কুমারখালী প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সৈয়দ মাছুদ রুমী সেতুতে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। টোল আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন।
বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, সেতুতে টোল আদায়ের নামে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি অটো, সিএনজি ও ভ্যানচালকসহ সর্বস্তরের মানুষকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন টোল আদায় বন্ধ থাকায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ টাকা হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সেতুটির টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে টোলপ্লাজা এলাকা পরিদর্শন করেছে।
সওজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের গড়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেতুর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ওই সময় টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয় এবং পরে টোল আদায়ের চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ জনতা বাধা দেয়। এরপর থেকেই সেতুটিতে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ‘মেসার্স থ্রী স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় তিন বছরের জন্য টোল আদায়ের দায়িত্ব পায়। প্রতিষ্ঠানটি ১২ কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে টোল সংগ্রহ করবে।
আগামী ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় বিরোধিতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।






