স্টাফ রিপোর্টার
১৫ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউল সরকার নির্দ্ধারিত দামের থেকে বস্তায় ১০ টাকা অতিরিক্তসহ সেমাই , প্লোয়ার চাউল ও মশাতারানোর কয়েলের ২শ টাকার প্যাকেজ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ডিলারের বিরুদ্ধে। অন্য প্যাকেজ পন্য বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করেন ট্যাগ অফিসার। তবে বস্তা বাবদ টাকা নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ডিলার আকরাম হোসেনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিলজানি বাজারের বিক্রয় কেন্দ্রে অতিরিক্ত টাকাসহ প্যাকেজের পন্য কিনতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকার নির্দ্ধারিত ৩০ কেজি চাউলের বস্তায় ৪৫০ টাকার স্থলে ৪৬০ টাকা নেওয়া হয়। একই সাথে স্থানীয় বিএনপির নেতা আবু ওই ডিলার সাথে যোগসাযোসে কার্ডধারী চাউল ক্রেতাদের ১ কেজি প্লোয়ার চাউল, এক কেজি সেমাই ও এক প্যাকেট মশা তাড়ানোর কয়েলের ২শ টাকা প্যাকেজ নিতে বাধ্য করা শুরু করে। সুবিধা ভোগী কার্ড ধারীরা প্রতিবাদ করলে বেলা সাড়ে ১১ টার পর ২শ টাকার পন্যের প্যাকেজ বিক্রি বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে চাউলের বস্তা বাবদা ১০ টাকা হারে নেওয়া বন্ধ করা হয়।
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রায় ৪২২৫ সুবিধাভোগী কার্ড রয়েছেন। নিয়োগ কৃত ৯জন ডিলারের মাধ্যমে তারা ১৫ টাকা কেজির চাউল পাবেন। ৩০ কেজির প্রতিবস্তা চাউলের বস্তা ৪৫০ টাকায় বিক্রি বাধ্যতামূলক। গত আগস্ট ’২৫ মাস থেকে কর্মসূচি চালু হয়েছে।
সরেজমিন বিলজানি বাজারের গিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাউলের বস্তা বাবাদ অতিরিক্ত ১০ টাকা নেওয়া ও সেমাই প্লোয়ার চাউল এবং মশার কলের ২০০ টাকার প্যাকেজ নিতে বাধ্য করা গল্প তখনও চায়ের দোকানে দোকানে আলোচনা হতে শোনা গেছে। ডিলারে সামনে একজন নারী স্বীকার করে চাউলের দাম ৪৬০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে ডিলালের লাল চোখ দেখে থমকে যায় কলসুম নামের মধ্যবয়সী ওই নারী।
পঞ্চাশউদ্ধ এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাড়ি থেকে ৪৫০ টাকা চাউলের দাম আর ভ্যান ভাড়া পঞ্চাশ টাকা নিয়ে ডিলারের দোকানের চাল নিতে এসেছিলেন কিন্তু “বেটারা (হাতের পলিথিনের ব্যাগ দেখিয়ে) সোই (সেমাই) আর চিহুন (চিকুন চাউল) চাল আর কয়েল দিয়ে ২০০ টাকার জিনিস নিতে বাধ্য করলো”। উপায় অন্তঃ না দেখে ভ্যান চালকের কাছ থেকে ধার করেছেন ১৬০ টাকা।
ওই বৃদ্ধার মতই অনেকেই অভিযোগ করেন। তবে ক্যামেরা বাদে কথা বলেন তারা।
ডিলার আকরাম হোসেন বলেন, সরকারী গোডাউন থেকে বিক্রয় কেন্দ্র পর্যন্ত ক্যারিং খরচ বেশি পরে। তাই বস্তার দাম বাবদ ১০ টাকা নিয়ে ছিলেন। কিছুক্স পরে প্রতিবাদ ওঠায় আর নেওয়া হয়নি। ২০০ টাকার প্যাকেজও দেওয়া প্রস্তাব দিয়ে ছিলেন আবু মেম্বর। কিন্তু সেটিও বাধ্যবাদকতা ছিলো না। পরে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শিমুলিয়া ইউািনয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আবু মেম্বর বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড ধারীদের ২২০ টাকার চাল সেমাই ও কয়েল দিয়ে ১৫০ টাকানেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্যাকেজ পন্য আর দেওয়া হয়নি। এখানে জোর জুলুম করা হয়নি। যার খুশি সে নিয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ হাফিজুর রহমান এ সম্পর্কে কোন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি সোজা দেখিয়ে দেন একজন এআসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তা হাবিুর রহমানকে। তিনি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির অফিশিয়াল তথ্যদিয়ে সহায়তা করেন।
এই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে নির্দ্ধারিত ট্যাগ অফিসার রয়েছেন। সরকার নির্দ্ধারিত মূল্যের বেশী নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
ক্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষিকর্মকর্তা কামরুল ইমলাম শিমুলিয়া ইউনিয়নের ডিলার আকরাম হোসেনের চাউল বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে কেন্দ্রে পাওয়া যানি। তবে ফোনে কথা বলা হরে তিনি ওই ডিলারের সাথের একজন ব্যবসায়ীর ২০০ টাকার প্যাকেজ পন্য বিক্রির কথা স্বীকার করেন। তবে চাউলের বস্তা বাবদ ১০ টাকা নেওয়া বিষয়ে অস্বীক করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ্ত রায় দিপন বলেন, এ ঘটনাটি তার জানা নেই। আগামী (বুধবার) সকালে ডিলারকে ডাকা হবে।






