বিএনপির ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এ সময় দলটির সর্বস্তরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী ভিড় করেন সেখানে। আগত নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে গোটা এলাকা মুখর হয়ে ওঠে।
তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এর পর মাজার প্রাঙ্গণে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি , দলীয় চেয়ারপারসন অসুস্থ খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডাঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা শাহ নেসারুল হক প্রমুখ।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের অনুসারীদের একমঞ্চে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দিনটি উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
মেহেরপুরের গাংনী মেয়রের বিরুদ্ধে ঘুষ নেবার অভিযোগ
‘ঘুষের টাকা’ ফেরত পেতে মা-মেয়ে বসেছে আমরণ অনশনে
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভায় চাকরি দেবার প্রতিশ্রুতিতে ১৫ লাখ টাকা ঘুুষ নিয়েছিলেন পৌরমেয়র। ঘুষের সে টাকা ফেরত পেতে অমরণ অনশন শুরু করেছেন ভুক্তভোগী মা- মেয়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে গাংনী উপজেলা পরিষদ শহীদ মিনার চত্বরে শিশিরপাড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন ওরফে বাহাদুরের মেয়ে মৌমিতা খাতুন পলি শুরু করেছেন আমরণ অনশন।
ভুক্তভোগী মা-মেয়ে জানান, গাংনী পৌরসভায় সহকারী কর আদায়কারী পদে নিয়োগের জন্য পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয়। জামি-জমা বন্ধক রেখে, ধারদেনাসহ বিভিন্ন এনজিও মানুষের কাছে চড়া সুদে টাকা নিয়ে মেয়রকে দেওয়া হয়েছে। পৌর মেয়রের নির্দেশেই ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক মেহেরপুর শাখায় মেয়র আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী জেলা পরিষদ সদস্য সাহানা ইসলাম শান্তনার ৬৪৫৪ নম্বর (হিসাবে) একাউন্টে ৫ লাখ ৭০ হাজার, ২৫ জানুয়ারি ৫০ হাজার, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। বাকি টাকা নগদে দেওয়া হয়।
তারা আরও বলেন, ২০১৮ সালের ১৯ মে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আমাকে নিয়োগ না দিয়ে অন্য একজনকে সহকারী কর আদায়কারী পদে নিয়োগ দেন মেয়র আশরাফুল। উক্ত পোষ্টে নিয়োগ না দেওয়ায় টাকা ফেরত চেয়ে বারবার তাগাদা দিলেও কোন কর্নপাত না করে মারধর ও হুমকি দিয়ে পৌরসভা থেকে আমাদের বের করে দেওয়া হয়। অবশেষে বাধ্য হয়ে সঠিক বিচার দাবী করে ও টাকা ফেরত চেয়ে ২০ আগস্ট বিকাল থেকে রাত ৯টা অবধি গাংনী শহীদ মিনারে অনশন করি। তবে এ ঘটনার পরে গাংনী থানার ওসি বিচারের আশ্বাস দিলে বাড়ি ফিরে যাই।
তারা আরও জানান, এ বিষয়টি নিয়ে ২১ আগস্ট রাতে গাংনী থানা চত্তরে পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলামের উপস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ওবাইদুর রহমান, গাংনী থানার সেকেন্ড অফিসার আহসান হাবিব, এসআই আব্দুল হান্নান, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের একান্ত সহকারী সাহিদুজ্জামান শিপু, পৌর কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, সাহিদুল ইসলাম, এনামুল হক, শ্রমিক নেতা মনিরুজ্জামান মনি, মৌমিতা খাতুন পলির মা-বাবাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে টাকা লেনদেনের বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে সকলে উদ্যোগী হবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়।

মেয়র টাকা ফেরত না দেওয়ায় প্রথম দফা অনশন, তারপর সালিশ বৈঠক এর পরেও কোন কুল কিনারা না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে আবার অনশন শুরু করেছেন তারা।
পলি বলেন, আমার গর্ভে সন্তান আছে। টাকা না দেওয়ায় এখন আমার স্বামী আমাকে নিতে চাচ্ছেন না। একমাত্র মৃত্যুই এর সমাধান। আমি আর উঠছি না। আমি ও আমার অনাগত সন্তান মারা গেলে আমাদের লাশ বাড়ি যাবে।
তবে এ সকল এ বিষয়ে মেয়র বলেন, মৌমিতা খাতুন পলির বাবা শাহাবুদ্দিন ওরফে বাহুদুর আমার অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি। তার বাড়ির সামনে আমার ৪০ শতাংশ জমি আছে। ওই জমির ৫ কাঠা বিক্রি করার জন্য দামাদামি করি। পরে ৫ কাঠা জমির মূল্য নির্ধারন করা হয় ১৫ লাখ টাকা। জমি বিক্রি করার জন্য মৌমিতা খাতুন পলির স্বামী মোমিন আমাকে টাকা দিয়েছিলেন, চাকরির জন্য নয়। যেহেতু পলির স্বামী মোমিন আমাকে টাকা দিয়েছিলেন, তাই তাকে ফেরত দিয়েছি।
তবে কাউন্সিলর সাহিদুল ইসলাম বলেন, মেয়র চাকরির জন্য টাকা নিয়েছেন, যা পৌর পরিষদের অনেকেই জানেন। চাকরির নাম করে অসহায় মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া চরম অন্যায় কাজ।
এদিকে মেয়র আশরাফুল ইসলাম পলির স্বামী মোমিনকে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে দাবি করলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক ও গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান জানান, মোমিন কোন টাকা ফেরত নেননি বলে তাদের জানিয়েছেন। মেয়র আশরাফুল ইসলামকে টাকা ফেরত দেবার প্রমাণ দেখাতে বললে তিনি তা না দেখিয়ে গড়িমসি করছেন।
ওসি জানান, অনশনের বিষটি তিনি জেনেছেন। স্থানীয় ব্যাক্তি ও মেয়র সাহেবের সঙ্গে বসেছিলাম। বিষয়টি অমিমাংসিত রয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের স্মরণাপন্ন হওয়া ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।
সম্পর্ক
ডঃ মুন্সী মুর্তজা আলী
“সম্পর্ক” একটিমাত্র শব্দ। এই একটি শব্দ মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং অনেকগুলো বাক্য থেকেও বৃহৎ। “সম্পর্ক” এর প্রথম অক্ষর “স”।“সহজ” এর প্রথম অক্ষরও “স”। “স” অক্ষর দিয়ে মানে সহজভাবে সম্পর্কশুরু হয়। (কখনো কখনো সম্পর্ক জটিলতার মধ্য দিয়েও শুরু হয়। কিন্তু আজ সেদিকে যাচ্ছি না)। তবে জীবন চলার পথে এ সম্পর্ক সহজ থাকে না। কারণ হলো, সম্পর্কের “স” অক্ষরের পরে মানে মাঝখানের অক্ষরটি হলো যুক্তাক্ষর “ম্প”। অর্থ্যাৎ যুক্ত অক্ষরের (ম্প) মত জটিল অক্ষর দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা পথের মাঝে জটিল সময় ও চরাই উৎরাই পেরোতে হয়।
প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিঘাত পেরিয়ে সম্পর্কের শেষ অক্ষর “ক” মানে “কালের ¯্রােত” এর মত এই সম্পর্ক কখনো বিলীন হয়। আবার কখনো টিকে থাকে।
বিভিন্ন মানুষের সাথে সম্পর্ক বিভিন্নভাবে গড়ে ওঠে। কখনো আত্মীয়তার ভিত্তিতে, আবার কখনো রক্তের উপর ভিত্তি করে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আত্মীয় ও রক্তের সম্পর্ক বাদেও মানুষের মধ্যে এক ধরনের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেটা হলো “আত্মা”র সম্পর্ক। আত্মীয় ও রক্তের সম্পর্কের মধ্যেও আত্মার সম্পর্ক থাকে। তবে আত্মীয় ও রক্তের সম্পর্কের মধ্যে কখনো কখনো এই আত্মার সম্পর্কে ছেদ পড়তে পারে।
কখন বুঝবেন আত্মীয় ও রক্তের সম্পর্কের মধ্যে ছেদ পড়েছে কিংবা সেই সম্পর্ক আত্মীক হয়েছে? দুটো উদাহরন দেয়া যাক।
যেমন ধরুন, আপনি আপনার রক্তের সম্পর্ক, আত্মীয়, বন্ধু বা প্রিয়তমা থেকে দূরে আছেন। সেই মুহুর্তে আপনি হয়তো আপনার আত্মীয়, বন্ধু বা প্রিয়তমাকে গভীরভাবে মনে মনে অনুভব করছেন। যদি দূর থেকেও একে অপরকে গভীরভাবে অনুভব করেন এমনকি পৃথিবীর অন্যদিক বা অপর প্রান্তথেকেও যদি আপনার কাছের জন আপনাকে গভীরভাবে অনুভব করে। তাহলে বুঝবেন, আপনার সাথে আপনার আত্মীয়, প্রিয়তমা বা বন্ধুর সাথে আত্মার সম্পর্ক অর্থাৎ প্রকৃত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সম্পর্ক হতে হয় পারস্পরিক ও দ্বিপাক্ষিক। একপক্ষের মাধ্যমে এই আত্মীক সম্পর্ক তৈরী হয়না। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিস্কার হবে। আপনি হয়তো কোন এক বিকালে আপনার আত্মীয়, বন্ধু বা প্রিয়জনকে গভীরভাবে অনুভব করছেন। সেই মুহুর্তে আপনার আত্মীয় বন্ধু বা প্রিয়জনও দূর থেকে আপনাকে গভীরভাবে অনুভব করবেই। যদি আপনাদের মধ্যে আত্মীক সম্পর্ক থাকে। ভেবে দেখুন! এরকম কোন ঘটনা যদি আপনার জীবনে ঘটে থাকে। তাহলে বুঝবেন, আপনার সাথে সেই মানুষটির আত্মীক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আপনি জানালার ধারে দাঁড়িয়ে আপনার প্রিয় মানুষকে ফোন করবেন বলে ফোনটা হাতে করেছেন। সেই মুহুর্তে যদি আপনার প্রিয় মানুষটি ফোন করে। তাহলে বুঝবেন, এটা আত্মীক সম্পর্ক। এই সম্পর্ক উভয়ের ভালবাসা ও অনুভূতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। তাই আত্মার সম্পর্ক এমন এক সম্পর্ক, দূরে থাকলেও সে সম্পর্ক মরে না। আর যদি কারো সাথে আত্মীক সম্পর্ক গড়ে না তুলতে পারেন, তাহলে আপনি কারো মনে অবস্থান করতে পারবেন না। যেটা প্রকৃত মানুষ হিসেবে আপনার জন্য যন্ত্রণার। আর প্রকৃত মানুষ না হলে আপনি এই যন্ত্রনা বোঝার সক্ষমতা ও অর্জন করতে পারবেন না। এটা বোধের ব্যাপার। এই প্রখর বোধ আপনার থাকতে হবে। আর এই সম্পর্কে যখন চিড় ধরে তখন তাদের মধ্যে অন্য সম্পর্ক থাকলেও আর আত্মীক সম্পর্ক থাকে না। এমনকি যাদের সাথে “আত্মা”র সম্পর্ক থাকে, তাদের সাথে আপনা আপনি এই সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। এটা একটা সাধনা।
এবার স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা ধরা যাক। স্বামীর সাথে স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে। তবু তাদের মধ্যে সম্পর্ক হলো দেহ, মন, মস্তিস্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয় ও আত্মার সম্পর্ক। স্বামী যখন দূর থেকে স্ত্রী’কে অনুভব করবে, এবং সেই সময় স্ত্রীও যদি স্বামীকে অনুভব করে; সেটা হলো আত্মীক সম্পর্ক। দু’জন কাছাকাছি থাকলে ও এই আত্মজ সম্পর্ক অটুট থাকে। আবার দু’জন কাছাকাছি থেকেও যদি সেই সম্পর্ক অনুভব না করে, তাহলে বুঝতে হবে তাদের সম্পর্কে চিড় ধরেছে।
কিভাবে সম্পর্ক ধরে রাখবেন? ছাড় দেওয়া শিখবেন। এসব আত্মার লোকদের সমালোচনা করবেন না। তাদের বিপদে এগিয়ে যাবেন। ছোটখাট ঝামেলা সত্ত্বেও এই সম্পর্ক ধরে রাখবেন। মনে মনে মঙ্গল কামনা করবেন। আপনি বুঝতে পারবেন, কার সাথে আপনার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এখানে বিধাতা প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। তাই সবার সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে না। যার সাথে যখন আত্মিক সম্পর্ক হবে না তখন বুঝবেন, এটা বিধাতার আশির্বাদ। বিধাতার আশির্বাদে মানুষে মানুষে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আত্মা হলো বিধাতার প্রতিনিধি। এটাই শ্বাস্বত ধারনা ও সাধনা। অনেক সাধনার পর মানুষে মানুষে এই আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ও টিকে থাকে। এই “আত্মার সম্পর্ক” হলো প্রকৃত বন্ধুত্বের সম্পর্ক। পৃথিবীর আত্মীয়, রক্ত ও আত্মার সম্পর্কের মানুষেরই প্রকৃত বন্ধু। তাই আসুন, নিস্কাম ও নিঃস্বার্থভাবে আমরা একে অপরের সাথে আত্মীক ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলি।
অধ্যাপক, লোক প্রশাসন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি, উপমহাদেশের বরেণ্য রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে শোকে আপ্লুত ও স্মৃতিকাতর হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবার ও শেখ হাসিনার নিজের বহু স্মৃতি প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন।
সোমবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখার্জির অনন্য অবদান কখনও বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সবসময় মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ভারতে নির্বাসিত থাকাকালীন প্রণব মুখার্জি আমাদের সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এমন দুঃসময়ে তিনি আমার পরিবারের খোঁজখবর রাখতেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে আমার ছোট বোন শেখ রেহানা ও আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। দেশের ফেরার পরও প্রণব মুখার্জি সহযোগিতা এবং উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি আমাদের অভিভাবক ও পারিবারিক বন্ধু। যেকোনো সংকটে তিনি সাহস যুগিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারত হারালো একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে আর বাংলাদেশ হারাল একজন আপনজনকে। তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন।
এবার নেইমারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের প্রত্যয়
দ্রোহ স্পোর্টস ডেস্ক
সবে শেষ হওয়া মৌসুমে খুব কাছে গিয়েও ফিরতে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের বেদনাকে সঙ্গী করে। তবে ভেঙে পড়ছেন না নেইমার। নতুন মৌসুমে পিএসজির অধরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিততে দৃঢ় প্রত্যয়ী এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
প্রায়ই পিএসজি ছেড়ে নেইমারের বার্সেলোনায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে গ্রীষ্মের দলবদলে প্যারিসের ক্লাবটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছা নেই বলে সম্প্রতি পিএসজি লে ম্যাগাজিন’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান এই ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
এই ব্রাজিলিয়ান পরের মৌসুমেও পিএসজিতে থাকছি। আমি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফিরতে প্রস্তুত এবং এবার শিরোপা জিততে চাই। এই ক্লাবের ইতিহাসে আমার ছাপ রেখে যেতে চাই। ২০১৯-২০ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে ২৭ ম্যাচে ১৯ গোল করেন নেইমার। মৌসুমে লিগসহ ঘরোয়া চারটি শিরোপা জেতা পিএসজি প্রথমবারের মতো খেলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল। তবে শিরোপা লড়াইয়ে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে ইউরোপ সেরার মঞ্চ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয় তাদের।
আলাদা নিবন্ধন লাগবে অনলাইন পত্রিকার, রেডিও এবং টিভি’র
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
শুধুমাত্র স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল নয়, টেলিভিশন, বেতার ও ছাপা পত্রিকাগুলোর অনলাইন সংস্করণ এবং আইপি টিভি ও ইন্টারনেট রেডিও চালাতে হলেও সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে।
এসব ক্ষেত্রে আলাদা নিবন্ধন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা, ২০১৭’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপারিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আগের নীতিমালার নয়টি অনুচ্ছেদ সংশোধন করে পাঁচটি নতুন অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিবন্ধনের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, নিবন্ধন ফি, কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিভিশন চ্যানেল এবং বেতারের নিউজ পোর্টাল হিসেবে প্রচারকাজ পরিচালনা এবং আইপি টিভি ও ইন্টারনেট রেডিওর সম্প্রচার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা ছিল না, এগুলো ইনক্লুড করা হচ্ছে।
দেশের টেলিভিশন এবং বেতারগুলোও এখন নিউজ পোর্টাল চালাচ্ছে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, এতদিন এজন্য অনুমতি নিতে হত না, এখন নিতে হবে। আইপি টিভি, ইন্টারনেট রেডিও সম্প্রচারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল না, এসব বিষয় নীতিমালায় যুক্ত করা হচ্ছে।
পত্রিকাগুলো তাদের ছাপা সংস্করণ হুবহু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলে কোনো অনুমোদনের দরকার নেই। তবে পত্রিকার ছাপা সংস্করণ থেকে আলাদা কোনো কনটেন্ট অনলাইনে প্রকাশ করলে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে বলে জানান তিনি।
আরও দেখুন-রাস্তা তৈরিতে বাধা দুটি গাছ
তিনি আরও বলেন, পত্রিকাগুলো হার্ডকপিতে যা ছাপছে, হুবুহু সেটাই যদি অনলাইনে দিয়ে দেয়, তাহলে কোনো অনুমতি লাগবে না। কিন্তু যদি কেউ ভ্যারিয়েশেন করে, তখন তাকে অনুমতি নিতে হবে। কারণ অনেকেই হুবুহু তা দিচ্ছে না। অনলাইন সংস্করণে ভেরিয়েশন থাকলে লাইসেন্স নিতে হবে। রেডিও-টেলিভিশন তো অনলাইন করার জন্য না, তারা যে মাধ্যমে চালাবে সেই মাধ্যমে, তারপরেও যদি অনলাইন করতে হয়, তাহলে রেডিও-টেলিভিশন দুটোকেই অনলাইনের অনুমতি নিতে হবে, নিবন্ধন নিতে হবে।
যতক্ষণ পর্যন্ত সম্প্রচার কমিশন না হবে, ততক্ষণ তথ্য মন্ত্রণালয় যে কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে সেই কর্তৃপক্ষ এসব বিষয় দেখভাল করবে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। ২০১৭ সালের ৫ জুলাই জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা গেজেট প্রকাশ করে সরকার।
১০০ টাকার জন্য স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
বান্ধবীর জন্মদিনে যাওয়া হলো না তার। জন্মদিনের উপহার দিতে মায়ের কাছে ১০০ টাকার বায়না ধরেছিলো, সে টাকা না পেয়ে অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন স্কুলছাত্রী এক কিশোরী।
রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনার আবাসিক এলাকার এফএ টাইপ কোয়ার্টারের নিজ ঘরে ওই কিশোরী আত্মহত্যা করেন। আত্মঘাতী কিশোরী কেপিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
কাপ্তাই থানার ওসি নাসির উদ্দীন বলেন, দরিদ্র পরিবার হওয়ায় মেয়ের চাওয়া ১০০ টাকা দিতে পারেননি মা। তবে মেয়ে অভিমান করলে মা টাকা ধার নেওয়ার জন্য পাশের বাসায় গিয়েছিলেন। এ সুযোগে বাড়ির সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় মেয়েটি।
আরও দেখুন-রাস্তা তৈরিতে বাধা দুটি গাছ
পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সোমবার রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে ওসি জানান।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের চিরবিদায়
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়ছে। সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
ভারতীয় রাজনীতির এক বিরাট অধ্যায়ের অবসান হল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ৷ দিল্লির সেনা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৷
প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় এক টুইটে লিখেছেন,’ ভারি হৃদয় নিয়ে আপনাদের জানাচ্ছি, আমার বাবা প্রণব মুখোপাধ্যায় আরআর হাসপাতালের ডাক্তারদের সব চেষ্টা এবং ভারতজুড়ে মানুষের প্রার্থনা ও দোয়া সত্ত্বেও এইমাত্র মারা গেছেন। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
এর আগে সোমবার দুপুরেই দিল্লির সামরিক হাসপাতালের এক বুলেটিনে জানানো হয়, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
আরও দেখুন-রাস্তা তৈরিতে বাধা দুটি গাছ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের চেয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপের দিকে। তার ফুসফুসের সংক্রমণ আরও বেড়ে গেছে। বর্তমানে সেপটিক শকে রয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোববার থেকে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করেছে। তার ফুসফুসের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে গভীর কোমায় ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
৯ আগস্ট রাতে দিল্লির বাসভবনে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান প্রণব মুখোপাধ্যায়। পরদিন চিকিৎসকের পরামর্শে দিল্লির আর্মি হসপিটাল রিসার্চ অ্যান্ড রেফারেলে ভর্তি করা হয় তাকে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয় তার।
অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি পর্বে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে গিয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দেহে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।
প্রণব মুখোপাধ্যায় ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। গত বছর তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত হন।
ঝিনাইদহে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামুল্যে স্বাস্থ্য সহায়ক উপকরণ এবং হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে শারিরীক প্রতিবন্ধীদের মাঝে এ উপকরণ বিতরণ করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ডাঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
এ সময় জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান, জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা বাবলু রহমান। পরে শহরের বিভিন্ন এলাকার ১০ জন প্রতিবন্ধীকে “প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে হুইল চেয়ার, স্মার্ট সাদাছড়ি ও হেয়ারিং এইড বিতরণ করা হয়।













