স্টাফ রিপোর্টার
কুষ্টিয়ার খোকসা রেল ষ্টেশনের ২ নম্বর লাইনে প্লাটফর্ম নাই। সমতল থেকে ট্রেনের কামরার দূরত্ব খাড়া ৫ ফুট উচুতে। ফলে যাত্রীরদের ট্রেনে উঠা-নামা করতে হয় বাদুর ঝোলা হয়ে। বেশী বিরম্বনায় শিকার হন নারী যাত্রীরা। সেড সহ অধুনিক প্লাট ফর্ম নির্মানের দাবি স্থানীয় যাত্রীদের।
পশ্চিম রেলওয়ের পোড়াদহ – দৌলতদিয়া ঘাট (রাজবাড়ী সেকশন) রেল রুটে রাজধানী ঢাকা- রাজশাহী- বেনাপোল- খুলনায় প্রায় ১০ জোড়া ট্রেন আপ ডাউন করে। এসব ট্রেনের মধ্যে কমপক্ষে ২ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেনের ক্রসিং হয় খোকসা ষ্টেশনে। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। দুই নম্বর লাইনে প্লাট ফর্ম নাই। এই লাইনে দাঁড়ানো ট্রেনে ওঠা-নামার যাত্রীরা পরেন বিরম্বনায়। সমতল ভূমি থেকে ট্রেনের কামরার দূরত্ব খাড়া ৫ ফুট উচুতে। যাত্রীদের ট্রেনে ওঠা নামা করতে হয় বাদুর ঝোলা হয়ে। এই রেল রুটের কুষ্টিয়ার জেলার খোকসা সহ ৬টি ষ্টেশনের একটিরও ২ নম্বর লাইনের প্লাটফর্ম নেই।
স্থনীয়রা জানান, রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় শহর খুলনা ও রাজশাহী ছাড়াও বেনাপোল স্থলবনন্দর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রেন যাত্রী এই রুটে আসা যাওয়া করেন। রেলওয়ের রাজবাড়ী সেকশনের ১৬টি ষ্টেশনের দুই/একটি বাদে একটি ষ্টেশনেও ২ নম্বর লাইনে কোন প্লাটফর্ম ও সেড নেই। শুধু ট্রেনে ওঠাই নয় ২ নম্বর প্লাটমর্ধে নামা যাত্রীরা মূল প্লাটফর্মে উঠতে পরেও আর এক বিরম্বনায়। সমতল থেকে প্লাটফর্মটির তিন ফুটের বেশা উচুু। রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই রুটের ট্রেনযাত্রীরা যাওয়া আসা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ট্রেন গুলোতে যাত্রীদের ওঠা নামা হয়রানির ঘটনা নিরশনের জন্য এ পর্যন্ত একাধিকবার রেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। প্রতিবার আবেদনের পর স্থানীয় প্রতিনিধিদের একাধিক দল রেলের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন। প্রতিবারই নতুন প্লাটফর্ম করার আশ্বাস পাওয়া গেছে কিন্তু তা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

বুধবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তখন রাজশাহী গ্রামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনর জন্য যাত্রীরা দুই নম্বর লাইনের অপেক্ষা করছেন। ট্রেনটি ষ্টেশনের ঢোকার সাথে সাথে নারী শিশু সহ যাত্রীদের টেনে ওঠা নিয়ে তারাহুরা শুরু হয়ে গেলো। রেল লাইন থেকে ট্রেনের কামরার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট উচুতে। যাত্রীরা একে অন্যের সহযোগীতায় পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ট্রেনে উঠতে লাগলেন। একটু ভীড় থাকায় অনেক নারী যাত্রী ট্রেনে উঠতে পারলেনা। ১ নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ালো ঢাকাগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন। ট্রেন দু’খানি পর্যায় ক্রমে ষ্টেশন ছেড়ে গেলো। পরে রইলেন অনেক যাত্রী।
রাহেলা বেগম নামের এক যাত্রী জানান, রাহশাহী ডাক্তর দেখানোর জন্য তার যাওয়ার কথা ছিলো। আগে ভাগে ট্রেনের টিকেট নিয়েছিলেন। ট্রেনের কামড়ার উচ্চতা বেশী থাকায় সে ও তার ছেলে ট্রেনে উঠতে পারেনি। আজ আর তার ডাক্তার দেখানো হলো না। তাই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তার বাড়ি উপজেলা সাতপাখিয়া গ্রামে। তার মতই অনেকেই ট্রেনে উঠতে না পেরে ফিরে গেলেন।
যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে কথা বলেন, কন্ঠ শিল্পী খন্দকার সেলিম রেজা বলেন, দুই নম্বর প্লাটফর্ম নির্মানের দাবিতে তারা কয়েক দফায় আবেদন করেছেন। প্রতিবারই রেলের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন কিন্তু প্লাটফর্ম তৈরী হয়নি।
বুকিং মাস্টার স্বজল হোসেন জানান, ট্রেনের ক্রসিং হলে ২ নম্বর লাইনের ট্রেন যাত্রীদের সমস্যা হয়। মাটি থেকে প্রায় ৫ ফুট উচুতে ওঠা একটু কষ্টের।
পশ্চিম রেলের পাকশি রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু হানিফ এর সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, রাজবাড়ী সেকশনের পাংশা ষ্টেশনের উন্নয়ন কাজ চলছে। কুষ্টিয়া সদরের কোট ষ্টেশনের প্লাটফর্ম নির্মানের টেন্ডার হয়ে গেছে। পর্যায় ক্রমে ষ্টেশন গুলোর উন্নয়ন করা হবে।






