছেন। কাঁচা রাস্তার বিপরিতে প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানের বাড়ি। ওই বাড়ির ভিতর সুনশান নিরবতা। এক গৃহবধূ ছাড়া সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

নিখোঁজ ভ্যানচালকের স্ত্রী মনিরা খাতুনের সাথে খোকসা থানায় দেখা করা হয়। তখন দুপুর দুইটা। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেশ আব্দুল মান্নানের সাথে তাদের দোকান ও বসত ঘরের জমি নিয়ে বিরোধ। কোর্টে মামলা আছে। এই জমি নিয়ে এক শুক্রবার আগে বোর্ড অফিসে শালিস হয়। সেখানে ঘর ভেঙ্গে জমি মুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়। শালিসীর রায় না মানায় প্রতিপক্ষ তাকে হুমকী দিয়ে আসছিলো। জমি কেন্দ্র করে তার স্বামী আজিমকে গুম করা হতে পারে।

তিনি আরও জানান, তার স্বামী আজিম নিখোঁজ হওয়ার আগে থানা পুলিশের কাছে প্রতিপক্ষ মান্নানদের বিরুদ্ধে একাধিক বার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। দুই দিন ধরে থানা মামলা রেকর্ড করবে বললেও আজ (সোমবার) অবশেষে জিডি করতে রাজি হয়েছে।

শালিস বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান আইন উদ্দিন মেম্বর বলেন, তিনি শুরু থেকে এই শালিসের বিরোধিতা করে আসছেন। পরিষদের সালিশ করে উচ্ছেদের প্রস্তাব হয়েছিলো। কিন্তু সে রায় বাস্তবায়নের আর কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে নিখোঁজ ভ্যান চালক আজিমকে উদ্ধার করতে পারলে আসল সত্য পাওয়া যাবে।

নিখোঁজ ভ্যান চালকের প্রতিপক্ষ আব্দুল মান্নানকে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মুঠো ফোনে কল করেও সারা পাওয়া যায়নি।

খোকসা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোশারফ হোসেন জানান, ভ্যানচালক নিখোঁজের ঘটনাটি রহস্যে ঘেরা। জমি জমা নিয়ে বিরোধ কেন্দ্র করে কোন ঘটনা ঘটছে কি না। আবার গ্রামে সালিশ হয়েছিলো। এ ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে একটা জিডি হয়েছে বলে স্বীকার করেন।