স্কুল গুলোতে করোনা প্রভাব



ট্রলারডুবিতে চুয়াডাঙ্গার ৩ দিনমজুরের মৃত্যু
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
ফরিদপুরে কাজ করতে গিয়ে ট্রলারডুবিতে নিহত হলেন ৩ দিনমজুর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েছে তিনটি পরিবার।
ট্রলারডুবিতে নিহত ৩ জন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে সাঁতরে জীবন নিয়ে ফিরেছেন একই গ্রামের অপর ৩ দিনমজুর। নিহত দিনমজুরদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
নিহত হয়েছেন হোসেনপুর গ্রামের শাহাবুল হক, তার বাড়ির উঠানে মা আর দাদির মুখের পাণে অবাক আর বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিহতের ফুটফুটে দেড় বছরের মেয়ে ।
একই গ্রামের নিহত যুবক শিলনের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত চিন্তায় মাঝে মাঝে আকাশ কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠছে।
দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রীসহ বাবা-মায়ের আহাজারিতে নিথর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে নিহতদের গ্রাম চুয়াডাঙ্গার হোসেনপুরে।
নিহত ৩ দিনমজুরের সংসারে শুধু তারাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম। ফলে নিহতদের অভাবের সংসারে অজানা ভবিষ্যতের আতঙ্কের ছায়া ছিল সবার চোখে মুখে।
জীবন বাঁচিয়ে ফিরে আসা দিনমজুর একরামুল হক বলেন, আমরা ৬ জন দিনমজুর ৩১ মে কাজের সন্ধানে ফরিদপুরে যায়। সে স্থানে ফরিদপুর সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর খারকান্দি গ্রামের লালন ফকির নামের এক ব্যক্তি দৈনিক ৬শ টাকা মুজুরি মিটিয়ে আমাদের বাদাম তোলার কাজে নিয়োগ দেন। বাদামের মাঠ পদ্মা নদীর ওপারে হওয়ায় প্রতিদিন ছোট ট্রলারে করে আমরা যাতায়াত করতাম।
৫ মে লালন ফকিরের ছেলে শাকিল ২৭ জন দিনমজুর নিয়ে পদ্মার ওপারে যাচ্ছিলেন। ছোট ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝায় করার কারনে মাঝ নদীর শয়তায়খালি ঘাট বরবার ট্রলারটি ডুবে যায়। কিছু সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে আরেকটি ট্রলার পৌঁছালে কিছু যাত্রী সাঁতারে জীবন বাঁচায়। তবে নদীতে নতুন জলের তীব্র ¯্রােতে ডুবে যান হোসেনপুরের ৩ জন সহ ৫ জন দিনমজুর।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবার কে ফকির লালন কোনরূপ সাহায্য সহযোগিতা করেননি। অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারনে ট্রলার ডুবে গেলেও লালন ফকির ও ট্রলার চালক শাকিল কোন দ্বায় নেয়নি।
ফরিদপুর জেলার চর নাসিরপুরের ইউপি সদস্য রিপন ফকির মুঠেফোনে বলেন, ট্রলারডুবির সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন। সে সময় পুলিশ লালন ফকিরকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিটন আলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
দুপুর ২টা থেকে বন্ধ থাকবে ঝিনাইদহে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে প্রাণঘাতী মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে কঠোর ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুপুর ২টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যাবে জেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলায় সকলের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, জেলার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চায়ের দোকান দুপুর ২টার মধ্যে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর ফার্মেসি ছাড়া অন্য কোনো দোকান খোলা রাখা যাবে না। ইজিবাইকে ২ জনের বেশি যাত্রী ওঠানো যাবে না। এছাড়া মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাস্ক না পরে বাইরে বেড় হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল বা জরিমানা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামাঞ্চলের দোকান বা চায়ের দোকান দুপুর ২টার পর খোলা থাকে। এমন যদি পাওয়া যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কাজ করবে।
দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
দেশে প্রাণঘাতী করোনায় নতুন করে ৩ হাজার ১৯০ জনের দেহে করোনা ভাইরাস রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত একদিনে রের্কড সংখ্যক। তবে মৃত্যুও সংখ্য কমেছে।
করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি ল্যাবের পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী ১ দিনে দেশে মোট ১৫ হাজার ৯৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার তথ্যে নতুন করে ৩ হাজার ১৯০ জনের দেহে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ পাওয়া গেছে।
এ অবধি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৪ হাজার ৮৬৫ জনে। অপরদিকে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৭ জনের। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক হাজার ১২ জনে।
তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা তথ্য অনুযায়ী দেশে কোভিড-১৯ এ শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৩৫ শতাংশ।
কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা পেলেন উপহার সামগ্রী
কুমারখালী প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর প্রায় পৌনে একশ বীরাঙ্গণা, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা পেলেন উপহার সামগ্রী।
বুধবার দুপুরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির কার্যালয় চত্বরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে এই উপহার সামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, আলু ও সাবান) বিতরণ করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ, কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুণ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়ক ও কুমারখালী মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনছুর মজনু, নাগরিক কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক আব্দুর রফিক ও আওয়ামী লীগ নেতা রিস্তাক করিম প্রমূখ।
এ অনুষ্ঠানে কুমারখালী উপজেলার ৪ জন বীরাঙ্গণা মুক্তিযোদ্ধাসহ ৮২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
তেল চুরির অভিযোগে কিশোরের উপর নির্যাতন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড় এলাকা। সামান্য তেল চুরির অভিযোগ এনে এক কিশোরের উপর আমানুষিক বর্বর নির্যাতন চালালো আশরাফ আলী লাল। এ নির্যাতন আদিমতা কে হার মানায়।
মঙ্গলবার লালমনিরহাট জেলায় এই বর্বর ঘটনাটি ঘটেছে। সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে মধ্যরাতে পুলিশ অভিযুক্ত আশরাফ আলী লাল (৫০) নামে এই ব্যবসায়ীকে আটক করে। তিনি লালমনিরহাট জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সীমান্ত শপিং কমপ্লেক্সের মালিক।
স্থানীয়রা বলেন, মঙ্গলবার সকালে ভবনের নিচে থাকা একটি ইজিবাইক থেকে তেলের একটি জার চুরির অভিযোগে ওই কিশোরকে আটক করেন কয়েকজন। পরে তাকে ভবন মালিক আশরাফ আলী লালের হাতে তুলে দেয়া হলে তিনিসহ কয়েকজন মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে নির্যাতন শুরু করেন।
রাত ১০টার দিকে ফেইসবুকের মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, অভিযুক্ত আশরাফ আলী লালসহ তার পোষ্যরা ওই কিশোরকে মারপিট করছে। মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরছেন পা দিয়ে। কি বিভৎস, ভয়ংকর সেই নির্যাতন। নিজেকে রক্ষায় ছেলেটি সবার পা জড়িয়ে ধরলেও কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেননি।
লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ ঘটনায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রধান অভিযুক্ত আশরাফ আলী লালকে আটক করা হয়েছে। তবে নির্যাতনের ঘটনার পর থেকে ওই কিশোরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে কিশোরের বাড়ি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের চাঁদনী বাজার এলাকায়।
তিনি আরো বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্যাতনের শিকার কিশোরকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
কুষ্টিয়ায় প্রতিকেজি চালের দাম বেড়েছে ৫-১০ টাকা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরে গত এক মাসে সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক বছরে কেজি প্রতি সর্বনিন্ম বেড়েছে ৮-১০ থেকে টাকা।
রমজানের ঈদের আগে দাম কিছুটা কমলেও ঈদের পর থেকে কয়েক দফায় লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে চালের দাম। দাম বৃদ্ধির এ প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। মোটা ও মাঝারি সব ধরণের চালের দাম বেড়ে গেছে। বেড়েছে চিকন চালের বাজার। ধানের বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালের দাম। মিলাররা বলছেন ধানের দামের সাথে সমন্বয় করে বাড়ছে চালের দাম।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর জুনে যে চাল ৩২-৩৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে সেই চাল এবছর (বর্তমান) ৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তারা বলছে গত দুই বছরের মধ্যে এবারই চালের বাজার সব থেকে বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমন মৌসুমের আগ পর্যন্ত চালের বাজারে দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।
করোনা পরিস্থিতির কারণে বাইরে দেশে থেকে চাল আমদানি করা দুরহ হবে। আর এ কারনে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী, ফড়িয়া ও আড়ৎদাররা ধান ও চাল মজুদ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কৃষক ও খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন, রমজানের মধ্যে সারা দেশে বোরো ধান কাটা শুরু হয়। নতুন ধান মিলগুলোতে আসায় চালের বাজার ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ঈদের আগ পর্যন্ত মিনিকেট, কাজললতা, বাসমতি, আঠাস ও মোটা জাতের চালের বাজার কেজিতে মিল গেটে ৩-৪ টাকা পর্যন্ত কমে যায়। তবে ঈদের পরের চিত্র একেবারে আলাদা।
দাদা রাইস মিলের অন্যতম স্বত্ত্বাধিকারি জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ঈদের আগে কুষ্টিয়ার মিলগুলো পুরোপুরি চালু হলেও নওগাঁ, দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলার মিলগুলো পুরো দমে উৎপাদনে ছিল না। ঈদের পর সব জেলায় পুরো দমে উৎপাদনে গেছে। প্রচুর ধান কিনছে মিল মালিকরা। ছাঁটাই ও বিপনন কার্যক্রম চলছে জোর গতিতে। ঈদের আগে যে ধানের বাজার ছিল তার তুলনায় এখন বাজার অনেক বেশি। সব জাতের ধান মণপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে আঠাস, কাজললতা ও মিনিকেট (সরু) জাতের ধানের বাজার এখন অনেক বেশি। যে ধান গত বছর এই সময়ে ৭০০-৭৫০ টাকা মণ ছিল এখন তা হাজারে ঠেকেছে। পাশাপাশি সরু ধান গত বছর এই সময়ে ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও এখন ১ হাজার ১০০ টাকার বেশি বিক্রি হচ্ছে।
পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, ঈদের আগের তুলনায় এখন বাজার চড়া। করোনার কারনে বাইরে থেকে চাল আনা সহজ হবে না এমনটা আঁচ করতে পেরে সুযোগ সন্ধানিরা এবার প্রচুর ধান ও চাল কিনে মজুদ করছে।
তিনি বলেন, যে মিনিকেট চাল ঈদের আগে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা ছিল তা এখন ৫০ টাকা, ৪০ টাকা আঠাস ৪৬ টাকা, কাজললতাও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি যে মোটা চাল ৩০ টাকা ছিল তার দামও বেড়ে গিয়ে এখন ৪০ টাকায় ঠেকেছে।
খাজানগর মোকামে মিলারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। যার আঁচ ইতিমধ্যে বাজারে পড়েছে। চালের বাজার শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে সর্বত্রই এমন আলোচনা চলছে।
চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো রাইস মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রশিদ বলেন, সিন্ডিকেট করে কোন মিলার চাইলেও দাম বাড়াতে পারে না। এখন প্রতিযোগিতার সময়। ধানের বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে চালের বাজার বাড়ছে। দেশে আম্ফান ঝড়ে ১৫ ভাগ ধান নষ্ট হলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীন বাজারে ধান ও চালের সংকট হবে না। তবে দামের হেরফের হবে। কৃষকরা ধানের ভাল দাম পাচ্ছে। দাম আরো বাড়তে পারে। ধানের দাম বাড়লে সামনে চালের দাম আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খোকসায় ২ জনসহ জেলায় নতুন শনাক্ত ১৫ জন,

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
মঙ্গলবার রাত ১০টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব এর তথ্য অনুযায়ী কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সহ জেলায় নতুন করে ১৫ জনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে খোকসায় রয়েছেন ২জন।
সিভিল সার্জন ডাঃ এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম রাত ১০ টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সহ-সভাপতি তারিকুল হক, জেলা প্রশাসকের সরকারি বাংলোর পিওন বিল্লাল হোসেন সহ কুষ্টিয়া পূবালী ব্যাংকের কর্মকর্তা হান্নান মাহাবুব রয়েছেন।
সিরাজুল ইসলাম এর আগে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩১ মে তিনি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের এডিসি হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে গত ৬ জুন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন করোনায় আক্রান্ত হন। মঙ্গলবার নতুন আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৯ জন, মিরপুর ২ জন, কুমারখালী ২ জন এবং খোকসা উপজেলায় ২ জন। নতুন সনাক্তদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।
এ নিয়ে কুষ্টিয়া জেলায় বহিরাগত বাদে এখন পর্যন্ত ১৫৩ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হল। আক্রান্তদের মধ্যে দৌলতপুর ২৫, ভেড়ামারা ২৪, মিরপুর ১৫, সদর ৫৪, কুমারখালী ২৩, খোকসা ১২। এর মধ্যে পুরুষ রোগী ১১৫, নারী ৩৮ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন মোট ৩১ জন। বর্তমানে হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন ১১৭ জন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ জন। এছাড়াও আক্রান্ত ২ জনকে খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
এডিসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, শরীরে করোনার তেমন কোনো উপসর্গ নেই। সুস্থ আছি। বাসা থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছি।
কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত সহ-সভাপতি তারিকুল হক জানান, তিন দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত তিনি । আপাতত তার আর কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
ঢাকায় ভিন্নমাত্রার ১৪ দিনের প্রাথমিক লকডাউন শুরু
দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারে ভিন্নমাত্রার লকডাউন শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ লাকডাউন চলবে আগামী ১৪ দিন। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খানের পক্ষ থেকে লকডাউন শুরুর কথা নিশ্চিত করা হয়।
পূর্বঘোষিত এই ১৪ দিনের লকডাউনের ফলে পূর্বরাজাবাজারে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষকে গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হবে। মহানগরের ছোট এই এলাকাটিতে ৩১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে পূর্ব রাজাবাজার দিয়ে শুরু করা হলেও পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরকে লাল, হলুদ ও সবুজ এলাকায় বিভক্ত করে শুরু করা হবে লকডাউন
মঙ্গলবার বিকালে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, লকডাউন চলাকালে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার স্থানীয়রা বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাইরের মানুষ এলাকার ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। এলাকায় আটটি প্রবেশপথের মধ্যে একটি খোলা থাকবে (গ্রিন রোড, আইবিএ হোস্টেলের পাশে) । লকডাউন চলাকালে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী অনলাইনের মাধ্যমে কেনা যাবে, যা বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে। এটুআই ও ইক্যাব যৌথভাবে এটি পরিচালনা করবে।
হোম ডেলিভারির জন্য একদল প্রশিক্ষিত কর্মীবাহিনী থাকবে। যাদের অনলাইন সুবিধা নেই, নগদ অর্থে খাদ্যসামগ্রি কিনতে চান, তাদের জন্য নির্ধারিত ভ্যানে শাক-সবজি, মাছ-মাংস বেচাকেনার সুবিধা থাকবে। এ জন্য ভ্যানচালক ও পণ্যসামগ্রী সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে ঢুকতে দেওয়া হবে। কর্মহীন, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষদের তালিকা অনুযায়ী ত্রাণসামগ্রি সরবরাহ করা হবে। রোগীদের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা চালু থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। গুরুতর রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারবে। জরুরি সেবার কর্মীরা এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা দল থাকবে ।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য এলাকার নাজনীন স্কুল এন্ড কলেজে বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। লকডাউন বাস্তবায়নে নাজনীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ডিএনসিসির ওয়ার্ড কাউন্সিলর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ, এটুআই, ই-কমার্স অব বাংলাদেশ (ইক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থাকবে। প্রয়োজনীয় ফোন নম্বরও থাকছে। এর মধ্যে ত্রাণের জন্য ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে।











