প্রেমিকার আত্মহননের চেষ্টার জেরে প্রেমিকের দোকানে ভাঙচুর

0
24

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পরকিয়া গ্রেমের জেরে কিশোরী প্রেমিকা (১৪) গলাঁয় ফাঁস নিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রেমিকের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সাইকেল গ্যারেজে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকার স্বজনদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সোন্দাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মো. অনিকের (২২) দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ওই এলাকার কৃষক মাসুদুর রহমানের ছেলে।

এরআগে, গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে নিজঘরে বাঁশের আড়ার সঙ্গে গলায় ওরনা পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে কিশোরী প্রেমিকা। বর্তমানে সে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক বছর ধরে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বাঁশআড়া গ্রামের এক ব্যবসায়ীর মেয়ের (১৪) সঙ্গে সোন্দাহ গ্রামের মাসুদুর রহমানের ছেলে অনিকের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছে। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রায় চার মাস আগে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হয়। সালিশে তাঁদের প্রেম ভেঙে দেন মাতব্বররা। সালিশের সপ্তাহখানেক পরে অনিককে অন্যত্রে বিয়ে দেন পরিবারের সদস্যরা।

এরপর প্রায় ১৪ দিন আগে ওই কিশোরীকে অন্যত্রে বিয়ে দেন তার স্বজনরা। তবুও তাঁদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ চলমান ছিল। এনিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে মনমালিন্য চলছিল। এক পর্যায়ে গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবার বাড়ির নিজঘরে গলাঁয় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে কাশোরী। তখন টের পেয়ে স্বজনরা ওই তাকে উদ্ধার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাকে আইসিইউতে রেখেছেন। সেই ক্ষোভে তার বাবা, চাচাসহ ৮ থেকে ১০জন অনিকের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।

অনিকের বাবা মাসুদুর রহমান বলেন, ছেলের সঙ্গে একবছরের প্রেম ছিল। এ নিয়ে চারমাস আগে সালিশ বসানো হয়েছিল। সালিশের সপ্তাহখানেক পর ছেলেকে অন্যত্রে বিয়ে দিয়েছি। বিয়ের পরও বিভিন্ন নাম্বার থেকে ছেলেকে কল দেয় ওই মেয়ে। কিন্তু ছেলে কোনো কথা বলেনি। হঠাৎ জানতে পারি বুধবার ওই মেয়ে গলাঁয় ফাঁস নিছে। আর সকালে মেয়ের বাবা, চাচাসহ ৮ থেকে ১০ জন ছেলের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। পুলিশ এসেছিল। থানায় মামলা করব।

এ বিষয়ে জানতে প্রেমিক অনিককে পাওয়া যায়নি। তার ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কিশোরীর মা বলেন, ১৪ দিন মতো হল মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। তবুও ওই ছেলে মেয়েকে বিভিন্ন নাম্বার দিয়ে কল করে। শ্বশুর বাড়ির সামনে গিয়ে ঘুরাঘুরি করে। তবে বাড়িতে কোনো ঝগড়াঝাঁটি ছিলোনা। হঠাৎ বুধবার সকালে খাওয়ার পরে গলাঁয় ফাঁস নিয়েছে মেয়ে। বর্তমানে আইসিইউতে আছে। আমি এর বিচার চাই। তবে আমরা কারো দোকান ভাঙনি।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল চিকিৎসক হোসেন ইমাম ফোনে বলেন, ওই কিশোরী বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে বর্তমানে আশঙ্খামুক্ত।

কুমারখালী থানার ওসি খন্দকার জিয়াউর রহমান বলেন, প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক মেয়ে গলাঁয় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেছে। সেই ক্ষোভে স্বজনরা আজ প্রেমিকের দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।