বৃহস্পতিবার, মে ১৪, ২০২৬.
Home Blog Page 554

শেকড় বাকড়ের আড়ালের স্মৃতি

0
কালের স্বাক্ষী হিজলাবট মৈত্রি বাড়ি

কঙ্কালসার বিশাল ভবনটির ইট সুড়কির স্তুপ গুলোকে আলগে রেখেছে আগাছার শেকড়-বাকড়ে। উপমহাদেশের প্রখ্যাত নায়িকা কানন বালা দেবির শ্বশুর বাড়ি। হিজলাবট মৈত্রি বাড়ি। এই বাড়িটি নীলকর সাহেবদের দখলে ছিল বলেও জনশ্রুতিও রয়েছে। স্থানীয়রা ভবনটি ধ্বসে পরার আতঙ্কে রয়েছে।

ধ্বংশের দুয়ারে পৌচ্ছে গেছে বাড়িটি।

শেকড়-বাকড়ে আটকে আছে ইট 

ইটের ছাদের নিচে ব্যবহার করা কাঠ এখনো ঝলক দিচ্ছে।
ঝোড় ঝাপে ভরা বাড়ির দ্বীতল ভরেন একাংশ
কাঠের তৈরী বিশাল জানালা
পাহাড়ী কচুর পাতায় ঢেকে গেছে পূর্বদিকের ওেয়াল।

 

২০ জানুয়ারী শহীদ আসাদ দিবস

0
সংগৃহীত ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

২০ জানুয়ারি শহীদ আসাদ দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে ছাত্রসমাজের ১১ দফা মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন।

পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এ দেশের ছাত্রসমাজের ১১ দফা কর্মসূচির মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। তার স্মরণে দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শহীদ আসাদ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন।

আসাদ শহীদ হওয়ার পর তিনদিনের শোক পালন শেষে ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ছয় দফা ও ছাত্রদের ১১ দফার ভিত্তিতে সর্বস্তরের মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার নামে ঢাকাসহ সারাদেশে। সংঘটিত হয় ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। পতন ঘটে আইয়ুব খানের।

শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

টিকা কার্যক্রমের উদ্বোধন বুধবার

0
প্রতিকী ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

বুধবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে করোনা টিকা দেয়া শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রথম একজন নার্সের শরীরে প্রয়োগের মধ্য দিয়ে দেশে টিকা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা সাড়ে ৩টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সেই প্রথম ৫ জনের ওপর টিকার প্রয়োগ সরাসরি প্রত্যক্ষ করবেন।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহমদ হাসপাতালের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিকাল ৩টায় প্রাথমিক ড্রাই রান করা হবে। এছাড়াও হাসপাতালের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রায় ১০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ কর্মসূচি আরও গতি পাবে এদিনই এই হাসপাতালে সম্মুখ সারিতে থাকা বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিত্বকারী ২৪ জনের একটি দলকে টিকা দেয়ার মাধ্যমে। সেই তালিকায় চিকিৎসক, নার্স, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশার মানুষ যুক্ত থাকবে।

আর পরদিন ২৮ জানুয়ারি এই হাসপাতালের সঙ্গে আরও চারটি হাসপাতালে করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। এগুলো হচ্ছে- ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

এসব হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দিয়েই এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান। তিনি বলেছেন, এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে, তাদের মধ্যে কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা সেটা দেখা হবে।
গত ২০ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার দেওয়া অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা দেশে এসে পৌঁছায়। সোমবার দেশে এসে পৌঁছেছে সরকারের কেনা তিন কোটি টিকার প্রথম চালান ৫০ লাখ ডোজ।

এই ৭০ লাখ টিকার ভেতরে ৬০ লাখ টিকা দেয়া হবে প্রথম মাসে, দ্বিতীয় মাসে দেয়া হবে ৫০ লাখ, তৃতীয় মাসে দেয়া হবে আবার ৬০ লাখ। প্রথম মাসে টিকা পাওয়াদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে তৃতীয় মাসে। আর এ হিসাবে টিকা বিতরণ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। কেনা টিকা দেশে আসার পর ঢাকা থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস চুক্তি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলাতে টিকা পৌঁছে দেবে।

ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের আরো তিন নেতা বহিস্কার

0
প্রতিকী ছবি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এনিয়ে দুই দফাই ছয় জনকে বহিস্কার করা হলো।

মঙ্গলবার বিকালে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. আছাদুজ্জামান আছাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফাই বহিস্কার হলেন – উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান টানু মল্লিক, সাবেক সদস্য রবিউল ইসলাম ওরফে পিলু মল্লিক, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ ওরফে আজাদ মল্লিক।

নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণা, মানববন্ধন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে প্রথম দফায় হরিণাকুন্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মশিউর রহমান জোয়ার্দ্দার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ ও বর্তমান মেয়র শাহিনুর রহমান রিন্টুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে- হরিণাকুন্ডু পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী ফারুক হোসেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় নির্দেশে দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

৩০ জানুয়ারি এ পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন। নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে লড়ছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. ফারুক হোসেন। তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতিসহ মনোনয়ন বঞ্চিতরা

সিলেটে যুক্তরাজ্যফেরত ২৮ জনের করোনা

0
প্রতিকী ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে আসা ২৮ যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমানন্দ ম-ল জানান, গত ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের এক ফ্লাইটে সিলেট আসা ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮ জনের করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছে।

তিনি জানান, ২১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি ফ্লাইটে সিলেটে আসেন ১৫৭ যাত্রী। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের চার দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে নেওয়া হয়।

কোয়ারেন্টিন শেষে গত রবিবার তাদের করোনাভাইরাসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে সোমবার রাতে ২৮ জনের পজেটিভ ফল আসে বলেন তিনি।

এই অসুস্থদের খাদিমপাড়া ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে নতুন স্ট্রেইনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির পর চলতি মাস থেকে যুক্তরাজ্য ফেরত ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার পর ৪ জানুয়ারি থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি ফ্লাইটে ৪০০ জন যাত্রী যুক্তরাজ্য থেকে সিলেটে আসেন।

এসব যাত্রীদের নিজস্ব খরচে থাকার জন্য সিলেটে বেশ কয়েকটি হোটেল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন পালন করেছেন ৪১ জন। নতুন নিয়মে কোয়ারেন্টিন শেষ করে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭২ জন বাড়ি ফিরেছেন।

১৩ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে যুক্তরাজ্য ফেরত ব্যক্তিদের জন্য নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের সময়কাল কমিয়ে চার দিন এবং করোনাভাইরাস পরীক্ষার পর নেগেটিভ ফল এলে বাড়ি ফিরে আরও ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পরীক্ষায় পজিটিভ ফল এলে তাদের সরকার নির্ধারিত আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

শৈলকুপায় শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তি প্রদান

0
Shailkupa-dro-26-p-1

শৈলকুপা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় অর্ধশত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা সহায়ক উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভাটবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষা সহায়ক উপবৃত্তি প্রদান করা হয়।

মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ নামের একটি সেবামুলক সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা লিজা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদুন্নবী কালু, কাতলাগাড়ী কলেজ অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান, প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ। রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক উজ্জল আলী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অবিরাম উন্নয়নে বাংলাদেশ এর সভাপতি উজ্জল আলী জানান, এই সংগঠনের ব্যানারে তারা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন সেবামুলক কর্মমান্ড পরিচালনা করে আসেছেন। এ বছর মাধ্যমিক স্তরের প্রায় ৫৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়ক উপবৃত্তিদেয়া হচ্ছে।

স্মৃতির পাতায় ঊনসত্তরের অগ্নিঝরা দিনগুলো

0
তোফায়েল আহমেদ -ফাইল ছবি

তোফায়েল আহমেদ

প্রতি বছর বাঙালি জাতির জীবনে যখন জানুয়ারি মাস ফিরে আসে তখন ১৯৬৯-এর অগ্নিঝরা দিনগুলো স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে। প্রত্যেক মানুষের জীবনে উজ্জ্বলতম দিন আছে। আমার জীবনেও কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা আছে। ‘ঊনসত্তর’ আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ কালপর্ব। এই কালপর্বে আইয়ুবের লৌহ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে বাংলার ছাত্রসমাজ ’৬৯-এর ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। জীবনের সেই সোনালি দিনগুলোর প্রতিটি মুহূর্তের কথা মনে পড়ে। অনেক সময় ভাবি, কী করে এটি সম্ভব হয়েছিল!

স্মৃতিকথা লিখতে বসে মনে পড়ছে, ডাকসুসহ ৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে ’৬৯-এর ৪ জানুয়ারি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে ওঠার কথা। মনে পড়ে ১১ দফা আন্দোলনের প্রণেতাÑ ছাত্রলীগ সভাপতি প্রয়াত আবদুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী; ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ) সভাপতি প্রয়াত সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা; ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল্লাহ এবং এনএসএফের একাংশের সভাপতি প্রয়াত ইব্রাহিম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম মুন্সীর কথা। এই ছাত্রনেতাদের প্রত্যেকেই ছিলেন খ্যাতিমান। আমি ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করি। আমার সঙ্গে ছিলেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নাজিম কামরান চৌধুরী। ’৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ১১ দফা প্রণয়নের পর এটাই প্রথম কর্মসূচি। এর আগে আমরা ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছি। ১৭ জানুয়ারি মাত্র শ’পাঁচেক ছাত্র বটতলায় জমায়েত হয়েছিল। ডাকসুর ভিপি হিসেবে আমার সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে গভর্নর মোনায়েম খান ১৪৪ ধারা জারি করেছে। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব ছিল সিদ্ধান্ত দেয়ার ১৪৪ ধারা ভাঙব কি ভাঙব না। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, এমনকি গুলিও চলতে পারে, গ্রেপ্তার তো আছেই। জমায়েতে উপস্থিত ছাত্রদের চোখে-মুখে ছিল ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দৃঢ়তা। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে শ’পাঁচেক ছাত্র নিয়ে রাজপথে এলাম। পুলিশ বাহিনী আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। আমরাও সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চেষ্টা করি। শুরু হয় কাঁদানে গ্যাস আর ফায়ারিং। ছাত্রলীগ সভাপতি আবদুর রউফ ঘটনাস্থলেই আহত হন। আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসি।

পরদিন ১৮ জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও ঢাকা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মঘট পালনের কর্মসূচি দেই। ১৮ জানুয়ারি বটতলায় জমায়েত। যথারীতি আমি সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট ছিল বিধায় সকালে বটতলায় ছাত্র জমায়েতের পর খ- খ- মিছিল এবং সহস্র কণ্ঠের উচ্চারণÑ ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই, আইয়ুব খানের পতন চাই।’ গতকালের চেয়ে আজকের সমাবেশ বড়। সেদিনও ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিল। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজপথে নেমে এলাম। দাঙ্গা পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ আর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করল। ফিরে এলাম ক্যাম্পাসে। পরদিন ছিল রবিবার। সে সময় রবিবার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকত। কিন্তু প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল। কর্মসূচি নেয়া হলো ১৯ জানুয়ারি আমরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল করব এবং ১৪৪ ধারা ভাঙব। আমরা মিছিল শুরু করি। শুরু হয় পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ। কিন্তু কিছুই মানছে না ছাত্ররা। শঙ্কাহীন প্রতিটি ছাত্রের মুখ। গত দুদিনের চেয়ে মিছিল আরো বড়। পুলিশ গুলি চালাল। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রলীগের কর্মী আসাদুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন রাজপথে। বাড়ি দিনাজপুর। ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি শহীদ হন। পুলিশের বর্বরতা ও গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ জানুয়ারি সোমবার আবার বটতলায় সমাবেশের কর্মসূচি দেই। ২০ জানুয়ারি ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের মাইলফলক। এ দিন ১১ দফার দাবিতে ঢাকাসহ প্রদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালিত হয়। সভাপতির আসন থেকে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলার পরিসর সমাবেশের তুলনায় ছোট। তিন দিনে আমরা সাধারণ ছাত্র ও বিপুলসংখ্যক জনসাধারণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। যখন সভাপতির ভাষণ দিচ্ছি তখন মিল-কারখানা, অফিস-আদালত থেকে দলে দলে মানুষ আসছে বটতলা প্রাঙ্গণে। সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে সভাপতির ভাষণে সেদিন বলেছিলাম, যতদিন আগরতলা মামলার ষাড়যন্ত্রিক কার্যকলাপ ধ্বংস করে প্রিয় নেতা শেখ মুজিবসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্ত করতে না পারবো, ততদিন আন্দোলন চলবে। স্বৈরশাসক আইয়ুব-মোনায়েম শাহীর পতন না ঘটিয়ে বাংলার ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরবে না।’ পুনরায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘোষণা দিলাম। লাখো মানুষের মিছিল নেমে এলো রাজপথে। কোথায় গেল ১৪৪ ধারা! আমরা ছিলাম মিছিলের মাঝখানে। মিছিল যখন আগের কলাভবন বর্তমান মেডিকেল কলেজের সামনে ঠিক তখনই গুলি শুরু হয়। আমি, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী ও আসাদুজ্জামান একসঙ্গে ছিলাম। আমাদের লক্ষ্য করে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর গুলি ছোড়ে। গুলি লাগে আসাদুজ্জামানের বুকে। সঙ্গে সঙ্গে ঢলে পড়ে আসাদ। আসাদকে ধরাধরি করে মেডিকেল কলেজের দিকে নেয়ার পথে আমাদের হাতের ওপরেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। একজন শহীদের শেষ নিঃশ্বাস স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলাম। মৃত্যু এত কাছে হাতের উপর! মেডিকেলের সিঁড়িতে আসাদের লাশ রাখা হলো। তার গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত শার্টটি সংগ্রামের পতাকা করে আসাদের রক্ত ছুঁয়ে শপথ গ্রহণ করে সমস্বরে আমরা বলি, ‘আসাদ তুমি চলে গেছ। তুমি আর ফিরে আসবে না আমাদের কাছে। তোমার রক্ত ছুঁয়ে শপথ করছি, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মায়ের কোলে ফিরে যাবো না।’ এরপর ছুটে গেলাম শহীদ মিনার চত্বরে। আসাদের মৃত্যুর খবর ঘোষণা করলাম শোকার্ত জনতার মাঝে। আসাদের রক্তাক্ত শার্ট সামনে রেখে সমাবেশের উদ্দেশে বললাম, ‘আসাদের এই রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না’ এবং ২১ জানুয়ারি পল্টনে আসাদের গায়েবানা জানাজা ও ১২টা পর্যন্ত হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করি। আমাদের সত্তা ও অস্তিত্ব আসাদের রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ হলো। শহীদ মিনার থেকে শুরু হলো শোক মিছিল। শোক মিছিল মুহূর্তেই লাখো মানুষের বিক্ষোভ মিছিলে পরিণত হলো। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। শোক মিছিলের সম্মুখভাগ যখন তিন নেতার সমাধি সৌধের কাছে তখন সেনাসদস্যরা মাইকে বলছে, ‘ডোন্ট ক্রস, ডেঞ্জার-ডেঞ্জার, ডোন্ট ক্রস!’ কিন্তু শোক মিছিল শোকে আর ক্ষোভে উত্তাল। ‘ডেঞ্জার’ শব্দের কোনো মূল্যই নেই সেই মিছিলের কাছে। মিছিল থামল না, নির্ভয়ে এগিয়ে গেল। ২১ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত হরতাল কর্মসূচি সফলভাবে পালিত হলো। এরপর চারদিক থেকে স্রোতের মতো মানুষের ঢল নামল পল্টন ময়দানে। মাইক, মঞ্চ কিছুই ছিল না। পল্টনে চারাগাছের ইটের বেষ্টনীর ওপর দাঁড়িয়ে বক্তব্য রাখতে হলো। বক্তৃতার পর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করি : ২২ জানুয়ারি শোক মিছিল, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন। ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মশাল মিছিল, পরে কালো পতাকাসহ শোক মিছিল।

২৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল। ২২ জানুয়ারি ঢাকা নগরীতে এমন কোনো বাঙালি দেখিনি যার বুকে কালো ব্যাজ নেই। বাড়িতে, অফিসে সর্বত্রই কালো পতাকা উড়ছে। একমাত্র ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া ঘৃণা প্রকাশের এই প্রতীকী প্রতিবাদ ছিল সর্বত্র। ২৩ জানুয়ারি, শহরের সমস্ত অলিগলি থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বের হয় মশাল মিছিল। সমগ্র ঢাকা পরিণত হয় মশালের নগরীতে। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। চোখে না দেখলে লিখে বোঝানো যাবে না। ২৪ জানুয়ারি সর্বাত্মক হরতাল পালিত হলো। সর্বত্র মানুষের একটাই প্রশ্ন, ‘শেখ মুজিব কবে মুক্তি পাবে?’, ‘কবে আগরতলা মামলা তুলে নেয়া হবে?’ ঢাকায় এ ধরনের আলোচনাই চলছিল। হরতালের পরও মিছিলের বিরাম নেই। সমগ্র বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থানের প্রবল বিস্ফোরণে প্রকম্পিত, অগ্নিগর্ভ। জনরোষ নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখা যে কত কঠিন সেদিন মর্মে মর্মে অনুভব করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে সেনাবাহিনী, ইপিআর এবং পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে বিক্ষোভ দমনে। যত্রতত্র গুলি চালাতে থাকে। সে গুলিতেই শহীদদের তালিকায় যুক্ত হয় মতিউর, মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরো অনেক নাম। লাখো মানুষ নেমে আসে ঢাকার রাজপথে। মানুষের পুঞ্জীভূত ঘৃণা এমন ভয়ঙ্কর ক্ষোভে পরিণত হয় যে, বিক্ষুব্ধ মানুষ ভয়াল গর্জন তুলে সরকারি ভবন ও সরকার সমর্থিত পত্রিকাগুলোয় আগুন ধরিয়ে দেয়। ‘দৈনিক পাকিস্তান’, ‘মর্নিং নিউজ’ এবং ‘পয়গাম’ পত্রিকা অফিস ভস্মীভূত হয়। আগরতলা মামলার প্রধান বিচারপতি এস রহমান তার বাসভবন থেকে এক বস্ত্রে পালিয়ে যায়। নবাব হাসান আসকারি, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য এন এ লস্কর এবং রবীন্দ্রসংগীত নিষিদ্ধকারী খাজা শাহাবুদ্দীনসহ আরো কয়েক মন্ত্রীর বাসভবনে আগুন দেয়া হয়।

ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউশনের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমানের লাশ নিয়ে আমরা পল্টনে যাই। লাখ লাখ মানুষ পল্টনে সমবেত হয়। জানাজা অনুষ্ঠিত হয় পল্টন ময়দানে। বিক্ষুব্ধ জনতা গভর্নর হাউস আক্রমণ করতে চায়। বিনা মাইকে বক্তৃতা করে সংগ্রামী জনতাকে শান্ত করে মতিউরের লাশ নিয়ে পল্টন ময়দান থেকে গণমিছিল নিয়ে আমরা ইকবাল হলের মাঠে আসি। যে মাঠে এসেছিলেন সদ্য-সন্তানহারা শহীদ মতিউরের পিতা আজহার আলী মল্লিক। তিনি ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেছে দুঃখ নাই। কিন্তু আমার ছেলের এই রক্ত যেন বৃথা না যায়।’ যখন ইকবাল হলে পৌঁছলাম তখনই রেডিওতে ঘোষণা করা হলো ঢাকা শহরে কারফিউ বলবতের কথা। মতিউরের পকেটে নাম-ঠিকানাসহ এক টুকরো কাগজে লেখা ছিল, ‘মা-গো, মিছিলে যাচ্ছি। যদি ফিরে না আসি মা, মনে কোরো তোমার ছেলে বাংলার মানুষের মুক্তির জন্য, শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছে। ইতিÑ মতিউর রহমান, ১০ম শ্রেণি, নবকুমার ইনস্টিটিউশন। পিতা আজহার আলী মল্লিক, ন্যাশনাল ব্যাংক কলোনি, মতিঝিল।’ কারফিউর মধ্যেই আমরা মতিউরের লাশ নিয়ে গেলাম ন্যাশনাল ব্যাংক কলোনিতে। আমরা পিতা-মাতার আকুল আর্তনাদের আশঙ্কা করছিলাম। কিন্তু মা শুধু আঁচলে চোখ মুছে বলেছিলেন, ‘আমার ছেলে চলে গেছে দুঃখ নাই! আজ থেকে তুমি আমার ছেলে। মনে রেখো, যে জন্য আমার ছেলে রক্ত দিয়ে গেল, সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়।’ শহীদ মতিউরের পিতা ২০১৭-এর ১৭ জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন। মতিউরের কবরেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত। তার কথা সবসময় মনে করি। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সহযোগিতায় উত্তরায় তার জীবদ্দশায় একটি প্লট দেয়া হয়। যেখানে ৬ তলা ভবন নির্মিত হয়েছে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই অবস্থান করতেন।

অনেক সময় চিন্তা করি, যদি বঙ্গবন্ধু ৬ দফা কর্মসূচি না দিতেন তবে আগরতলা মামলা তথা ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ মামলা হতো না; আগরতলা মামলা না হলে প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু মুজিবসহ সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ১১ দফাভিত্তিক গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হতো না; আর ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে এক মাথা এক ভোটের ভিত্তিতে ’৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচন হতো না এবং সেই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন না পেলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম চিহ্নিত হতো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আন্দোলন হিসেবে। ফলত, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সবার জাতীয় ঐক্য যে নিশ্চিত হয়েছিল, তার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল ৬ দফা ও ’৭০-এর নির্বাচনী ফলাফল। সুতরাং ৬ দফা থেকে ১১ দফা হয়ে ১ দফা তথা স্বাধীনতার কর্মসূচিতে পৌঁছানোর এই নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এক সূত্রে গাথা। সেদিন ছাত্রসমাজ সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে সংগ্রাম করেছে। সোনালি সেই দিনগুলোর কথা ভাবলে গর্বে বুক ভরে ওঠে। তখনকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল রাজনৈতিক নেতা তৈরির কারখানা। সহনশীল ও পরমতসহিষ্ণু থেকে সামাজিক সম্পর্ক অটুট রেখে আমরা রাজনীতি করেছি। মানুষের সুবিপুল আস্থা আর বিশ্বাস আমাদের ওপর ছিল বলেই দেশব্যাপী তুমুল গণআন্দোলন সংঘটিত করতে পেরেছিলাম। আমরা মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছি। শহীদ মতিউরের মা ক্রন্দনরত অবস্থায় বলেছিলেন, ‘আমার সন্তানের রক্ত যেন বৃথা না যায়।’ শহীদ মতিউরের রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেইনি। ২০ জানুয়ারি আসাদের রক্তের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সেই আন্দোলনের সফল পরিণতি বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি, প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার প্রাপ্তি, ’৭০-এর নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ এবং পরিশেষে ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে মহত্তর বিজয় অর্জন। আর এসব অর্জনের ড্রেস রিহার্সেল ছিল ’৬৯-এর অগ্নিঝরা দিনগুলো যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে এবং থাকবে চিরদিন।

তোফায়েল আহমেদ : আওয়ামী লীগ নেতা, সংসদ সদস্য; সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করতে : তাইওয়ানের আকাশে চীনা যুদ্ধবিমান

0
তাইওয়ানের আকাশে চীনা যুদ্ধবিমান-সংগৃহীত ছবি

দ্রোহ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাইডেন প্রশাসনকে সতর্ক করতে তাইওয়ানের আকাশে দুইদিন যুদ্ধবিমানের মহড়া দিয়েছে চীন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিকের ইঙ্গিত দেওয়ার পরই এমন মহড়া চালায় চীন।

শনিবার দক্ষিণ চীন সাগরে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা অঞ্চলে চীনের চারটি যুদ্ধবিমান ও আটটি বোমারু বিমান প্রবেশ করে। রবিবার একই এলাকায় ১৫টি যুদ্ধবিমান ওড়ায় বেইজিং।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন ছয়টি জে-১০ ফাইটার, চারটি জে-১৬এস, দুটি এসইউ-৩০এস, একটি ওয়াই-১৮ পরিদর্শক বিমান এবং দুটি ওয়াই-৮ অ্যান্টি সাবমেরিন যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, আকাশ সতর্কতা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, রেডিও সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং কর্মকা- পর্যবেক্ষণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।

চসিক নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার : কাদের

0
ওবায়দুল কাদের ফাইল ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

সরকার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে (চসিক) কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের জনগণ যাকে খুশি তাকেই ভোট দেবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দেবে সরকার।

সোমবার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় অবিরাম পরিশ্রম করছে। এ দেশের রাজনীতিতে সততার অনন্য নজির বঙ্গবন্ধুর পরিবার। এ পরিবার থেকে সবাইকে শিক্ষা নিতে হবে, সততা ও সুমহান ত্যাগের।

আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ক্ষমতার দাপট না দেখিয়ে জনমানুষের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। ভোগের লিপ্সা পরিহার করে ত্যাগের মহিমায় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জীবনকে সাজাতে হবে। দেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অবিরাম লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং গণতন্ত্রের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করার পাশাপাশি নিজেদের পরিশুদ্ধ করার লড়াইও এগিয়ে নিতে হবে। আগামীর রাজনীতি হবে শুদ্ধতার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর বিজ্ঞানসম্মত।

তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে পিছিয়ে দিতে চায়, তাদের অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আর সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকার বাধা দিচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মুখে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কথা ভূতের মুখে রাম রাম ধ্বনির মতো। আন্দোলনের নামে সহিংসতা ছড়ানো, মিছিলের নামে জনগণের সম্পদ পুড়িয়ে দেয়া কোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হতে পারে না।

তিনি বলেন, যারা মানুষ হত্যার রাজনীতি করে, সন্ত্রাস আর দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা করে, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবে, এ দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে না। বিএনপির কর্মসূচি দেখলে সরকার নয়, জনগণই ভয়ে আতঙ্কিত থাকে।

বিএনপিকে প্রতিহিংসার রাজনীতির জনক বলেও দাবি করেন তিনি।

খোকসার পৌরভার মেয়রের সংবর্ধনা

0
সদর উদ্দিন খান

আপনাদের সহযোগীতাপেলে এটি মডেল পৌরসভা হবে – সদর উদ্দিন খান

ষ্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র তারিকুল ইসলাম এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকালে পৌর ভবন চত্বরে পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান বলেন, খোকসা পৌরবাসী সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম তারিককে বিপুল ভোটের ব্যবধ্যানে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত করেছেন। পৌরবাসী তথা খোকসা বাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই নেতা।

তিনি আরো বলেন, আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে পৌর মেয়র তারিক কে সহযোগিতা করুন, আগামীতে খোকসা পৌরসভা একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে উপহার দেব।

খোকসা পৌর সভার নব নির্বাচিত মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম সংবার্ধত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জাহিদ হোসেন জাফর, কুমারখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মান্নান আব্দুল মান্নান খান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড: হাসানুল আজকার হাসু, জেলার শ্রমবিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মফিজুর রহমান মোমিজ, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বিটু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খান, আরিফুল আলম তসর, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম, খোকসা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের খোকসা উপজেলা সভাপতি সুপ্রভাত মালাকার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম রেজা, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শিমুল আহমেদ খান প্রমুখ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মতি জোয়াদ্দার।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রেমিকার বাড়িতে অনুশনরত যুবক বিষ পান করেছে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফরম টিকটকে ভিডিও দেখে ফেসবুকে তরুণীর সাথে পরিচয়। পরিচয় থেকে গড়ে ওঠে প্রেম। প্রেমের পরিণতি দিতে বিয়ে করতে বগুড়া থেকে কুষ্টিয়ায়...

ঝিনাইদহে মানব কল্যাণ সংস্থা’র পথচলা শুরু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ঝিনাইদহে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সীমান্ত মানব কল্যাণ সংস্থা’র যাত্রা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ঝিনাইদহ সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সংগঠনটিকে সরকারি নিবন্ধন সনদ...

মাজারে মেলা দেখতে এসে গৃহবধূ ধর্ষিত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় একটি মাজারের মেলা দেখতে এসে এক গৃহবধূ (২১) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত নিশান (২২) নামের...

কুষ্টিয়ায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রচার কার্যক্রম জোরদার করতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে এক গ্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত...

শৈশবের বৃষ্টি ভেজা ফুটবল

এক পসলা বৃষ্টির জমেছে থাকা পানিতে ফুটবল খেলায় মেতেছে শিশুরা। কুষ্টিয়ার খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ থেকে বুধবার বিকালে ছবিটি তোলা।