শনিবার, মার্চ ২৮, ২০২৬.
Home Blog Page 123

কুষ্টিয়ায় মিনিকেট চাল কেজিতে বেড়েছে পাঁচ টাকা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার খাজানগর চালের সর্ববৃহৎ মোকাম। এখানকার উৎপাদিত চাল যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। সেই মোকামের ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের গোডাউনে ধান নেই। এ কারণে বন্ধ হয়ে গেছে চাল উৎপাদন। আর এই সুযোগে খুচরা বাজারে বেড়েই চলেছে মধ্যবিত্তের সবচেয়ে পচ্ছন্দের মিনিকেট চালের দাম।

খাজানগরের কয়েকটি অটোরাইস মিল ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক অটোরাইস মিল মিনিকেট চাল উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, বাজারে মিনিকেট ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য তারা চাল উৎপাদন বন্ধ রেখেছেন। তবে এসব কোম্পানির নামে চাল ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে খুচরা বাজারে। কিন্তু দামটা আকাশছোঁয়া। মিল গেটে প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮১ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ধান না থাকলেও অনেক মিলারের কাছে প্রচুর ধান রয়েছে। সুযোগ বুঝে চাল উৎপাদন করে ঠিকই বাড়তি মুনাফা অর্জন করছে। কিন্তু প্রশাসনকে দেখাচ্ছে ধান নেই। আর নিয়মতান্ত্রিক অভিযানে মিলারদের ফাঁক-ফোঁকর খুঁজে পাচ্ছে না প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

চালের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন প্রধান বলেন, বাজারে মিনিকেট ধান নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গ খুঁজে অল্প কিছু ধান নিয়ে আসছেন তার দাম পড়ছে ২২৫০ টাকা। এতো দামে ধান কিনলে চালের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।

জয়নাল আবেদীন আরও বলেন, খাজানগরের ৫০ শতাংশ মিলমালিক তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করতে হিসাব-নিকাশ কষছেন।

শিগগিরই চালের দামে লাগাম টানার লক্ষণ দেখছেন না খাজানগরের দাদা রাইস মিলের মালিক আরশাদ আলী। তিনি বলেন, নতুন মিনিকেট ধান উঠতে এখনো দেড় মাসের মতো অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে মিনিকেট চালের দাম কমার আর কোনো সুযোগ নেই।

এই ব্যবসায়ী বলেন, গত বছর ব্যাপক বন্যার পর আমরা সরকারকে চাল আমদানির পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার কী করেছে আমরা জানি না। কৃষি বিভাগ ধান উৎপাদন নিয়ে যে পরিসংখ্যান দেয়, সেটাও একটু যাচাই করে দেখা দরকার।

রমজানেও কয়েক দফা বেড়েছে চালের দাম। মৌসুমের শুরুতে যে চাল বিক্রি হয়েছিল ৬২ থেকে ৬৪ টাকা, সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮১ টাকা।

আর কুষ্টিয়ার খুচরা বাজারে মিনিকেট ৮০ থেকে ৮৬ টাকা কেজি, কাজলতা বিক্রি হচ্ছে ৭৬ টাকা, মোটা আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুষ্টিয়ার বাজারে সব ধরণের চাল কেজি প্রতি ৩-৫ টাকা বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিনিকেট চাল। বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা।

এদিকে চালের এই বাড়তি দামের কারণ জানতে সোমবার দুপুরে খাজানগরের মোকামে অভিযান চালান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম শীল। অভিযানে অনুমোদনের তুলনায় ধানের অতিরিক্ত মজুত ও চালের বস্তায় ওজন কম দেওয়ায় দুটি রাইস মিলকে জরিমানা করে প্রশাসন। ইউএনও ছাড়াও অভিযানে অংশ নেন কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ও এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

খাজানগরের পলাশ রাইস মিলে অভিযান শেষে পার্থ প্রতীম শীল জানান, এই মিলের লাইসেন্স যতটুকু পারমিট করে তার থেকে অতিরিক্ত মজুত রয়েছে। আমরা সেগুলো বিধান অনুযায়ী তিনদিনের মধ্যে ডিসপোজাল করার নির্দেশ দিয়েছি। একইসঙ্গে তাকে সতর্কতামূলক জরিমানা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন – বাংলাদেশীকে মৃত ভেবে সীমান্তে ফেলে গেলো বিএসএফ

ইউএনও বলেন, এ ছাড়া অন্যান্য মিলগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি, উৎপাদনের তারিখ ও নিট ওজন বস্তার গায়ে লেখা নেই। লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরও সতর্কতামূলক জরিমানা করা হয়েছে। বাড়তি দামে কেউ যাতে চাল বিক্রি করতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ও এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (১৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুলতান মারুফ তালহা, মুজাহিদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের আহবায়ক জহিরুল ইসলাম জহির, সদস্য সচিব রেদোয়ান আফ্রিদি, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আহবায়ক জুবায়ের, ইব্রাহীম, নয়ন হোসেন প্রমুখ।

জানা গেছে, রবিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তুত ১৫ জন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে ছুটে এসেছেন দলের শতশত নেতাকর্মীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীরা বলেন, রবিবার রাত ৮টার দিকে আয়াস, আকাশ, রাসেল সহ তাদের লোকজন এ হামলা করেছে। এতে ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান, সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়াদ ইসলাম শ্রেষ্ঠ, হুমাইরা কবির সাদিয়া, মুখ্য সংগঠক এম ডি বেলাল হোসেন বাঁধনসহ শতশত নেতাকর্মী। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

আহতরা বলেন, আয়াস, আকাশ, রাসেল সহ তাদের লোকজন আমাদের উপর হামলা করেছে। এতে আমরা গুরুতর আহত হয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন – বাংলাদেশীকে মৃত ভেবে সীমান্তে ফেলে গেলো বিএসএফ

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক হাফিজুর রহমান বলেন, আহতরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা সেবা চলছে। তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন – খোকসায় ছাত্রলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আটক

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

বাংলাদেশীকে মৃত ভেবে সীমান্তে ফেলে গেলো বিএসএফ

0

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ সীমান্তে এক বাংলাদেশিকে নির্যাতনের পর মৃত ভেবে ফেলে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (১৬ মার্চ) দুপুরের সদর উপজেলার মহেশপুর সীমান্তের কুমিল্লাপাড়া বিওপি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশির নাম ফারুক হোসেন (৪২)। তিনি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বেরইল গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে।

বিজিবি ও মহেশপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সীমান্তের কুমিল্লাপাড়া বিওপি সংলগ্ন মাঠে কৃষকরা কাজ করতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুক হোসেনকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তারা।

নির্যাতনের শিকার ফারুুক হোসেনের স্ত্রী হাসি খাতুন জানান, শনিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি ও তার এক সন্তান ভারতের খোসালপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এসময় ফারুক হোসেন বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে বিএসএফের হাতে আটক হন। আটকের পর তাকে নির্মম নির্যাতনের এক পর্যায়ে মৃত ভেবে সীমান্তে ফেলে রেখে যায় বিএসএফ।

হাসি খাতুন আরও জানান, ১০ বছর ধরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভারতের ভেলোরে বসবাস করে আসছিলেন ফারুক। সেখানে তিনি বাংলাদেশি রোগীদের সহায়তা করতেন। রোগী কমে যাওয়ায় অবৈধ পথে ভারতের বরণবেড়ে সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টাকালে বিএসএফের হাতে আটক হন।

আরও পড়ুন – খোকসায় ছাত্রলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আটক

এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশি নির্যাতনের তথ্য সংগ্রহ করতে সীমান্ত এলাকা ও বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

খোকসায় ছাত্রলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আটক

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিক ছাত্রলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভপতিকে আটক করেছে।

শনিবার দিনগত রাতে উপজেলার মহিষবাথান গ্রাম থেকে মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩১) কে আটক করা হয়।

আরও পড়ুন – আবরার হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃতদন্ডের রায় বহাল

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মহিষবাথান গ্রামের মোঃ আব্দুর রহমান প্রামানিক ছেলে। গত ৯ ফেব্রæয়ারি খোকসা থানায় দায়েরকৃত ৪ নম্বর মামলায় সে এজাহার ভুক্ত আসামী।

আবরার হত্যা মামলায় হাইকোর্টে মৃতদন্ডের রায় বহাল

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহালের রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রæত রায় কার্যকর ও পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন।

রবিবার (১৬ মার্চ) আদালতের রায় ঘোষণার পরে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের বাসায় আবরারের মা রোকেয়া খাতুন এ সন্তুষ্টির কথা জানান। এসময় আবরার ফাহাদের দাদা আব্দুল গফুর বিশ্বাস, মেজ চাচি নিলু ও সেজ চাচি মমতাজ বেগমও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শহীদ আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্ট আজ যে রায় দিয়েছেন তাতে আমি খুশি। শুধু আমরা না, সারাদেশের মানুষ খুশি। ২০২২ সালের রায় বহাল রয়েছে। প্রথম যখন রায় ঘোষণা করা হয়েছিল, সে রায়েও দেশবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছিল। বর্তমান সরকার, বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্টরা, ছাত্রজনতা, সাংবাদিক ও দেশবাসীর সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। মৃত্যুর ছয় বছর পরেও আমার সন্তানকে কেউ ভুলে যায়নি। সবাই আমার আবরারকে মনে রেখেছে, কেউ ভুলে যায়নি।

তিনি আরও বলেন, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান র‌্যাগিং মুক্ত থাক। বর্তমানে যেমন জুলুম অত্যাচার নেই। তেমন যেন সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমসময় নিরাপদ থাকে। ভবিষ্যতে যেন আমার মতো কাউকে সন্তান হারাতে না হয়। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন লক্ষ্য যেন ধ্বংস না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে রায় হয়েছে, সেটা দ্রæত কার্যকর করা হোক। যাতে আবরারের মতো কাউকে জুলুম অত্যাচার করতে না পারে কেউ। এরকম কাজ করি কেউ সাহস না পাই। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের উচিৎ শিক্ষার্থীদেরকে ছেলের মতো করে দেখা। পিতামাতার মতো শাসন করতে হবে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রেখে রবিবার (১৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মন্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামি হলেন বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় ২০ জনের মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও মামলার নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৬ হাজার ৬২৭ পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্স ও মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এরপর আসামিরা দন্ড থেকে খালাস চেয়ে ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল করেন। (ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। দন্ডিত আসামিরা উচ্চ আদালতে ফৌজদারি আপিল এবং জেল আপিল করতে পারেন)

২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালত আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০ জনকে মৃন্ড্যুদন্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অসম চুক্তি এবং ফারাক্কার পানি আগ্রাসন নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসের জেরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নৃশংস কায়দায় পিটিয়ে হত্যা করে সংগঠনটির ক্যাডাররা। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ। মাত্র ৩৭ দিনে তদন্ত শেষ করে একই বছরের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. ওয়াহিদুজ্জামা।

আরও পড়ুন – বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের সুস্থ জীবনের স্বপ্ন তিন লাখ টাকায় আটকে গেছে

আবরার ফাহাদ ১৯৯৮ সালে ১২ ফেব্রæয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের রায়ডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. বরকত উল্লাহ এবং মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন। আবরার কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং পরে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে পড়াশোনা করেন। নটরডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা শেষে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ আবরার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। পড়াশোনা চালাকালীন তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ বর্তমান বুয়েটে মেকানিক্যাল বিভাগে অধ্যায়নরত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের সুস্থ জীবনের স্বপ্ন তিন লাখ টাকায় আটকে গেছে

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বাবা দিনমজুরের কাজ করে। মা গৃহিনী। পরিবারে অভাব, অনটন ও দৈন্যতা তাদের নিত্যসঙ্গী। তবে এ সব দৈন্যদশা কাটিয়ে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে মেলে ধরেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আশিকুর রহমান আশিক। স্বপ্ন পড়াশোনা শেষ করে পুলিশ কর্মকর্তা হবেন। দেশ সেবার পাশাপাশি হাল ধরবেন সংসারে। পাজর ভাঙা পরিশ্রম থেকে রেহায় দিবেন বাবা – মাকে।

তবে সম্প্রতি তার শরীরে বাসা বেধেঁছে এক ধরেনের রোগ। চিকিৎসক জানিয়েছে এই রোগকে ‘ প্যারালাইজড ‘বলা হয়। ফলে তার জালে আর ধরা দিলোনা পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন। আর এখন অর্থাভাবে থমকে গেছে চিকিৎসা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার বাসনা। প্রতিমাসে অন্তত একবার হলেও থেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। কিন্তু গেল ছয় মাসে অর্থাভাবে একবার নেওয়া হয়নি থেরাপি। ফলে ধীরে ধীরে তাঁর শরীরের ডান হাত, কাঁধ ও ডান পার্শ্ব শক্তি হারাচ্ছে।

আশিক উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের তুষার মালিয়াট গ্রামের মো. আরিফুল ইসলামের ছেলে। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সমাজতত্ত¡ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দুই ভাইবোনের মধ্যে আশিক বড়। ছোটবোন স্থানীয় একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবা পেশায় একজন দিনমজুর ও মা গৃহিণী। তাদের নিজস্ব কোনো জায়গা জমি নেই। তার দাদা মৃত কেছমত আলী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কয়েক বছর আগে একখন্ড সরকারি জমিসহ বীর নিবাস নামে একটি পাকা ঘর দিয়েছেন সরকার। সেখানে বাস করেন তারা।

আশিকুরের ভাষ্য, চিকিৎসক তাকে বলেছেন উন্নত চিকিৎসা করালে সুস্থ হয়ে উঠবেন তিনি। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন তিন – চার লাখ টাকা। সুস্থ হলে পুলিশ না হোক, অন্তত ব্যাংকের চাকুরি করার প্রত্যাশা তার।

গতকাল দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জিকে খালের ধারে অবস্থিত বীর নিবাস নামের একটি ছোট্ট ঘর। ঘরের একটি কক্ষের বিছানার উপর বসে অকেজো হাতটি নড়াচড়া করার চেষ্টা করছেন আশিক। তার চোখে মুখে হতাশার চাপ। সুস্থ জীবনে ফিরে আসার আকুতি।

এসময় চবি শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ২০২৩ সালের নভেম্বরে একদিন হঠাৎ ডান হাত ও ডান পাশ্বের কিছু অংশ অকেজ হয়ে যায়। তখন চট্টগ্রাম পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন চিকিৎসক। উপার্জনের একমাত্র অবলম্ব এইচপি ব্র্যান্ডের ল্যাপটপটি বিক্রি করে পরীক্ষা – নিরীক্ষা করা হয়। পরে চিকিৎসক বললেন, এটি এক প্রকার প্যারালাইজড রোগ। তখন থেরাপির সঙ্গে দামি দামি ওষুধ লিখলেন চিকিৎসক। প্রথম কয়েকমাস ওষুধ সেবন করলাম। কয়েকবার চিকিৎসকের কাছেও গেলাম। তবে অর্থাভাবে গেল ছয়মাস চিকিৎসা বন্ধ আছে।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসক দ্রুত দেশের বাইরে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে খরচ লাগতে পারে তিন – চার লাখ। চিকিৎসায় বিলম্ব হলে সারা শরীর প্যারালাইজড আক্রান্ত হবার শঙ্কা রয়েছে। তবুও অর্থাভাবে থমকে আছে জীবন ও স্বপ্ন।

আশিকের বাবা আরিফুল বলেন, গরীব মানুষ। খাওয়ার টাকায় নাই। চিকিৎসা হবি কিভাবেন। ছেলে সব সময় মন খারাপ করে ঘরের ভিতরে থাকে। আপনারা এটু সাহায্য করলে ছোয়ালডা বাঁচাতে পারতেন।

সমাজের বিত্তবান ও স্বহৃদয়বান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগীতা চেয়েছেন আশিক ও তার পরিবার। আশিককে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা— ইসলামি ব্যাংক, হিসাবের নাম: আশিকুর রহমান, হিসাব নম্বর: ২০৫০৭৭৭৬৭০৬৪৩৬৯১০, পান্টি শাখা। সাহায্য পাঠানো যাবে মুঠোফোন নাম্বারেও – ০১৯৭০০২৯৮২৪ (নগদ,বিকাশ) ০১৯৭০০২৯৮২৪৯ (রকেট)।

আরও পড়ুন – খোকসায় শিশু ও বৃদ্ধাকে পৃথক যৌন হয়রানির অভিযোগ

লিখিত আবেদন করলে সাধ্যসত সহযোগীতার আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। সরকার ও প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি।

খোকসায় শিশু ও বৃদ্ধাকে পৃথক যৌন হয়রানির অভিযোগ

0

শিশুর ঘটনা পঞ্চাশ হাজার টাকায় রাফা

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার খোকসার গ্রামে এক শিশু ও বৃদ্ধার পৃথক শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনায় গ্রাম্য বিচারের আর্থিক জরিমানা এবং লম্পটদের শারীরিক শাস্তি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃদ্ধার শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের ও লম্পটকে আটক করা হয়েছে।

স্থনীয়দের সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে জিকে খালের পশ্চিম পাড়ের এক কৃষি শ্রমিকের ৭/৮ বছরের মেয়েকে ফাঁকা বাড়িতে পেয়ে এলাকার হাফিজ (৪৭) যৌন হয়রানি (পশুবিত্তি চরিতার্থ) করে। এ সময় শিশুটির চাচা ওই লম্পটকে আটক করে। গ্রামবাসী এসে লম্পট হাফিজকে গাছের সাথে বেঁধে মারপিট করে।

এক পর্যায়ে ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় একজন মেম্বরের নেতৃত্বে সকালেই গ্রামেই লম্পট হাফিজের বিচার বসানো হয়। ১৫ মিনিটের শোনানির পর শিশুর যৌন নিপীড়নের দায়ে হাফিজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে হাফিজকে তার পরিবারের লোকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে রায়পুরে যৌন নিপীড়নের শিকার শিশুর বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। গ্রামে মেম্বরের নেতৃত্বে সালিশের পর শিশুটির পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপন করেছেন। তবে শিশুর যৌন নির্যাতনকারী জরিমানা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেন। এ সময় স্থানীয় মেম্বর তোফাজ্জের সাথে দেখা হয়। তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেন।

গত শুক্রবার সন্ধায় উপজেলা শিমুলিয়া ইউনিয়নের সিংঘড়িয়া গ্রামে ৫০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা জামাই বাড়ি থেকে ইফতার শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় জহুরুল শেখ ওই বৃদ্ধার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করে। বৃদ্ধার চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে আসেন। পর দিন শনিবার সকালে গ্রামের মসজিদের পাশে সালিশী বৈঠক ডাকা হয়।

সাবেক মেম্বর ও বিএনপি নেতা হজ্জরত আলী হজাই এর নেতৃত্বে বৃদ্ধাকে যৌন নিপীড়নের বিচার বসানো হয়। যৌন নির্যতনের ঘটনায় অভিযুক্ত জহুরুলকে শারীরিক ভাবে শাস্তি প্রদান করা হয়। সাথে এমন অভিযোগ আবার পাওয়া গেলে অভিযুক্ত জহুরুল ৫ লাখ টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য থাকবে বলে মুচলেকা নেওয়া হয়।

এ দিন শনিবার দুপুরের সালিশে নির্যাতনে আহত জহুরুককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। যৌন নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধার দায়ের করা মামলায় শনিবার বিকালে থানা পুলিশ জহুরুলকে আটক করেছে।

ওসমানপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন সাথে কথা বলা হয়। এ সময় তিনি সালিশ করে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বলেন, ছোট একটি পারিবারিক সমস্যা হয়েছিল। বিষয়টি নিস্পত্তি হয়ে গেছে।

কথিত যৌন নিপীড়ণ দায়ে অভিযুক্ত হাফিজের সাথে দেখা করার জন্য তার বাড়ি ওসমানপুর ব্যাপারী পাড়ায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

সিংয়ঘড়িয়া গ্রামের বৃদ্ধাকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত জহুলের বাবা আমদ আলী শেখ অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে গ্রামে সালিশে ৫ লাখ টাকার মুচলেকা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক মেম্বর হজ্জরত আলী ও আবু ছালহে নামে দুইজনসহ একাধিক ব্যক্তি শালিসে বৈঠকে তার ছেলেকে বেধর পিটিয়েছেন। পরে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে পুলিশ তার ছেলে আটক করে কোটে পাঠিয়েছে। তিনি সালিশের নামে নির্যাতন ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

যৌন নিপীড়নের শিকার বৃদ্ধা বলেন, জহুরুল যে অপরাধ করেছে গ্রাম্য সালিশে তার বিচার হয়েছে। তিনি আর মামলা করতে চান নি। পুলিশ মামলা দিয়েছে।

সিংঘড়িয়া বৃদ্ধার যৌন নিপীড়নের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশের নেতৃত্বদেওয়া সাবেক মেম্বর হজ্জরত আলী বলেন, তারা সালিশ করেছে। অপরাধীর সাজাও দেওয়া হয়েছে। তার পর পুলিশ কি ভাবে মামলা নিয়েছে তা তিনি বুঝতে পাছেন না।

আরও পড়ুন – আরশি নগর কতদূর

এ ব্যাপারে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাঈনুল ইমলাম বলেন, সিংঘড়িয়া বৃদ্ধার যৌন নিপীড়নের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে । ইতোমধ্যেই বৃদ্ধার যৌন নিপীড়ক জহুলকে আটক করা হয়েছে। তবে ওসমানপুরে শিশুর যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি তার জানা নেই।

আরশি নগর কতদূর

0

“লালন তোমার আরশি নগর কতদূর আর কতদূর”। আমরা জানিনা লালনের আরশি নগরের ঠিকানা। প্রতিবছরের তম এবারও বসন্তের দোল উৎসবে ছেঁউরিয়ার আখড়া বাড়িতে আরশি নগরের স্বপ্নচারীরা সামীল হয়েছিলেন। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার লালন ধাম থেকে অতিথি ও ভক্তদের ছবিগুলো তোলা।

আরও পড়ুন – বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

আরও পড়ুন –খোকসায় ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া

খোকসায় ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া

0

স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়া খোকসার এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকালে ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলামের চরপাড়ার নিজ বাড়িতে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহম্মেদ রুমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ আমজাদ আলী।

আরও পড়ুন – বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

অনুষ্ঠানে রমজানের ফজিলত ও দেশের শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

0

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে আট বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির দোকান ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

শনিবার (১৫ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত দোকানির নাম সাগজত (৫০)। তিনি একই এলাকা থেকে একটি মুদি দোকান চালান। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুরের দিকে তার ৮ বছরের কন্যা শিশু সাগজতের দোকানে যায়। সসময় তার মেয়ের সাথে তার ৮ মাস বয়সী আরেকটা মেয়ে শিশুও ছিল। তাকে কোলে নিয়ে দোকানের সামনে গেলে সাগজত তাকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে দোকানের মধ্যে ডেকে নেয়। এরপর ভুক্তভোগী শিশুর কোলে থাকা শিশুকে খাঠের উপর বসিয়ে রাখতে বলেন। তারপর ভুক্তভোগী শিশুটির প্যান্ট খুলে মেয়ের স্পর্শকাতর অঙ্গে একাধিকবার স্পর্শ করতে থাকে। মেয়ে বাড়িতে এসে বিষয়টি জানালে আমি শাশুড়িসহ পাড়া প্রতিবেশী বেশ কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে সাগজতের দোকানে যায়। তার কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। সেসময় সকলে মিলে তাকে গালিগালাজ দিয়ে স্থানীয় ক্যাম্প আইসিকে ঘটনাটি অবহিত করি। সেসময় ক্যাম্প আইসি আমাদেরকে থানায় ও হাসপাতালে যেতে বলেন। এই সব জায়গায় গেলে অনেক টাকা খরচ হবে ভেবে আর যায়নি।

এলাকাবাসী জানায়, সাগজতের বিরুদ্ধে এর আগেও এধরনের অভিযোগ রয়েছে। এর আগের বার ভুক্তভোগী মেয়েটির বয়স ১৪ বছরের হওয়ায় তার দরিদ্র পরিবার লোক লজ্জার ভয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বাধ্য হয়।

এবার ঘটনাটি জানাজানি হলেও এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী স্থানীয় নেতাদের চাপে এ ঘটনাটিও ধামাচাপা পড়তে বসেছে। নেতাদের সাথে পুলিশের সখ্যতা রয়েছে। ঘটনার পর এই শিশুর বাবা অভিযুক্ত সাগজতের কাছে গেলে সাগজত ভুল স্বীকার করে মাপ চান। সেসময় মাপ চাইলেও তাকে কয়েকটা ঘুষি মারে শিশুটির বাবা। এরপর থেকে সাগজোত পলাতক রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকেই একটি পক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তাদের অধিকাংশই একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পদ প্রত্যাশী।

শিশুটির বাবা বলেন, ঘটনার দিন আমি ঢাকায় ছিলাম। বাড়ি আসলে আমার স্ত্রী ঘটনাটি আমাকে জানায়। রাত অনেক হওয়ায় পরদিন সকালে আমি সাগজতের দোকানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি ভুল স্বীকার করে মাপ চাওয়ার পর রাগান্বিত হয়ে তাকে তিনটা ঘুষি মারি। তখন আশপাশের লোকজন এসে ঠেকিয়ে দেয়। পরে একজন এসে মোটরসাইকেলে করে তাকে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বলে, সন্ধ্যার সময় সাথে করে নিয়ে এসে বিচার করবোনে। কিন্তু আমার কোন বিচার করে নাই। আমি গরীব বলে সবাই পাশ কেটে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন – খোকসায় সাবেক মেম্বর ও আওয়ামী লীগ দুই নেতা আটক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, স্থানীয় কিছু শিক্ষার্থী সাগজোত নামের ওই ব্যক্তির টং দোকানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখনো থানায় কোন অভিযোগ দেইনি। পরিবারটির সাথে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সংবাদ

গভর্নমেন্ট আমাদের, আগের ডিসি গাদ্দারী করেছেন আমরা তাকে বদলি করে দিয়েছি – পরাজিত এমপি...

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ওপর দোষ চাপালেন কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির পরাজিত এমপি প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। সে সঙ্গে শাস্তিস্বরূপ তাকে...

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বললেন – আমির হামজা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও...

দিন-রাত উড়ছে জাতীয় পতাকা

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। তবে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের ৯৩ নম্বর...

কুষ্টিয়ায় ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানী পণ্য জব্দ, আটক দুই

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি কুষ্টিয়া সীমান্তে পৃথক তিনটি স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদক ও চোরচালানী পণ্যসহ দুই চোরকারবারীকে আটক করেছে বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ)...

নিহতদের পরিবার পেলো ত্রানের আর্থিক সহায়তা

স্টাফ রিপোর্টার দৌলতদিয়া ঘটে পদ্মার পানিতে ডুবে যাওয়া বাসের নিহত তিন যাত্রীর পরিবারের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রসাশন। পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে ডুবে...