বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা প্রাথমিক শিক্ষকদের

0
22
সংগৃহীত ছবি

দ্রোহ অনলাইন ডেস্ক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আগামীকাল মঙ্গলবারের বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘোষণা দেয় ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’।

পরিষদের অন্যতম দুই আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ ও মু. মাহবুবর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তারা জানান, দাবি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় আগামীকালও পরীক্ষা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারাদেশে সব বিদ্যালয়ে আজ স্বতস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। দাবি পূরণ না করা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিন দফা দাবি আদায়ে গত ২৭ নভেম্বর থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক বা তৃতীয় প্রান্তিক পরীক্ষাও বর্জনের ডাক দিয়েছেন তারা।

প্রাথমিক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের এ ডাকে সারাদেশে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা না হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কোথাও কোথাও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

গত ৮ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি করেন শিক্ষকরা। এ কর্মসূচি চলাকালে শহীদ মিনারে পুলিশের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেন। তবে সেই প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না থাকায় ফের কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি হলো- দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। তবে সরকার দশম গ্রেড দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে আপাতত ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। শিক্ষকরাও আপাতত সেই প্রতিশ্রæতির (১১তম গ্রেড দেওয়ার) বাস্তবায়ন দাবি করেন।