শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬.
Home Blog Page 118

থাইল্যান্ড সফরে মোদি ইউনূসের বৈঠক হচ্ছে না

0

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলনের আসরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের যে প্রস্তাব ঢাকা দিয়েছিল, তাতে নয়াদিল্লীর সাড়া মেলেনি। এই সফরে কেবল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে মোদীর সফরসূচি নিয়ে শুক্রবার (২৮ মার্চ) যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তাতে ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো কথা রাখা হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আগামী ৩ এপ্রিল থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনার জন্য বৈঠক করবেন। থাইল্যান্ড সফরে ওটাই মোদির একমাত্র দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ক জোট বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামী ৪ এপ্রিল। এ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে যাচ্ছেন ইউনূস ও মোদি।

সম্মেলনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি যাতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন, সে জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল।

ওই চিঠির প্রতিউত্তরের জন্য অপেক্ষা থাকার কথা জানিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার বলছে, বৈঠকটি হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘স্থরিবতা’ কাটার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিন মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আমরা যে কোনো দেশের সাথে শীর্ষ পর্যায়ের যে বৈঠক, সেই বৈঠককে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি এবং ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট, সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটিকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এবং আমরা আশা করি যে, যদি এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে স্থবিরতা, সেটা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি ভারতে চলে যান। তিন দিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকার।

এরপর থেকে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর দুই দফায় দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা হয়ে ওঠেনি। বিমসটেকের সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে গিয়ে পরদিন ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস।

নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের বৈঠকে যোগ দিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছেন ৩ এপ্রিল। সেদিনই থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়াত্রার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পরের দিন তিনি সরকারি সফরে ব্যাংকক থেকে চলে যাবেন শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়কের আমন্ত্রণে মোদি সে দেশ সফর করবেন ৪ থেকে ৬ এপ্রিল।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না হলেও ব্যাংককে অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে মোদির কিছু সময়ের জন্য সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে কি না, সে বিষয়ে সরকারি বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি।

বিমসটেকের এই সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তা পিছিয়ে নভেম্বরে করার চিন্তাভাবনা করা হয়। ওই সময়ও ইউনূস ও মোদীর বৈঠকের কথা উঠেছিল।

এর আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের কথা উঠেছিল। কিন্তু শেষমেশ তা হয়নি।

কারণ হিসেবে গত ২১ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক ত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। কাজেই সেখানে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হচ্ছে।

ওই বৈঠক না হওয়ার কারণ হিসেবে সেসময় মুহাম্মদ ইউনূসের ‘একটি সাক্ষাৎকারকে’ সামনে আনে কোনো কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে জানাশোনা আছে, এমন ব্যক্তিদের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউনূসের বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে, বৈঠকটি হবে না। ইউনূসের বক্তব্য নয়াদিল্লি ভালোভাবে নেয়নি।

আরও পড়ুন – ৬ দেশ কাঁপলো এক ভূমিকম্পে

গত বছরের অক্টোবরে সামোয়াতে কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনেও মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে সাক্ষাৎ হতে পারত। কিন্তু দুই নেতার কেউই তাতে যোগ দেননি।

৬ দেশ কাঁপলো এক ভূমিকম্পে

0
প্রতিকী ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারে পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়েছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশে এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার ঘটে যাওয়া ভুমিকম্পের উৎপত্তিস্থলে প্রথমটি মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। এই ভূমিকম্পের প্রভাবে এদিন দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে কেঁপে উঠে রাজধানীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্তি¡ক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-উত্তরপশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি।

ইউএসজিএস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং চীনে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে পরপর দুটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এর একটি ৭ দশমিক ৭ মাত্রার, অন্যটি ৬ দশমিক ৪ মাত্রার। মিয়ানমারে থেকে এর উৎপত্তি হয়। তবে থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলে অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মিয়ানমার

মিয়ানমারের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এবং এর গভীরতা ছিল ভূঅভ্যন্তরের ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীরে। প্রথম বার আঘাত হানার পর আরেকটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের তীব্রতায় রাস্তাঘাট ফাটল দেখা গেছে এবং ভবনের টুকরো খসে পড়েছে। ইরাবতী নদীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্মিত একটি সেতু ভেঙে পড়েছে। ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ে ৯১ বছরের পুরোনো আভা সেতু, যা পুরোনো সাগাইং সেতু নামেও পরিচিত।
মিয়ানমারের ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘আমরা হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করার জন্য ইয়াঙ্গুনে অনুসন্ধান শুরু করেছি এবং ঘুরে দেখছি। এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’

থাইল্যান্ড

মিয়ানমারে উৎপন্ন ভূমিকম্প থাইল্যান্ডে আঘাত হানে। রাজধানী ব্যাংককে কম্পনে নির্মাণাধীন একটি ৩০ তলা সরকারি অফিস ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে কর্মরত অন্তত ৪৩ জন শ্রমিক ভেতরে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ ও মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। উত্তর ও মধ্য থাইল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রচারিত একটি ভিডিওতে ভবনগুলো কাঁপতে দেখা গেছে। আতঙ্কে লোকজন রাস্তায় ছোটাছুটি করেন। দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত করে ব্যাংককে। ভূমিকম্পের প্রভাবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উত্তর ব্যাংককের ওই ভবনটি ধসে পড়ে।

বাংলাদেশ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুবাইয়াত কবীর জানিয়েছেন, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের মান্দালয়। ঢাকা থেকে উৎপত্তিস্থলের দূরত্ব ৫৯৭ কিলোমিটার।

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের প্রভাবে অনুভূত হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির হয়নি।

চীন

চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টার (সিইএনসি) জানিয়েছে, চীনের ইউনানে এর কম্পন অনুভূত হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৯।

ভারত

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমিওলজি জানিয়েছে, মেঘালয়ের পূর্ব গারো পাহাড়ে ৪ মাত্রার ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

লাওস

চীনের সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার এক প্রতিবেদেন বলা হয়, মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে লাওসের কয়েকটি শহরে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন – ডাম্ব ট্রাকের চাপায় ৩ বছরের ছেলে শিশুসহ মায়ের মৃত্যু

লাও জাতীয় ভূমিকম্প তথ্যকেন্দ্রের তথ্যমতে, লাওসের উত্তর ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হয়েছে। রাজধানী ভিয়েনতিয়েনেও কেঁপে উঠে। দেশটির কর্তৃপক্ষ সেখানকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকতে সতর্ক করেছে।

ডাম্ব ট্রাকের চাপায় ৩ বছরের ছেলে শিশুসহ মায়ের মৃত্যু

0
দুর্ঘটনার স্থর।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া শহরের ত্রিমোহনী বাইপাস মোড়ে ডাম্ব ট্রাকের চাপায় মা ছেলে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

চৌড়হাস হাইওয়ে পুলিশের এস আই জয়দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন ইতি খাতুন (৩০) ও ছেলে আফনাফ ইব্রাহিম (৩)। তবে মোটরসাইকেল চালক ইতি খাতুনের স্বামী আব্দুল কাদের সিদ্দিকী (৪০) ও মোটরসাইকেলটি অক্ষত রয়েছে।

জয়দেব বলেন, একটি ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলে মারা গেছেন। তাদের মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়ার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত একজনকে আগেই হাসপাতালে পাঠিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রত্যক্ষদর্শী মিরপুর উপজেলার নওদা খাদিমপুরের বাসিন্দা সিদ্দিক আলী বলেন, একটি ডাম্ব ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়েছে। আমরা মোড়ে পৌঁছেই দুইজন মৃত দেখেছি।

আরও পড়ুন – খোকসার সবজি চাষীরা আবারও লোকশানের আশঙ্কা

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা গুরুতর না হওয়ায় রিলিজ করা হয়েছে। মৃতদের মরদেহ এখনো আনা হয়নি।

খোকসার সবজি চাষীরা আবারও লোকশানের আশঙ্কা

0

স্টাফ রিপোর্টার

ফুল কপি, বাঁধা কপি, টমেটোর আবাদ করে লোকসানের পর ডাটা শাকে লাভের আশা করছিলেন চাষীরা। তবে ঈদ উৎসব সে আশায় আবার বাগরা দেওয়ার আশঙ্কার করছে তারা।

খোকসার শিমুলিয়া ইউনিয়নের সিংঘরিয়া গ্রামের কৃষক গবিন্দ মন্ডল। সারা বছরই সবজি জাতিয় ফসল আবাদ করেন। ১৫ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি ডাটা শাক আবাদ করেছেন। আশার থেকে আনেক বেশী ফলন হয়েছে। রোজার কারণে বাজারে ডাটা শাকের চাহিদাও প্রচন্ড। আসন্ন ঈদুল ফিতরের কারণে প্রায় ১ সপ্তাহ সবধরনের সবজির চাহিদা পরে যাবে। এ সময়ে উপজেলা প্রায় শতাধিক বিঘা জমির ডাকা জাতিয় সবজির বয়স বেশি হয়ে যাবে।

সবজি জাতিয় ফসলের কৃট নাশক ও বীজ সার বিক্রির সাথ জড়িত কম্পানীর লোকদের দেওয়া তর্থের ভিত্তিতে জানা গেছে, পৌর এলাকার পাতিলডাঙ্গি, বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের জাগলবা, ভবানীপুর, চান্দট, বনগ্রাম, শিমুলিয়ার ইউনিয়নের ৫টির বেশী গ্রাম, গোপগ্রাম ইউনিয়নের তিন গ্রাম, শোমিসপুর ইউনিয়নের ৩ গ্রামে, আমবাড়িয়া ইউনিয়ন ২টি গ্রামে সারা বছরই সবজি আবাদ হয়ে থাকে। এই সবজিই স্থানীয়দের চাহিদার বড় অংশ পুরণ করে।

শীতের মৌসুমে ফুল কপি, বাঁধা কপি, টমেটোর চাহিদা থাকলেও মধ্যস্বত্বা ভোগিদের কারণে চাষীরা ফসরের দাম পায়নি। অনেক কৃষক লোকশান ঠেকাতে জমি থেকে পালংশাক, মূলা, বাঁধা কপি তোলেই নাই।

সিংঘরিয়া গ্রামের ডাটা চাষী গবিন্দ মন্ডল বলেন, শুধু তিনি নিজে নন। তারমত শতশত কৃষক এ বছর লোকশানের ভয়ে অনেক পদের শীতের সবজি জমি থেকে তোলেন নি। তিনি ১ বিঘা জমিতে বাঁধা কপি রোপণ করেছিলেন। তার ক্ষেতে এখনো কয়েকশ কপি রয়ে গেছে। রোজায় বিক্রির আশায় ১৫ কাঠা জমিতে ডাটা শাক বপণ করেছিলেন। আশার থেকেও বেশী ফলন হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছিলেন। ঈদের কারণে কয়েক দিন সবজির চাহিদা থাকবে না। তাই সবজিতে লোকশানের আশঙ্কা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন – শান্ত কামার পাড়া

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, পুরাতন চাষ পদ্ধতির কারনে এই এলাকার কৃষকরা পিছিয়ে আছেন। তারদের উচ্চ ফলনশীল চাষ আবাদে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করছি। তারা যদি সময় মত বীজ বপল করতে পারেন তবে সঠিক সময়ে ফসল তুলতে পারবে। তা হলে তাদের আর লোকমানের কথা ভাবতে হবে না।

শান্ত কামার পাড়া

0

ঈদ ব্যস্ততা নেই কামার পাড়ায়। দিন-রাত লোহা পেটানোর শব্দ কানে আসেনা প্রতিবেশীদের। দিন পাল্টেছে। বসন্তের অলস দুপুরে কামার পাড়ায় অনেকটাই শুনশান নিরবতা বইছে। বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার খোকসার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মামুদানীপুর কামার পাড়ার ছবি গুলো

আরও পড়ুন –

আরও পড়ুন –

ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে প্রাগপুর-কুষ্টিয়া মহাসড়কের প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বালু ভর্তি ট্রলির ধাক্কায় আসমত আলী (৬০) নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হন।

অপরদিকে, সকাল ৮টার দিকে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে সরকারি সহায়তার (ভিজিএফ) চাল নিতে গিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাসের ধাক্কায় নার্গিস বেগম (৫০) নামে এক নারী প্রাণ হারান।

নিহত আসমত আলী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের মৃত লালু মন্ডলের ছেলে এবং নার্গিস বেগম মথুরাপুর ইউনিয়নের মথুরাপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মতলেব মন্ডলের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসমত আলী তারাগুনিয়া বাজারে পান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে বালু ভর্তি ট্রলির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি সহায়তার চাল নিতে গিয়ে নিরাপদ পরিবহন নামের একটি বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান নার্গিস খাতুন।

আরও পড়ুন – ঈদে ব্যস্ততা নেই খোকসার কামার পাড়ায়

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈদে ব্যস্ততা নেই খোকসার কামার পাড়ায়

0

স্টাফ রিপোর্টার

ঈদ এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যেতো কামার পাড়ায়। দিন-রাত লোহা পেটানোর শব্দ। ঘুমে ব্যঘাত হত প্রতিবেশীদের। দিন পাল্টেছে। এখন আর ব্যস্ততা নেই কামার পাড়ায়। অনেকেই পেশা ছেড়েছেন। কিন্তু শচীন কর্মকার, সুদেব কর্মকার ও সুকুমার কর্মকার সহোদর পেশা ছাড়েনি। তবে তারা আর আগামী প্রজন্মকে লোহা পেটানোর ব্যবসায় আনতে চান না।

সূত্র মতে কুষ্টিয়ার খোকসার ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে মানিকাট, কমলাপুর, আজইল, ভবানীগঞ্জ, উথলি, মামুদানীপুরসহ ১০টি গ্রামে প্রায় ৭ শত পরিবার কৃষি ও ঘর গৃহস্থলীর কাজে দা, কাঁচি, কুড়াল, বটিসহ নানা পদের জিনিষপত্র তৈরী করে দুধে মাছে চলতো। কিন্তু লোহা পিটে যন্ত্র বানোর মত কঠিন কাজ এখন আর কেউ করতে চায় না। এ ছাড়া স্পাত লোহা কয়লা সংকট রয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও ঈদ উৎসব এলে পাইকাররা গ্রামে গ্রামে এসে দিনের পর দিন মালের জন্য অপেক্ষা করতেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের মামুদানীপুর কামার সম্প্রদায়ের ১৪ থেকে ১৫টি পরিবারের সববাস ছিল। এই গ্রামের লোহার কর্মকারদের তৈরী দা, কাঁচি, কুড়াল, বটি, খুন্তা (মাটিতে গর্ত করার যন্ত্র) এলাকার চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হতো। স্পাত লোহা, কয়লা ও শ্রমিকের সংকটে অনেকেই লোহার কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় পাড়ি জমিয়েছে।

তবে পেশা বদলাতে পারে মামুদানিপুর গ্রামের মৃত তারাপদ কর্মকারের তিন ছেলে শচীন কর্মকার, সুদেব কর্মকার ও সুকুমার কর্মকার। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও চার পুরুষের ব্যবসা ধরে রেখেছেন। ঘর গৃহস্থালীর কাজে ব্যবহারের দা, বটি কাচি তৈরী ও মেরামতের কাজ করে তাদের তিন ভাইয়ের ১২ জনের পৃথক পরিবার চলছে। ছেলে সন্তানদের লেখা পড়া করাচ্ছেন। তবে আগামী প্রজন্মকে আর এই পেশায় আনতে চান না।

পাইকপাড়া ফুলতলা থেকে ফুলবাড়ি বাজারে যেতেই মামুদানীপুর। পাকা রাস্তার পাশে বিশাল বটগাছের নিচে সাড়ে সাড়ে কয়েকটা জীর্ণশীর্ন ঘর দাঁড়িয়ে আছে। শনখড়ে দিয়ে পুরু করে ছাউনি দেওয়া একটি ঘরে কর্মব্যস্ত কয়েকজন মানুষ। লোহা পেটার টুংটাং শব্দের সাথে হাফরের (বাতাস দেওয়ার যন্ত্র) বাতাসের ফুস ফাঁস শব্দ রাস্তা থেকেই পাওয়া যাচ্ছিলো। একমনে কাজ করেছেন তিনজন। পাশে চড়াটের উপর বসে গল্প করছিল কাজ দিতে আসা অপেক্ষায় থাকা কৃষকেরা।

পৈত্রিক ব্যবসার প্রধান কারিগর শচীন কর্মকার। খুবই কম কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন সবার ছোট সুকুমার কর্মকার। সামান্য কিছু জমির ফসল আর ব্যবসার আয় দিয়ে তারে তিন ভাইয়ের তিনটি সংসার চলে। আগে ঈদের এক মাস আগে থেকে কাজের চাপ বৃদ্ধি পেত। এখন আর তেমন ব্যস্ততা নেই। সারা বছর ঘর গৃস্থালি ও কৃষকের দা কাঁচি তৈরী ও মেরামত করে থাকেন।

তাদের পাশেই জীর্ণদশাগ্রস্থ ঘরে কাজ করছিলেন পাশের গ্রাম ফুলবাড়ির ভম্বল কর্মকারের ছেলে বিপ্লব কর্মকার। মাঠে ৬শতক জমি তার পূজি। থাকেন পরের জমিতে ঘর করে। এই ব্যবসা করেই জীবীকা চলে।

আরও পড়ুন – খোকসায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

সুদেব কর্মকার ঘরের এক কোনে বসে কাঁচিতে ধার তুলছিলেন। তিনি জানান, আগে ঈদ পূজা এলেই কর্মব্যস্ততায় তাদের চোখের ঘুম বন্ধ হয়ে যেতো। এখন আর তেমন কাজ হয় না। কারখানায় তৈরী রেডিমেট দা কাচি বটির উপর মানুষের ঝোঁক বেশী। লোহার কাজ তাদের পূর্ব পুরুষেরাও করতে। এই গ্রামে ১৪/১৫ ঘর কর্মকার সম্পদায়ের লোক বসবাস করতো। স্পাত লোহা, শ্রমিক ও মূলধন না মেলায় সবাই পেশা ছেড়েছে। তাদের তিন ভাইয়ের বিকল্প পেশা না থাকায় গ্রামে শুধু তারাই এই ব্যবসা করছেন। তবে ছেলেদের আর এই ব্যবসায় আনতে চান না।

খোকসায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

0

স্টাফ রিপোর্টার

খোকসায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ৮ টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এরপর একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি খোকসা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে খোকসা জানিপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দীপন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ মঈনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধাকলীন কমান্ডার মো. আলাউদ্দিন খান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেশমা খাতুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবির হোসেন সোহাগ, খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আমজাদ আলী সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, আনসার বাহিনী, সাংবাদিক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা।

কুচকাওয়াজ শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা অডিটোরামে। আলোচনা সভায় বক্তারা মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরেন এবং নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন – একাত্তরের সাথে চব্বিশকে কোন ভাবেই তুলনা করা যাবে না – রাশেদ খান

উক্ত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপিত হয়।

একাত্তরের সাথে চব্বিশকে কোন ভাবেই তুলনা করা যাবে না – রাশেদ খান

0

কুষ্টিয়া প্রতিরিধি

একাত্তরের সাথে চব্বিশকে কোন ভাবেই তুলনা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, চব্বিশ আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এইবার যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে এই গণঅভ্যুত্থান অতীতের বিপ্লবের মতো ব্যর্থ হবে।

আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, একাত্তরের সাথে চব্বিশকে কোন ভাবেই তুলনা করা যাবে না। একাত্তর আমাদের স্বাধীন ভুখন্ড উপহার দিয়েছে। এই স্বাধীনতাকে কোন ভাবেই অন্যকোন বিপ্লব বা আন্দোলনের সাথে তুলনা করা যাবে না। একাত্তরের শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে আমরা অন্যান্য আন্দোলন করার সাহস পেয়েছি।

বুধবার (২৬ মার্চ) কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, চব্বিশে আমরা সর্বশেষ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এই লড়াই সবে মাত্র শুরু হয়েছে। হাসিনার পতন হয়েছে কিন্তু হাসিনার ফ্যাসিবাদ তন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। এখনো সচিবালয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ সকল বাহিনীতে আওয়ামী লীগের প্রেত্মাতারা রয়েছে। আমাদের লড়াই তখনি শেষ হবে যখন আমরা আওয়ামী লীগের সা¤্রাজ্যকে ভেঙে চুড়ে খানখান করে ফেলতে পারবো।

সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন সম্ভব নয় এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলামের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, নাহিদ ইসলামের উপরে মানুষ আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা রেখেছিলেন। তিনি উপদেষ্টা হয়েছেন। গণহত্যার বিচার করবেন, রাষ্ট্র সংস্কার করবেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবেন। কিন্তু সেটি না করে পদত্যাগ করে দল গঠন করেছেন। এবং আগামীতে এই দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়াকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন।

রাশেদ খান আরও বলেন, সরকারে থেকে যে কাজ করা যায়, সরকারের বাইরে এসে সে কাজগুলো করা যায় না। নাহিদ ইসলাম এখন যে কথাগুলো বলছেন গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার। তার কাছে আমার প্রশ্ন আপনি কেন রাষ্ট্র সংস্কার করলেন না, আপনি কেন গণহত্যার বিচার করলেন না। আপনি কেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করে পদত্যাগ করলেন। আপনারা ছাত্র উপদেষ্টারা যখন শপথ নিলেন তখন আপনারাই বলেছিলেন যারা উপদেষ্টা পথে গেল তারা আগামীতে নির্বাচন করতে পারবে না। এখন সব ভুলে গিয়েছেন। যদি এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিচার না হয়, রাষ্ট্র সংস্কার না হয়, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করা হয় তাহলে সব থেকে বেশি দায়ী থাকবেন তিনজন ছাত্র উপদেষ্টা। সুতরাং আমি নাহিদ ইসলামকে বলবো আপনি এখন যে কথা বলছেন তা বাস্তবায়নের জন্য এদেশের জনগণ আপনাকে সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আপনি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।

প্রপধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাশেদ খান বলেন, চীন থেকে ফিরে আপনি জাতীয় সংলাপের আহব্বান করুন। সেই জাতীয় সংলাপে সকল দল যারা গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা রেখেছে তাদের মতামত নিবেন। আমরাও দেখতে চাই কারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাই। কারা রাষ্ট্র সংস্কার চাই না, কারা গণহত্যার বিচার চাই না।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে জানিয়ে গণ অধিকার পরিষদের এই নেতা বলেন, তার আগেই প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের যারা গণহত্যার সাথে জড়িত তাদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।

আমি প্রধান উপদেষ্টাকে বলবো রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। আপনি সবাইকে ডেকে রাষ্ট্র সংস্কার করার উদ্যোগ নেন। এসব পাঠ্যপুস্তক দিয়ে কিছু হবে না।

এ সময় গণ অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্র অধিকার পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন – শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তালা ঝুলছে

এরপর তিনি কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তালা ঝুলছে

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী শিক্ষকদের দ্ব›েদ্ব র জের ধরে বিদ্যালয়টির প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে এক শিক্ষক। গত তিন ধরে বিদ্যালয়ের অফিস চলছে পেছনের গেট দিয়ে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র নিতে ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ ছাত্র অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষকরা।

প্রতিবছর বিদ্যালয়ে একই প্রকাশনার গাইড বই ধরানো হয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিনা রশিদে দফাই দফাই ফিস আদায়সহ নানা অনিয়ম দুনীতির ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা আইভিন আরা’র সাথে বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষকর বিরোধ দীর্ঘ দিনের। চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে আবার একই প্রকাশনার গাইড বই ধরানো কেন্দ্র করে রবিবার (২৩ মার্চ) শিক্ষকদের মধ্যে মতোবিরোধ হয়। এ ঘটনার সূত্রধরে এ দিন বেলা ২টার দিকে বিদ্যালয়টির প্রধান গেটে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষকরা। সেই থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান গেট বন্ধ। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হঠাৎ করে এসে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশ পত্র সরবরাহের জন্য বিদ্যালয়ের পেছনের দিকে প্রধান শিক্ষকের বাড়ির আঙ্গিনার একটি ছোট গেট খুলে বিদ্যালয়ের নিত্য দিনের অফিসিয়াল কাজ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষক এবং স্থানীয় ক্ষুদ্ধ হয়েছেন।

শিক্ষক হাবিবুর রহমান স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার দায় স্বীকার করে বলেন, তিনি প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ, বিদ্যালয়ের অফিস ও প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের যাবতীয় কর্মকান্ড স্থবির করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে তিন তিনটি তালা ঝুলছে। বিদ্যালয়ের ভিতরে সুনসান নিরবতা। বিদ্যালয়ের পেছনেই প্রধান শিক্ষকের বাড়ি। বাড়িতেই পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষকা আইভিন আরাকে। তিনি বিদ্যালয়ের সাভাবিক কাজ কর্ম চলছে বলেই দাবি করেন। তিনি তার বাড়ির আঙ্গিনায় বিদ্যালয়ের গেট খুলে অফিসয়ালরা কাজ করছে বলেও দাবি করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান গেটে ফিরে এসে দেখা হয়ে যায় দুইজন এসএসসি পরীক্ষার্থীর সাথে। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মঙ্গলবারও তারা দুইজনে প্রবেশ পত্র নিতে এসে ছিল। কিন্তু প্রধান গেটে তালা দেওয়া দেখে ফিরে গেছেন। আজ এসেছে। এখনো স্কুলের অফিস পর্যন্ত পৌচ্ছাতে পারেনি।

বিদ্যালয়টির সাবেক সভপতির ছেলে মনিরুজ্জামান কাকন বলেন, বিদ্যালয়ের গেটে তালা মারা খুবই অন্যায় হয়েছে। সমস্যা সমাধানের বিকল্প পদ্ধতি আছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও বর্তমান সভাপতির ভাই হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোটা টাকার বিনিময়ে একই প্রকাশনার গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। প্রধান শিক্ষিকার কারণে একাধিক শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধ রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষিকা আইভিন আরা জানান, যে শিক্ষক বিদ্যালয়ের গেটে তালা ঝুলিয়েছে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আছে। তবে তিনি বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা করছেন। তিনি তার বাড়ির আঙ্গিনার গেট দেখিয়ে বলেন এই গেট দিয়ে গিয়ে অফিসিয়াল কাজ করা হচ্ছে। নিজের বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে আজ মাহান স্বাধীনতা দিবসে উপজেলা প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, গতকাল সভাপতি তালা খুলে দিতে চেয়েছিলেন। আগামী কাল তারা ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদিপ্ত রায় দ্বিপন বলেন, আগামী কাল ২৭ মার্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ব্যবস্থা নেবেন। যদি উনি ব্যর্থ হন তবে তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন – খোকসায় রিভালবার ও দেশী অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বিদ্যালয়ের গেটে তালা দেওয়ার সাথে জড়িত শিক্ষকের ভাই শরিফ মুহম্মদ রাশেদ এর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

সর্বশেষ সংবাদ

গভর্নমেন্ট আমাদের, আগের ডিসি গাদ্দারী করেছেন আমরা তাকে বদলি করে দিয়েছি – পরাজিত এমপি...

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ওপর দোষ চাপালেন কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। সে সঙ্গে শাস্তিস্বরূপ তাকে...

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বললেন – আমির হামজা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও...

দিন-রাত উড়ছে জাতীয় পতাকা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তবে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর...

কুষ্টিয়ায় ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ, আটক দুই

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদক ও চোরচালানী পণ্যসহ দুই চোরকারবারীকে আটক করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ)...

নিহতদের পরিবার পেলো ত্রানের আর্থিক সহায়তা

স্টাফ রিপোর্টার দৌলতদিয়া ঘটে পদ্মার পানিতে ডুবে যাওয়া বাসের নিহত তিন যাত্রীর পরিবারের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রসাশন। পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ডুবে...