কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিকে বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে কমিটি বাতিল ও নতুন কমিটি ঘোষণার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলটির ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সেই সাথে অবিলম্বে বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
তিন দিনের এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৮ জানুয়ারি বিতর্কিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, ১২ জানুয়ারি ঢাকায় বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও অনশন এবং আগামী ১৬ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় অনশন ও বিক্ষোভ সমাবেশ।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিমুল হাসান অপু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির ত্যাগী ও পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির দুই সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গত বছরের ৪ নভেম্বর অনুমোদিত হয়। আমাদের সকলের প্রত্যাশা ছিল অনুমোদিত কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির ত্যাগী, পরীক্ষিত ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরে কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি গঠন করবেন। কিন্তু গত ৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সেই পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটিতে দীর্ঘ ১৬ বছর যারা আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাদের যোগ্যতা রয়েছে ও যাদের নামে অসংখ্য মামলা রয়েছে তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে মাইনাস করা হয়েছে। পক্ষান্তরে ওই কমিটিতে যুগ্ম আহবায়ক ও সদস্য পদে যারা স্থান পেয়েছেন তাদের অধিকাংশই আহবায়ক ও সদস্য সচিবের একান্ত আস্থাভাজন ও অনুগত। যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে না থাকার থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিগত আওয়ামী সরকারের সাথে আতাতের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ওই পরিস্থিতিতে আমরা ত্যাগী, বঞ্চিত নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে ওই বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে গত বছরের ০৬ নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিল এবং গত ১৭ নভেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। এর পাশাপাশি ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, খুলনা বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আমানউল্লাহ আমানসহ বিভাগীয় সকল নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের অভিযোগ লিখিত আকারে প্রেরণ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম খুব শীঘ্রই আমাদের সমস্যার সমাধান আমরা পাব। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বা সমাধানের কোন উদ্যোগ না গ্রহণ করায় আমরা ভীষনভাবে আশাহত। তাই আমাদের দাবি আদায়ের চলমান লড়াইকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমারা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম রিন্টু, কাজল মজমাদার, জেলা বিএনপির সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান পিন্টু, জেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি গোলাম কবিরসহ দলের পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।