কৃষি অফিসের স্লি-পেলেও তেল পেলেন না কৃষক আনছার

0
13

স্টাফ রিপোর্টার

কৃষকদের ডিজেল দেওয়ার মাইকিং শুনে স্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প ও পাওয়ার ট্রেলারের মালিক কৃষক আনছার উদ্দিন ছুটে যান কৃষি অফিসে। সেখানে ভোটার কার্ড ও স্যালো ইনঞ্জিনের নম্বর জমা দিয়ে মূল্য পরিশোদের শর্তে ১ হাজার টাকার ডিজেলের ¯িøপ পেয়েছিলেন। কিন্তু পাম্প থেকে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তেল আসেনি। আগামী কাল (বৃহস্পতিবার) তেল আসলে কৃষকদের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

বুধবার সকালে তার মত কয়েকশ কৃষক খোকসা উপজেলা কৃষি অফিসের প্রত্যয়ণ পত্র ও ¯িøপ নিয়ে নির্দ্ধারিত মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে ডিজেল নিতে আসেন। কিন্তু পেট্রোল পাম্পেরে ম্যানেজার তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ডিলেজ নেই। বৃহস্পতিবার তাদের তেল দেওয়া হতে পারে। এসময় পাম্পে উপস্থিত কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষুদ্ধ কৃষকদের ক্ষোভের মুখে পরেন। পরে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে পেট্রোল পাম্পের আন্ডার গ্রাউন্ডের ফুয়েল ট্যাংকি পরীক্ষা করেন। ট্যাংকারটি ডিজেল শুন্য পেয়ে তিনি ফিরে যান। তবে অনন্যা নামের অপর একটি পাম্প থেকে বেশ কয়েকজন কৃষককে ৫শ লিটার ডিজেল দেওয়া হয়েছে।

ভোগান্তির শিকার কৃষকরা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল দেওয়া হবে বলে মাইকিং করা হয়। সাধারণ কৃষকরা নির্দেশনা মেনে কৃষি অফিস থেকে ডিজেলের জন্য প্রত্যয়ন ও ¯িøপ সংগ্রহ করেন। বুধবার সকালে বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশ কৃষক নির্দ্ধারিত মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে লাইনে দাঁড়ান। বেলা ১০টার দিকে পাম্পের ম্যানেজার তাদের সাফ জানিয়ে দেয় ডিজেল নেই।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগের দিন উপজেলা পরিষদের এক সভায় কৃষকদের মধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে ডিজেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। মাইকে প্রচার করা হয়। উপজেলা সদরের মক্কা মদিনা ও অনন্যা নামের পেট্রোল পাম্প দুটি থেকে একদিন পর একদিন কৃষকদের ডিজেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক বুধবার মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনেডিজেল দেওয়ার জন্য দিন নির্দ্ধারিত ছিলো। পাম্প মালিকের অসহযোগিতার জন্য কৃষকরা হয়রানি শিকার হয়। তবে তারা জানায় অনেক চাষীকে অন্য একটি পাম্প থেকে তেল দেওয়া হয়েছে।

১৫ কিলোমিটার দূরের পদ্মাতীরের আমবাড়িয়া ইউনিয়নের ধোকরাকোল কুঠিপাড়া গ্রামের আনছার উদ্দিন উপজেলা সদরের পেট্রোল পাম্পে ৩০ লিটার ডিজেল নিতে আসেন। কিন্তু কোন পাম্প তাকে এক ফোটা ডিজেল দেয়নি। এক পর্যাযে কৃষি কর্মকর্তার কাছে থেকে ¯িøপ নিয়ে আসেন কিন্তু সেই ¯িøপে তাকে তেল দেওয়া হয়নি। বেলা একটার পর্যন্ত তেল জন্য অপেক্ষায় থেকে নিরুপায় হয়ে তিনি ফিরে যান।

কৃষক আনছার উদ্দিনের একটি স্যালোইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প ও একটি পাওয়ার টেলার চালু আছে। নিজের বøকে সাত বিঘা জমিতে বরো ধান ও ৪ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। প্রতিদিন প্রায় ১০/১১ লিটার ডিজেল তার প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় একমাস ধরে পাম্প থেকে তাকে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না।

ডিজেলের ¯িøপ ও তেলেপাত্র হাতে নিয়ে জানিপুর ইউনিয়নের একতার গ্রামে কৃষক আব্দুর রহমান এসেছিলেন তেল নিতে। তারও একটি স্যালো ইঞ্জিন চালিত সেচ পাম্প রয়েছে। শোমসপুর ইউনিয়নের শোমসপুরের কৃষক জহুরুল ইসলাম, হাসিব উদ্দিন। দুইজন পাওয়াট্রেলার চালক। গত দুইদিন আগে মাঠে পাওয়ার ট্রেলার রেখে এসেছেন। তেলের অভাবে মেশিনটি চালিয়ে বাড়ি নিতে পারছেন না। তাদের মত প্রায় শতাধিক চাষীকে তেলের পাত্র হাতে দেখা যায়। তাদের অভিযোগ প্রতিটি পাম্পে ডিজেল স্টক রয়েছে কিন্তু কৃষকদের ডিজেল দেওয়া হচ্ছে না। এক ট্যাগ অফিসারের দেওয়া তথ্যের সাথে কৃষকদের অভিযোগের মিল খুজে পাওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১২টি গভীর নলকুপে ৩৬ হেক্টর, ৯৯২টি স্যালোইঞ্জির চালিত সেচ যন্ত্রে অধিন ৭২৮৩ হেক্টর, ২২ টি পাওয়ার পাম্পের ২০০ হেক্টর ও জিকে সেচ খালের ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি আবদ হচ্ছে। এসব জমি চাষে ৮টি ট্রাকটর ও ৫২৮টি পওয়ারটেলার চালু রয়েছে। এসব সেচযন্ত্র ও চাষের যন্ত্রের জন্য পতিদিন কয়েক হাজার লিটার ডিজেলের প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় তেলের সুসম বন্টনের জন্য উপজেলা প্রশাসন কৃষকদের এ্যাপের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন শুরু করেছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোকন হোসেন জানান, মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার মিটিং ছিলেন। পাম্পে তেল ছিলো বলে নিশ্চিত করার পর তারা ¯িøপ ও প্রত্যয়ণ দিয়েছেন। কৃষকদের হয়রানির পেছনে ট্যাগ অফিসারের ভূমিকা আছে।

মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ম্যানেজার তরুন জানান, মঙ্গলবার তারা খুলনা ডিপু থেকে ডিজেল লোড করতে পারেনি। ডিজেলের ট্রাংক লড়ি না আসায় তাদের তেল নেই। তেল আসলে কৃষদের মধ্যে দেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন তাদের সাথে আলাপ না করে মাইকিং করেছে। একই ভাবে কৃষি বিভাগ তেলের ¯িøপ দিয়েছে। মাইকংএর বিষয়ে তারা জানা নেই বলে দাবি করেন।

মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপজেলা ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হানকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

তবে অনন্যা পেট্রোল পাম্পের ট্যাগ অফিসার মিলোন হোসেন খান জানান, বুধবার কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কিছু কৃষককে ডিজিল দেওয়া হয়েছিলো। এর পরেও ওই পাম্পের নিয়মিত কিছু গাড়ির জন্য ২ হাজার লিটার ডিজেল রাখা ছিলো।

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপসহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, কৃষকদের জন্য নির্দ্ধারিত পাম্পে ডিজেল না থাকায় অন্য পাম্প থেকে ডিজেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন মিটিংএ নির্দ্ধারিত পাম্প থেকে কৃষকদের ডিজেল দেওয়া হয়নি। তবে অন্য একটি পাম্প থেকে কিছু কৃষকে ডিজেল দেওয়া হয়েছে । তবে তার পরিমান জানেন না।