রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬.
Home Blog

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৩ শিশুর মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হামের সংক্রমণ। এ নিয়েছে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী ইব্রাহিম ও আফরান এবং পাঁচ মাস বয়সী আইজা নামের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। সে দৌলতপুর উপজেলার চঞ্চল হোসেনের ছেলে।

অন্যদিকে, রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আইজার মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া শহরের রেনউক মোড় এলাকার মমিনের মেয়ে।

এরআগে, ভোর ৬টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী আফরানের মৃত্যু হয়। সে সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম তিন শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে হাম রোগীদের জন্য আলাদা “হাম কর্নার” চালু করা হয়েছে। তবে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেককে সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, এতে আমাদের শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, জেলায় অন্তত ৩০০-এর বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, হামের টিকার স্বল্পতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং বাইরের জেলা থেকে মানুষের আগমন সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত শিশুদের জন্য জেলার সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে এবং টিকা পাওয়া মাত্র দ্রæত টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের কোন সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই সনদ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর দলিল, যার বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। বর্তমান সংসদই এ সনদ কার্যকর করতে সক্ষম এবং এর বাস্তবায়নের পদ্ধতিও সনদের মধ্যেই উল্লেখ রয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তের অক্ষরে রচিত। এটি সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়নের কথা সনদেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। তাই গণভোট বাতিল হলে সনদ বাতিল হবে এমন দাবি বিভ্রান্তিকর।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত অধ্যাদেশ মানবেন, আবার রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করবেন এটি দ্বিচারিতা। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের ২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে সনদে স্বাক্ষরকারী দলগুলোকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিএনপি প্রায় ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দিয়েছে, যদিও পুরোপুরি তা অর্জন করতে পারেনি।

জ্বালানি তেল সংকট প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, একটি মহল কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে তেল মজুত করছে। এ ধরনের কর্মকান্ড ঠেকাতে প্রয়োজনে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

প্রশাসনের প্রতি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও সতর্ক ভূমিকা পালন করবে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে দুইটি বোমাসহ চোরাকারবারী আটক

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে দুইটি বোমাসহ এক চোরাকারবারীকে আটক এবং বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল উদ্ধার করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।

আটক চোরাকারবারী নাম মোঃ মনতাজ আলী (৬০)। তিনি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কালিয়ানী ভিটাপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ধলা মাঠে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মো: মনতাজ আলীকে দুইটি বোমাসহ আটক করা হয়। এসময় তার অপর এক সহযোগী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে আটক মনতাজকে গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বোমা দুইটির ওজন প্রায় ১ কেজি ২০০ প্রাম।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার সময় কাথুলি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ০৯ বোতল ভারতীয় মদ এবং ১ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও একই রাতে চিলমারী বিওপির শান্তিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার ১৬০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৮৪০ পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৫৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১৬ হাজার ৫২৫ টাকা।

বিজিবি জানায়,সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মাদক, বিস্ফোরক দ্রব্য সহ সকল প্রকার চোরাচালান ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির কঠোর ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পেট্রোল রিজার্ভ থাকতেও দু’দিন বিক্রি বন্ধ রাখলো পাম্প কর্তৃপক্ষ

0
মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশনের ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসায় মক্কা মদিনা নামের একটি পেট্রোল পাম্পোর আন্ডার গ্রাউন্ডে কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল থাকলেও গতদুই দিন (শুক্র ও শনিবার) মোরসাইকেল চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পেট্রোল বিক্রি বন্ধের কারণ বলতে পারেনি ট্যাগ অফিসার, ম্যানেজার ও মালিক। কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালি সিদ্ধান্তে মোটরসাইকেল চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

পেট্রোলের কৃত্রিম সংকটের শুরু থেকে উপজেলা সদরের দুটি পেট্রোল পাম্প থেকে ছুটির দিনসহ মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে একদিন পর পর একদিন পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছিলো। মক্কা মদিনা ফিলিং ষ্টেশন থেকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এই পাম্প কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটের মুজদ থাকলেও শুক্র ও শনিবার পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। পূর্ব ঘোষনা অনুয়ায়ি শনিবার ভোর থেকে পাম্পের সামেনে শতশত মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে যান। সকাল ৯টার দিকে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় পেট্রোল দেওয়া হবে না। পরে পেট্রোল না পেয়ে মোটরসাইকেল চালকরা ফিরে যায়।

বেলা ১২টার দিকে মক্কা মদিনা পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তখনো পেট্রোল পাওয়ার আশায় কয়েকশ মোটর সাইকেল চালক পাম্প কেন্দ্রিক পেট্রোলের জন্য অপেক্ষো করছেন। পাম্পের ভিতরে বেশ কিছু মোটর সাইকেল চালক অপেক্ষা করছেন। তাদের তেল তা দিয়ে বিভিন্ন কনটেনারে করে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

পেট্রোলের জন্য ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা স্কুল শিক্ষক আশিকুর রহমান, মনিরুজ্জামান, শহিদুল ইসলামসহ অনেকেই পাম্প মালিকের হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। এসব শিক্ষকরা জানান, স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে ভোর ৫টায় এসে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করছেন। প্রায় চার ঘন্টা পর সকাল ৯ টায় তাদের জানানো হয় আজ তেল দেওয়া হবে না। স্বেচ্ছাচারী পাম্প মালিকদের বিচারের দাবিও করেন তারা।

পাম্প মালিক আনোয়ার খানের সাথে কথা বলা হলে প্রথমে তিনি জানান, পাম্পে পেট্রোল নেই। খুলনা ডিপু থেকে তেলবাহী ট্রাংক লড়ি আসছে। সাথে সাথে কথা পাল্টে বলেন, কি কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ আছে তা তিনি জানেন না। তিনি ম্যানেজারের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পাম্পটির ম্যানেজার জামশেদ রহমান তরুন জানান, টানা কয়েকদিন অধিক পরিশ্রমের কারনে কর্মচারীরা ক্লান্ত। তাই পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন তাদের পাম্পের আন্ডার গ্রাউন্ডে ২ হাজার লিটার পেট্রোল আছে। আগামী কাল রবিবার ট্যাগ অফিসারের অনুমতি পেলে পেট্রোল বিক্রি করা হতে পারে।

ট্যাগ অফিসার ও ক্ষুদ্র কৃষি উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ব্যবস্থাপক শাকিল রায়হানের সাথে ফোনে কথা বলা হয়। তিনিও জানেন না কি কারণে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্বীকার করেন পাম্পে দুই দফায় আনা কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল মজুদ রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পেট্রোল ডিজেল সুষ্ট বন্টনের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহানের সাথে সর্বশেষ রাত ৯টায় মুঠো কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসভ করেন নি।

কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। নিহত আফরান সদর উপজেলার ভাদালিয়া গ্রামের আল আমিনের ছেলে।

শিশুটির বাবা আল আমিন বলেন, ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিয়েছিল। এরপর আফরানকে কুষ্টিয়ায় এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরামর্শে শিশুটিকে দ্রæত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বৃহস্পতিবার আফরানের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শুক্রবার ভোরের দিকে খুব খারাপ অবস্থা হলে চিকিৎসক ও নার্সদের ডাকা হয়। কিন্তু নার্সরা সঠিকভাবে সহযোগিতা করেনি। পরে মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তির দিন থেকেই শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যাননি। তবু তার যতটুকু সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার ভোরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

ষাঁড় বিক্রির টাকায় পেঁয়াজ চাষ করে বাছুরও কিনতে পারবে না আবু জাফর

0

স্টাফ রিপোর্টার

শখ করে পোষা ষাঁড় গরুটি বিক্রি করে তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন প্রান্তিক কৃষক আবু জাফর। স্বপ্ন অধিক লাভবান হবেন। ফলন যা পেয়েছে তাতে তিনি খুশি। বাজারে হাইব্রিজ পেঁয়াজের দাম কম, অন্য দিকে সংরক্ষন করা নিয়ে কৃষক বিপাকে পরেছেন। নিজের জমিতে উৎপাদন করা সব পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে এখন একটা বাছুর গরুও কিনতে পারবে না তিনি।

খোকসার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের মুকশিদপুর গ্রামের শাহাদত বিশ্বাসের ছেলে প্রান্তিক কৃষক আবু জাফর। অধিক লাভের আশায় সোনাপাতিল বিলে বাবা’র তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিজ জাতের শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। আবাদের খরচ জোগান দিতে বাড়িতে পোষা ষাঁড় গরুটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। গরু বিক্রির সব টাকা পেঁয়াজ আবাদের জন্য ব্যয় করে ফেলেছেন। ইতোমধ্যে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলেছেন। বিঘা প্রতি ৭০ মন ফলন পেয়েছেন। তিনি প্রায় ২শ মন পেঁয়াজ পেয়েছেন। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ হাইব্রিড পেঁয়াজ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা মণদরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু প্রতিমণ পেঁয়াজ আবাদে ব্যয় হয়েছে একহাজার থেকে ১২শ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসূমে প্রায় ২৮৫০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। হতোমধ্যে ২৫ শতাংশ জমি থেকে পেঁয়াজ তোলা হয়েছে। জাতভেদে বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ১শ মণ।

সোনাপাতিল বিলে ১০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন বেতবাড়িয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন। তিনি নিজের জমির সাথে অন্য কৃষকের কিছু জমি ইজারা নিয়ে ছিলেন। প্রতিবিঘা পেঁয়াজের জমির মালিককে ২০-৩০ হাজার টাকা ইজারা দিতে হয়েছে। জমির ইজার টাকা ছাড়াই তার ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। তার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। ফলে পুজি ফেরত হতে পারে। লাভ হবে না।

একই বিলে উচ্চ ফলন শীল হাইব্রিড জাতের ক্রস -৮০, মেটাল, কিং, সুপার কিং ও সুখ সাগর জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন নজরুল ইসলাম, মাসুদসহ কয়েকশ কৃষক। তাদের প্রত্যেকেরই ফলন হয়েছে আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু দাম নিয়ে রয়েছে চরম হতাশা। হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের চাহিদা নেই বলে দাবি কৃষকদের। তারা বলছেন, এই পেয়াজ ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষক আবু জাফর জানান, তিনি প্রকৃত পক্ষে তাঁতী সম্প্রদয়ের লোক। কাপড়ের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে তাই লাভের আশায় বাবার জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। ফলন যা পেয়েছেন তাতে তিনি খুশি। কিন্তু তাদের উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বাজারে চলে না। প্রতিমণ পেঁয়াজ ৬০০ টাকা মণদরে বিক্রি করতে হচ্ছে। জমির খাজনাসহ প্রতিমন পেঁয়াজ আবাদে তাদের ব্যয় হয়েছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকা।

তিনি আরও জানান, শখের ষাঁড় গরু বিক্রি করে পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন। এখন বাজার দর দেখে মনে হচ্ছে সব পেয়াজ বিক্রি করে একটা বাছুর গরুও কিনতে পারবেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, হাইব্রিড পেঁয়াজে একটু রস বেশী থাকায় এই পেঁয়াজ সংরক্ষন একটু কষ্ট সাধ্য। তবে এই পেঁয়াজ সংরক্ষনের জন্য বাজারে কিছু মেশিন এসেছে। পরীক্ষা মূলক ভাবে সে গুলো ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক ফলন হওয়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম একটু কম বলে তিনি স্বীকার করেন।

চুয়াডাঙ্গায় মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৫ ডিপ্রি সেলসিয়াস

0

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বৈশাখ আসার আগেই আগাম তাপদাহে পুড়ছে পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গা। জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, শ্রমিক ও রিকশাচালকরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া জেলায় বাতাসের আর্র্দ্রতা ছিল ৩৪ শতাংশ।

জেলার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সামনে সড়কসহ বেশ কয়েকটি স্থানে পিচ গলে যাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলের সময় গলিত পিচ টায়ারে লেপ্টে গিয়ে বাড়াচ্ছে ভোগান্তি।

চুয়াডাঙ্গা শহরের নাম না বলা এক পথচারী বলেন, চুয়াডাঙ্গার আবহাওয়া সবসময়ই চরম। শীতে বেশি শীত, গরমে বেশি গরম। কিন্তু গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি, সামনে কী হবে তা ভেবেই উদ্বিগ্ন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের চৌরাস্তার মোড়ের তরমুজ বিক্রেতা মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, এই গরমে রোদে বসে থাকতে থাকতে শরীর জ্বলে যাচ্ছে। তরমুজও ঠিকমতো বিক্রি হচ্ছে না। একটু স্বস্তি পেতে বারবার পানি দিচ্ছি শরীরে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের বেসরকারি চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ অনেক বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক বলেন, এটি চলতি মৌসুমের প্রথম মাঝারি তাপপ্রবাহ। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আজ এ জেলায় এ মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

গাইড বাণিজ্যে অর্ধকোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলো ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে অবৈধ গাইড বই চালানোর প্রতিশ্রæতি দিয়ে একটি গাইড বই কোম্পানীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে সমিতির নেতাদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে উপজেলার ৫২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঞ্জেরী পাবলিকেশন কোম্পানীর অবৈধ গাইড চালানোর কথা বলে শিক্ষাক সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজা ও সদস্য সচিব আহসান হাবিব অর্ধকোটি টাকা চুক্তি করেন। উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের অবৈধ গাইড কিনতে চাপ দিতে শুরু করে স্কুল গুলোর কতিপয় শিক্ষক। তবে শিক্ষক অভিভাবকদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করেন। গাইড কোম্পানী ইতোমধ্যে সমিতির একটি ব্যাংক একাউন্টে প্রায় ২৪ লাখ টাকা জমা দিয়েছে বলে সূত্র গুলি নিশ্চিত করেছেন। বাঁকীঁ টাকা লেনদেন হয় নগদে। বিষয়টি সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ফাঁস হলে জেলা শিক্ষা অফিস গত ১৯ ফেব্রæয়ারি কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু দেড় মাস পার হলেও কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা ও সময় ক্ষেপনের অভিযোগ উঠেছে।

সেলিম হোসেন নামে এক অভিবাবক অভিযোগ করেন, তার ছেলে মেয়েকে শিক্ষকরা পাঞ্জেরী পাবলিকেশন গাইড কিনতে চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু এতো টাকা দিয়ে পাঞ্জেরী গাইড কিনতে পারছেন না।

কালিগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি সদস্য সচিব আহসান হাবীব গাইড বাই কোম্পানীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করেন। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলেও দাবি করেন।

সমিতির আহবায়ক আমিনুস সোবাহান রাজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগাগ করার চেষ্টা করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

পাঞ্জেরি পাবলিকেশনের বিক্রয় প্রতিনিধি সুমন স্বর্নকার জানান, ‘শিক্ষকদের টাকা বা উপঢৌকন দেওয়ার ব্যাপারটা এজেন্ট ও কোম্পানি সরাসরি করে থাকে। মার্কেটিংয়ের জন্য উপঢৌকন এখন বৈধ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান কালীগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল আলিম জানান, তদন্ত কাজ চলছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রæতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষকদের সম্মানীর বিনিময়ে গাইড কেনার পরামর্শ ও অর্থ দেওয়া বে আইনী। শিক্ষকরা এটা করতে পারেন না। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, টাকার বিনিময়ে গাইড বই শিক্ষার্থীদের চাপিয়ে দেওয়া কোন ভাবেই কাম্য নয়, এটা অবৈধ। তিনি শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে কড়া হুসিয়ারী এবং বিষয়টি সুরাহা করার পরামর্শ দিয়েছেন।

পাশে বসা সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমপি আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে নিজের চারপাশের পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেছেন, আমার ডানেবামে এমন এমন ভুড়িওয়ালা লোক আমি পেয়েছি, যেহেতু এগুলো সিরিয়াল করা থাকে আগে থেকে, কে কোথায় বসবে আমরা জানিও না। আল্লাহর ইশারা ভেতরে যেয়ে দেখি আমার ডানে বামে ভুড়িওয়ালা। এমন বড় বড় ভুড়ি আমার মনে হয়, ভুড়ি চিড়লে ওর ভেতর থেকে হয় ব্রিজ কালভার্ট এগুলো বের হবে। মহিলারা ওদের দেখলে লজ্জা পাবে।

সম্প্রতি আমির হামজার এমন একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নেটিজেনদের মধ্যে। তবে তিনি কবে কোথায় কখন এই বক্তব্য দিয়েছেন, তা ঠিকঠাক জানা যায়নি। এমনকি বক্তা নিজেও ভুলে গেছেন তিনি কোথায় এই মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আমির হামজাকে মুঠোফোনে কল দিয়ে বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হামজা বলেন, দেড় ঘণ্টার একটা আলোচনা। কোন জায়গায় কোন উদাহরণে বলেছি, মনে আছে নাকি?

ভাইরাল ওই বক্তব্যে আমির হামজা আরও বলেন, রুমিন ফারহানা আপা আছে, এরপরে এই যে মন্ত্রী পটলের মেয়ে আছে ফারজানা শারমিন; এটার পরে নায়াব ইউসুফ আছে ফরিদপুরের। এই আপারা আমাদের সামনে। আমার মাঝে মাঝে চিন্তা হয়, আল্লাহ, আমার ডানে বামে যে অবস্থা; ম্যাডামগুলো যদি এদের পেটের দিকে তাকায় ভাববে, আল্লাহ ছেলেমেয়ে হয় আমাদের আর পেট হয় হুজুরের পাশে দুইজনের। কী ভুড়ি! উঁকুন মারা যাবে ভুড়ির ওপরে।

আমির হামজার এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, এটা কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন লোক বলতে পারে বলে আমার মনে হয় না। এটা তো আমাদের কাছে খুবই বিব্রতকর মনে হচ্ছে। উনি যাদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা তো উনার পাশেই বসেন। এরপরে নেক্সট সংসদ অধিবেশনে উনাদের সামনে উনি কিভাবে মুখ দেখাবেন বা উনাদের পাশে কীভাবে বসবেন উনি, এই সমস্ত বিব্রতকর মন্তব্য করার পরে। একজন সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ এগুলো বলে কীভাবে, আর এগুলো মানুষের সামনে কীভাবে আলোচনা করে। যাদের সম্পর্কে বলছেন, তারাও তো মাননীয় সংসদ সদস্য।

নিজ দলীয় সংসদ সদস্যের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার বলেন, একজন মানুষ প্রতিদিন তো অনেক কথা বলে, সব কি শিখিয়ে দেওয়া লাগে নাকি। উনাকে তো বারবার সতর্ক করা হচ্ছে, প্রতিনিয়ত সতর্ক করা হচ্ছে; দলীয়ভাবে করছি, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে করছি, আমরা স্থানীয়ভাবে করছি। উনার বন্ধুবান্ধবদের দিয়ে বলাচ্ছি। আমরা খুব বিব্রত।

মেধাবী শিক্ষার্থী ওমরের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিল স্বপ্ন

0

বিশেষ প্রতিনিধি, কুমারখালী থেকে

কুমারখালীর অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী ওমর ওসমান রাজু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও উচ্চ শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ওমর ওসমান রাজু সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তার এই সাফল্য বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন। তারা ওমর ওসমান রাজুর উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকার জন্য মাঠে শ্রমিকের কাজ করছেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী ওমর” বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর তা দেখেই ওমরের পাশে এগিয়ে আসে স্বপ্ন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ মেধাবী ওমরের বাড়িতে গিয়ে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ওমর ওসমান রাজু সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তার এই সাফল্য বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হচ্ছে।

ওমরের জীবনসংগ্রাম ছোটবেলা থেকেই শুরু। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবা খবির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তার মা ফাতেমা খাতুন অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও ওমর পড়াশোনায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন। তিনি জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতে ৪.৯২ পয়েন্ট নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহায়তায় বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন। ওমর ওসমান রাজুর বাড়ি উপজেলার মহিষাকোলা গ্রামে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, আমার পরিবার আমাকে বই-খাতা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। শিক্ষকরা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এখন স্বপ্ন যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, এতে আমি ও আমার মা অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছি। এখন আমি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারব।
এ বিষয়ে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কর্মকান্ডে যুক্ত। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত ও সময়োপযোগী সহায়তা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের পাশে থাকার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ওমরের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে সেই অনুপ্রেরণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বপ্ন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গণমাধ্যমের কল্যাণে অদম্য মেধাবী ওমর ওসমান রাজুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তাদের মতো সকল মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে সমাজের সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফাতেমা খাতুন, ছোট ভাই রাফিউল, স্বপ্ন সুপার শপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন প্রমূখ।

সর্বশেষ সংবাদ

কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৩ শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে হামের সংক্রমণ। এ নিয়েছে জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আট মাস বয়সী ইব্রাহিম ও...

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের কোন সম্পর্ক নেই: আইনমন্ত্রী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জুলাই সনদ একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর দলিল, যার বাস্তবায়নের সঙ্গে গণভোটের কোনো সম্পর্ক...

কুষ্টিয়া সীমান্তে দুইটি বোমাসহ চোরাকারবারী আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে দুইটি বোমাসহ এক চোরাকারবারীকে আটক এবং বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামাল উদ্ধার করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ...

পেট্রোল রিজার্ভ থাকতেও দু’দিন বিক্রি বন্ধ রাখলো পাম্প কর্তৃপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়ার খোকসায় মক্কা মদিনা নামের একটি পেট্রোল পাম্পোর আন্ডার গ্রাউন্ডে কয়েক হাজার লিটার পেট্রোল থাকলেও গতদুই দিন (শুক্র ও শনিবার) মোরসাইকেল চালকদের ফিরিয়ে...

কুষ্টিয়া মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি এক শিশুর মৃত্যু

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে হামের উপসর্গ নিয়ে আফরান নামে আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে...